মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

সব বন্ধুই কি ‘রহো সাথে’? সাতরকম বন্ধু হয়।  চিনে নিন…

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বন্ধুত্বের হয় না পদবী, বন্ধু তুমি কেঁদো না, বন্ধু তোমার আমি তাই, অন্য দাবি রেখো না। ’…. অঞ্জন দত্তের এই গান শুনে অনেকেরই স্কুল থেকে কলেজ কেটে গেছে।  কিন্তু ‘বন্ধু’ আসলে কে বা কারা সেটা আমরা সঠিক সময়ে জানতে পারি কি? বুঝতে পারি কি, আসলে বন্ধু মানে কী! কেউ কেউ তো এমনও থাকে, যে জীবনে এলে প্রথম ক’দিন আলোয় আলোয় ফুলে ফুলে কেটে যায়, কিন্তু তারপরেই মনে হয়, বোধহয় এ আমার বন্ধুই নয়।  এ নিয়েই কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট রাখী বিক্রম বলছেন আপনি সারা জীবনে ৭ রকমের বন্ধু পাবেন।  কারা তারা দেখুন তো, আপনার আশেপাশেও এমন বন্ধুরাও আছেন কি না….

সুসময়ের বন্ধু
যখনই আপনি পার্টি করছেন বা হুল্লোড়ে মেতে আছেন, দেখবেন এই বন্ধুটির উপস্থিতির কোনও অভাবই হচ্ছে না।  অফিসের ক্লান্তি , বাড়ির ঝামেলায় জেরবার হলে, আপনার মনে হবেই এই বন্ধুটা কোথায় আছেন।  আসলে এরা অনেকটা স্ট্রেসবাস্টারের কাজ করেন।  তবে যখন আপনার কখনও বসে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ঠাণ্ডা মাথায় কিছু ভাবতে হবে, তখন কিন্তু এই বন্ধুটির কাজ এক্কেবারেই নেই।  তাই আপনার সময় মতো এই বন্ধুর কাছে ঘেঁসুন।

নেতা বন্ধু
না, কোনও রঙের দলের নেতার কথা বলা হচ্ছে না।  আসলে কারও কারও মধ্যে জন্মগতভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে।  তাই তাঁরা কোনওভাবেই সেই অভ্যাস থেকে বেরোতে পারেন না।  বন্ধুরা দলবেঁধে কোথাও গেলে বা বাড়িতে জড়ো হলেও ওই বন্ধুটিই কিন্তু সব দায়িত্ব নিয়ে লিড করার চেষ্টা করবেন।  সে খাবার আনা হোক বা কোথাও খেতে যাওয়া হোক বা প্যাণ্ডেল হপিং।  তাই এঁদের সাথে থাকলে আপনার দায়িত্ব অনেকটাই কমে যায়।  তবে এঁরা কিন্তু অন্য কারও প্ল্যান অনুযায়ী চলতে পারেন না।  চলতে বাধ্য হলে তাঁদের মুখ ফুলে থাকে।  সেটা নজর রেখে চলবেন এঁদের সাথে। 

বোদ্ধা মাসিমা বা জেঠু
যখনই আপনার গ্রুপে সমস্যা হয় কোনও, দেখবেন কেউ না কেউ আপনার কথা খুব মন দিয়ে শুনছেন, আপনার প্রতি অযথা জাজমেন্টাল হচ্ছে না, বরং খুব বিচক্ষণ হয়ে কথা বলছেন।  এমন বন্ধুরা সাধারণত খুব চুপচাপ থাকেন, সবদিকে নজর রেখে সিদ্ধান্ত নেন।  তাই গ্রুপে এরা মাসিমা বা জেঠু বলেই পরিচিত হয়ে থাকেন।  এঁরা কিন্তু যে কোনও সময়ে ভরসার কাঁধ হতেই পারেন। 

নেগেটিভ এনার্জি
যখনই কিছু নেওয়ার থাকে, সেটা টাকা পয়সা হোক বা আপনার সময়–এই বন্ধু উপস্থিত, কিন্তু দিতে পারেন না কিছুই।  তাই সারাজীবন এরা আশা করে যায় যে সহজেই সবকিছু আপনিই দিয়ে যাবেন।  সেটা যখনই বন্ধ হয়ে যায়, তখনই সে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়।  আর সময় পেলেই বাকিদের সাথে গুজগুজ ফুসফুস করতে ব্যস্ত থাকে।  তাই এদের সাথে আদৌ বন্ধু শব্দটা যেতে পারে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।  চেষ্টা করুন যথাসম্ভব এঁদের এড়িয়ে চলতে।

প্রতিযোগিতাই যার কাছে শেষ কথা
এই বন্ধুর কাছে আবার প্রতিযোগিতাই শেষ কথা, সেটা আপনার রেজ়াল্টের পাশের নম্বর হোক বা আপনার বাচ্চার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা।  তাই চেষ্টা করুন, এই ধরনের মানুষকে এড়িয়ে চলতে।  কারণ সবসময় হিসেব করতে থাকেন এই বন্ধুটি।

সবজান্তা
এমন লোক তো প্রায় সব জায়গাতেই থাকেন।  বন্ধুর ক্ষেত্রেও এমন মনোভাব থাকলে তো খুবই মুশকিল।  এঁদের জন্য মাঝে মাঝে আপনার মনে হবে আপনি বোধহয় কিছুই জানেন না।  আবার কখনও এঁদের জন্যই আপনার নেট দুনিয়া থেকে শুরু করে প্লাম্বার যে কোনও সমস্যাই সহজে মিটেও যায়।  তাই নিজের সুবিধা মতো আপনাকে এঁদের কাছে বা দূরে রাখতে হবে।

বিএফএফ

সকলের চেয়ে আলাদা এই বন্ধুটি।  আপনার যে কোনও সিক্রেট হয় তো শেষ দিন অবধি কাউকেই বলবেন না।  আর চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে যাবেন আপনি ভালো আছেন না মন্দ।  তাই এই বন্ধুকে যত্নে রাখুন সবসময়।  বেস্ট ফ্রেণ্ড ফরএভার!

Comments are closed.