সরকারি চাকরি ছেড়ে অরুণাচলের প্রত্যন্তে শিক্ষার আলো জ্বেলেছেন আঙ্কেল মুসা, পদ্মশ্রী সম্মানে কুর্নিশ জানাল দেশ

বেঁচে থাকার জন্য যা যা সমস্যা রয়েছে, সে সবকিছুর সমাধান, প্রাপ্তি, অর্জন আনতে পারে কেবল শিক্ষাই। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য পদ্মশ্রী পেয়েছেন তিনি। ধন্য ধন্য করতে গোটা দেশ। দেশের উত্তর-পূর্বের প্রত্যন্ত প্রান্তে শিক্ষার আলো দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর নাম, সত্যনারায়ণ মুন্ডায়ুর। মুম্বইয়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে অরুণাচলের জঙ্গলে গিয়ে পাঠাগার তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকায় তৈরি হয়েছে তেরোটির বেশি লাইব্রেরি, রয়েছে ১০ হাজারের বেশি বই। আঙ্কেল মুসা বলেই তিনি পরিচিত সকলের কাছে।

    কিন্তু সত্যনারায়ণ থেকে আঙ্কেল মুসা হয়ে ওঠার তাঁর এই যাত্রাপথ কেমন ছিল? কীভাবে ব্যক্তি-জীবনের ঊর্ধ্বে নিজেকে তুলে ধরেছেন আলোকবর্তিকা হিসেবে?

    আদতে কেরালার বাসিন্দা সত্যনারায়ণ যখন মুম্বইয়ের রেভেনিউ অফিসারের চাকরিটি ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেটা ছিল ১৯৭৯ সাল। সরকারে চাকরির পেছনে যখন গোটা প্রজন্ম দৌড়চ্ছে, তিনি হেলায় পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ তাঁকে ডাকছিল গোটা দেশ। তাঁর মনে হয়েছিল, একটা মাত্র মানব জনমে অন্যের জন্য কিছু করতে না পারলে, জীবনা বৃথা। চলে আসেন অরুণাচল প্রদেশে।

    বেশ কয়েক বছর অরুণাচলের আনাচকানাচে ঘোরেন তিনি। দেখেন, কী অপরিসীম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে কত মানুষ। স্বাস্থ্যের অধিকার নেই, শিক্ষার সুযোগ নেই, নেই কোনও রকম নাগরিক পরিষেবা। এসবের জন্য কোনও আক্ষেপও নেই। মানুষজন যেন এই জীবনই মেনে নিয়েছে কোনও রকম প্রশ্ন ছাড়া।

    সত্যনারায়ণ ১৯৯৬ সালে বিবেকানন্দ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে যোগ দেন এডুকেশন অফিসার হিসেবে। ততদিনে তিনি ঠিক করে ফেলেছেন, শিক্ষার আলোই এই অবস্থা থেকে মানুষকে বার করে আনতে পারে। সাময়িক সাহায্য দিয়ে সাময়িক অভাব কাটতে পারে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। বেঁচে থাকার জন্য যা যা সমস্যা রয়েছে, সে সবকিছুর সমাধান, প্রাপ্তি, অর্জন আনতে পারে কেবল শিক্ষাই।

    কয়েক বছর চাকরি করার পরে, সত্যনারায়ণ শুরু করেন লোহিত ইউথ লাইব্রেরি মুভমেন্ট। বইয়ের প্রদর্শনী দিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় ছোটদের জন্য নানারকম বই নিয়ে পৌঁছে যেতেন তিনি।  কারণ পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ না জন্মালে শিক্ষার গুরুত্বও বুঝবে না ছোটরা। ২০০৭ সালে তিনি প্রথম লাইব্রেরিটি তৈরি করেন। নাম দেন, বাম্বুসা লাইব্রেরি।

    সেই থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৩া বাম্বুসা লাইব্রেরি তিনি তৈরি করেছেন ওয়াকরো, আনজ এবং চংখাম এলাকায়। তিনটিই অরুণাচলের অনেকটা ভিতরে, আধুনিক শহুরে সমাজ থেকে দূরে অবস্থিত এলাকা। সেখানে বাচ্চারা যে শুধু পড়াশোনা শুরু করে তাই নয়, স্থানীয় আচার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে আরও গভীর ভাবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে গেঁথে দেওয়ার কাজও এই লাইব্রেরির মাধ্যমেই করতে শুরু করেন সত্যনারায়ণ।

    ভাল কাজ লুকিয়ে থাকে না। সত্যনারায়ণের এই কাজের কথাও ফিরতে থাকে মানুষের মুখে মুখে। শেষমেশ এবছর পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন তিনি। তিনি পুরস্কার পাওয়ার পরে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানদু। তিনি টুইটে লেখেন, “অরুণাচলের রত্নকে অভিনন্দন। তিনি নিজের গোটা জীবনটা উৎসর্গ করেছেন অরুণাচলের শিক্ষার উন্নয়নের কাজে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More