বুধবার, মার্চ ২০

পোশাকি যুক্তি

তাও ভাল নির্মলা সীতারামন মেনে নিলেন যে চার পাশে অহরহ ঘটে চলা ধর্ষণ আর যৌন অত্যাচারের জন্য মেয়েদের পোশাক আশাককে দায়ী করা যায় না। তাঁর এই মনে হওয়ার সপক্ষে তিনি যুক্তি দিয়েছেন.তা হলে বৃদ্ধা বা দুগ্ধপোষ্য শিশুরাও পাশবিকতার শিকার হচ্ছে কেন! এক জন সম্ভ্রান্ত মহিলা মন্ত্রীর কাছ থেকে এই মন্তব্য আশা করাটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তবু তাঁকে বাহবা দিতে হচ্ছে সহজ সত্যটা খোলাখুলি বলার জন্য। কেন?
ইদানীং দলমত নির্বিশেষে মন্ত্রীসান্ত্রীদের মধ্যে একটা ট্রেন্ড হয়েছে, মেয়েদের উপরে যৌন অত্যাচারের ঘটনা ঘটলেই সেটাকে নিয়মমাফিক নিন্দে করার পাশাপাশি মেয়েদেরও এক হাত নেওয়া। কেউ হয়তো বললেন, এত ছোট পোশাক পরে বেরিয়েছিল কেন? কেউ বলবে, নিশ্চয়ই আচার আচরণে এমন কিছু ছিল যা বিপদ ডেকে এনেছে। অনেকে আবার আরো এক কাঠি সরেশ। মেয়ে হয়ে একা বেশি রাত্রে বেরোনো একান্তই দরকার ছিল? কী দরকার অযথা বিপদ ডেকে আনার!
 সব চেয়ে পরিতাপের বিষয়, নেত্রীরাও অনেক সময় এই ধরণের বাঁকা কথা বলে ফেলেন। তাঁরা কি ভুলে যান যে, এই মন্তব্য আসলে বিকৃতির এই ভয়ঙ্কর বাড়বাড়ন্তকে কোথাও একটা বৈধতা দিয়ে দেয়। না কি অনেক সময়ই দলের কেষ্টবিষ্টুদের আত্মীয়পরিজন, চ্যালা চামুন্ডারা এই ধরণের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে বলেই তাঁদের একটা পাল্টা যুক্তি খাড়া করে বিষয়টাকে লঘু করার রাস্তা করে রাখতে হয়?
হয়তো এই মনোভাবের পেছনে আছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের গভীর অসুখ। যেখানে মেয়েদের মনোবলকে ভেঙেচুরে দিয়ে সমাজ তার অনুশাসনকে প্রতিষ্ঠিত করে।
মেয়েরাও ভাবুন কী ভাবে এই মনোভাবের বিরুদ্ধে সমস্বরে সরব হবেন।
প্রতিবাদ দীর্ঘজীবী হোক।
Shares

Leave A Reply