বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বিজয়ায় কেন সিঁদুর খেলা হয়, জানুন কোন প্রার্থনায় নারী রঙিন হয়ে ওঠেন

অনির্বাণ

দুর্গা পুজোর দশমীর দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন মেয়েরা। বাংলায় মেয়েদের এ এক বিশেষ অনুষ্ঠান। দেবীকে সিঁদুর দানের পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়ার রীতি। শুধু সিঁথিতেই নয়, গালে, কপালে, হাতে সর্বত্র সিঁদুর লেপে দেওয়া যেন আর শুধুই ধর্মীয় আচার নয়, সামাজিক পরব।

দুর্গাপুজোর অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছে সিঁদুর খেলা। শুধু বিবাহিতারা নন, কুমারীরাও সিঁদুর খেলেন বাংলয়। হিন্দু বিবাহ রীতিতে সিঁদুরদান একটিলৌকিক আচার মাত্র। তবে প্রাচীন কাল থেকেই বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গলকামনায় সিঁথিতে সিঁদুর পরে আসছেন। দেবী দুর্গাও বিবাহিত নারী। তাই তিনিও সিঁদুর ব্যবহার করেন। দুর্গা পুজোয় যে সব উপচার দেবীকে দান করতে হয়, তার মধ্যে সিঁদুর রয়েছে। দেবীর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বলা হয়– ‘‘সর্বলোকের রঞ্জন পরমসৌন্দর্যযুক্ত সিন্দুর তিলক তোমার কপালকে মণ্ডিত করুক।’’

‘ভবিষ্য পুরাণ’-এ বলা হয়েছে, সিঁদুর স্বয়ং ব্রহ্মের প্রতীক। বিবাহিত নারী সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে পরম ব্রহ্মকে আহ্বান করেন। সবের পিছনেই রয়েছে স্বামীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা।

‘শ্রীমদভাগবত’-এ কাত্যায়নী ব্রত উপলক্ষ্যে গোপিনীদের সিঁদুর খেলার বিবরণও পাওয়া যায়। সেটা অবশ্য প্রিয়তম কৃষ্ণের মঙ্গল কামনায়।

মনে করা হয়, সিঁদুরের দেবতা পরমব্রহ্ম সংসারের সকল দুঃখ বাধা কষ্ট দূর করেন। সুখ উপহার দেন ভক্তদের। তাই তো আজকের যুগেও দশমীর দিনে সিঁদুর খেলার এত আয়োজন। মা দুর্গা পুজো পান দেবী রূপে, বিদায় নেন কন্যা রূপে। কিন্তু বিদায় বেলায় এয়োস্ত্রীরা নতুন বস্ত্রে বরণ করেন দেবীকে। দেবীবরণ শেষে নিজের স্বামীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনায় সিঁদুর খেলা করেন বিবাহিত মেয়েরা।

Comments are closed.