বুধবার, মার্চ ২০

সত্য ও স্বস্তি

স্মৃতি সততই সুখের কি না তা নিয়ে তবু তর্ক-বিতর্ক চলতে পারে, কিন্তু সত্য সতত সুখের নয়। এবং এ নিয়ে কোন মতান্তরের অবকাশই নেই।
বরং বলা যেতেই পারে, সত্য কদাপি সুখের নয়।

আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের জন্য কোনও দিনই নিরাপদ নয় কাশ্মীর

সমাজের বেশির ভাগ মানুষ জানেন এই সত্যটা। যে সত্য বিপজ্জনক। সুতরাং ভাই চুপ করে থাকাই শ্রেয়। সে কর্পোরেট জগৎ হোক, সামাজিক ক্ষেত্র হোক, বা রাজনৈতিক পরিমণ্ডল। সত্যাগ্রহ-তাড়িত হয়ে মুখ খুলেছো, কি মরেছ। সবাই তো আর গান্ধী নন, যে শিরদাঁড়ার জোর দেখিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন! চাকরি বাঁচাতে হবে, বেতন সুরক্ষিত করতে হবে, মানসম্মান টিকিয়ে রাখতে হবে, সর্বোপরি প্রাণ বাঁচাতে হবে। তাই মুখ খোলা, সত্য সত্য করে হেদিয়ে মরা নৈব নৈব চ।


কেউ বলতেই পারেন, কী দরকার ছিল সুজাত বুখারির এত সত্যনিষ্ঠা ও সাহসের? জঙ্গিদের চটাচ্ছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে অসন্তুষ্ট করছেন, সবাইকে খ্যাপাচ্ছেন! কী লাভটা হলো? ইফতারের খেজুর খাওয়ার আগেই এক গাদা গুলি খেতে হলো?

আরও পড়ুন: হার মানব না, বুখারিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখল তাঁর কাগজ

সুজাতের লালিত কাগজ ‘রাইজিং কাশ্মীর’-এর সহকর্মীরা অঙ্গীকার করেছেন, তাঁরা নির্ভীক ভাবে সত্যের লড়াই জারি রাখবেন। কতটা তাঁরা পারবেন, সেটা সময় বলবে, তবে এটা ঠিক যে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, ঢেনকানল থেকে ঢাকা এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা আপস করেন না। প্রতিবাদ করেন। কোদালকে কোদাল বলেন। কিছু পাওয়ার আশায় নয়। এটাই তাঁদের স্বভাব বলে। এটা তাঁদের ধর্ম বলে। এটা তাঁদের দর্শন বলে। কোনও নাম, যশ বা খ্যাতির তোয়াক্কা এঁরা করেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এঁদের কথা আমরা জানতে পারি আততায়ীর গুলি বা ছুরিতে এঁরা রক্তাক্ত বডিতে পর্যবসিত হওয়ার পরে। যেমন কালবুর্গি। যেমন গৌরী লঙ্কেশ।
অথচ এঁদের চাহিদা খুব বেশি ছিল না। রাষ্ট্র কল্যাণকর হয়ে মানবাধিকার নিশ্চিত করুক। সমাজ সহিষ্ণু হোক। রাজনীতি নিজেকে সংশোধন ও শোধন করে নিরন্তর সমাজবিরোধী তৈরি বন্ধ করুক। এটাই তো স্বাভাবিক। এটাই তো হওয়ার কথা।
কিন্তু হয় না যে! সত্যনিষ্ঠদের মৃতদেহ সৎকার হওয়ার আগেই সহানুভূতি ও নিন্দাসূচক টুইট ছেড়ে ভাসিয়ে দেন দণ্ডমুন্ডের কর্তা যে নেতা-নেত্রীরা, তাঁরাও কি মানবেন এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরোক্ষ ভাবে তাঁদেরও নৈতিক দায় আছে?
মানবেন না। কারণ সত্য কদাপি স্বস্তিদায়ক নয়।

Shares

Leave A Reply