চিনের ‘রেনবো মাউন্টেন’, প্রকৃতির কাছে যেখানে হার মানেন শিল্পীরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রকৃতিদেবী তাঁর আপন মনের মাধুরী দিয়ে আমাদের এই রূপসী পৃথিবীকে সাজিয়ে তুলেছেন। শুধু চিত্রশিল্পীরা নয় সাধারণ মানুষও অপার সৌন্দর্যের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা রহস্য খুঁজে বের করে মোহিত হয়ে যায়।

    সে রকমই বিস্ময়কর সৌন্দর্য নিয়ে উত্তর চিনের গানসু প্রদেশের লিনজে জেলায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান করছেন রেনবো মাউন্টেন বা রামধনু পর্বত। ইন্টারনেটে প্রথম যখন এই পর্বতের ছবি বিশ্বের মানুষ দেখেন, অধিকাংশ মানুষ মনে করেছিলেন ফটোশপের কারসাজি। কারণ পাহাড় এত রঙচঙে হয় নাকি! কিন্তু চিনের পর্যটন দপ্তর যখন এই পাহাড়ের কথা তাদের প্রচার মাধ্যমে আনল, তখন বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করেছিল, রামধনুরঙা পর্বত তাহলে সত্যিই আছে।

    পড়ন্ত রোদে মোহময় রেনবো মাউন্টেন

    বিশ্বের বিস্ময় এই রেনবো মাউন্টেনের অপর নাম ঝাংগিয়ে ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্ম। এটি একটি জিওগ্রাফিক্যাল পার্কের অংশ। আগে পার্কটির নাম ছিল ঝাংগিয়ে ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্ম জিওগ্রাফিক্যাল পার্ক। বর্তমানে এর নাম গানসু ঝাংগিয়ে ন্যাশনাল পার্ক। এই পার্কে প্রবেশ করলেই পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে যায় বেগুনি-নীল-আকাশি-সবুজ-হলুদ-কমলা-লাল রঙের বাহার দেখে। না, পার্কে রঙবেরঙের ফুল ফোটেনি। ন্যাড়া পাহাড়ের গায়ে প্রকৃতিদেবী নিপুণ হাতে তাঁর সাতরঙা তুলি বুলিয়েছেন।

    প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ বছর ধরে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই রেনবো মাউন্টেন তৈরি হয়েছিল। সংঘর্ষের ফলে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছিল শিলাস্তর। প্রচুর পরিমাণে রঙিন সিলিকা, লোহা ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ছিল সেই শিলাস্তরে।

    লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ঝড়,বৃষ্টি, তুষারপাত, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যের তাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নানা রাসায়নিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে গড়ে উঠেছে  এক রঙিন ও প্রাকৃতিক আর্ট গ্যালারি। যা আজকে ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্ম নামে পরিচিত। ২০১০ সালে ইউনেস্কো  প্রকৃতির এই আশ্চর্য সৃষ্টিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।

    তবে ভূ-বিজ্ঞানীদের দাবি, এই রেনবো মাউন্টেনের প্রাথমিক রঙ ছিল টকটকে লাল। রঙিন সিলিকা আর ভূগর্ভস্থ লোহা আর তামার বিক্রিয়ার ফলেই এসেছিল এই লাল রঙ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মধ্যে বিক্রিয়া ও পরিবেশের প্রভাবে সেই লাল রঙের ওপরে পড়েছে বিভিন্ন রঙের প্রলেপ।

    আজ এই রেনবো মাউন্টেন উত্তর-পশ্চিম চিনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। শুধু রঙের বৈচিত্র নয়,পর্যটকদের আকৃষ্ট করে বিভিন্ন আকৃতির পাথরও। তবে এখান থেকে রঙিন পাথর নিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয়। এখানকার আরেকটি দর্শনীয় বস্তু হল বিশালাকৃতি প্রাকৃতিক পিলারগুলি।

    পর্যটকদের জন্য বানানো হয়েছে ফুট-ব্রিজ

    আরেকটি জিনিস পর্যটকদের মনে বিষ্ময় জাগায়। এই ৪০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ঘাস ছাড়া অন্য কোনও উদ্ভিদ বা প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। এর একটা কারণ হতে পারে এখানকার অত্যন্ত রুক্ষ ও শুষ্ক আবহাওয়া।

    ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্মের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে  নীল আকাশের নীচে রামধনু রঙের পাহাড়ি ঢেউ ছাড়া আর কিছুই দেখা এক বিরল বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। আজকাল প্রচুর বাঙালি চিন বেড়াতে যান। যাঁরা ভাবছেন রেনবো মাউন্টেন যাবেন তাঁরা বেজিং থেকে গানসু প্রদেশের রাজধানী ল্যানঝাউ ট্রেনে বা বিমানে পৌঁছে, সেখান থেকে গাড়িতে রেনবো মাউন্টেন যেতে পারেন।

    ড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

    সুন্দরবনের  দুটি দ্বীপ, ভূমি হারানো মানুষ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More