কেন ভূমিভাগের কাছে এসে বাড়ছে সাইক্লোনের শক্তি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    সুপ্রতিম কর্মকার

    কোলের ছেলেটার মায়ের দুধই সম্বল। এই বৃদ্ধা পৃথিবীতে ওর আসা সবেমাত্র একমাস হয়েছে। মায়ের কোলে শুয়ে মোচার খোসার মতো নৌকায় ভাসতে ভাসতে অনেকটা সময় জলের পথ পেরিয়ে সে এসেছিল ‘হাংরি টাইড’-এর দেশে। এই পৃথিবীটা তার একেবারেই অচেনা। নীল আকাশের দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছিল সে। ওর মুষ্টিবদ্ধ হাত সেদিন শুধু আকাশের দিকে উঠেছিল। শখ করে মা ছেলের নাম রেখেছিলেন সাগরদ্বীপ। মুঠো হাতকে সেদিন সবাই খেলার ছল ভেবেছিলেন। আসলে ওই শিশু ভোলানাথ বুঝেছিল ওর জীবনের লড়াই শুরু হল আজ থেকে। এই ঘটনা কোনও মনগড়া গল্প নয়। সত্যি। উমফানের ঠিক দু’দিন আগে ওরা ঘরে ফিরেছিলেন। ওদের ঠিকানা ছিল ঘোড়ামারার চুনপুলি। বারবার আছড়ে পড়ছে বাংলার উপকূল ভাগে সাইক্লোন। আইলা, ফণী, উমফান একের পর এক বড় ঝড় এসেছে। এর জন্য কি কেবলই উষ্ণায়ন দায়ী? না অন্য কোনও কারণ? কেনই বা ভূমিভাগের কাছে এসে বাড়ছে সাইক্লোনের শক্তি? এই উত্তরের খোঁজেই এই লেখার পথচলা।

    এই দ্বীপ প্রতিদিন নিজেকে শেষ হতে দেখছে। ঘোড়ামারা, বাগপাড়া, রায়পাড়া, চুনপুলি আর হাটখোলা এই পাঁচটা অঞ্চল নিয়ে তৈরি ঘোড়ামারা পঞ্চায়েত। বঙ্গোপসাগর রোজ একটু একটু করে ওর শরীরটাকে খাবলে খাবলে খাচ্ছে। ভাঙছে দ্বীপ। ভাঙছে দ্বীপবাসীদের মন। ২০১১ সালে এই দ্বীপটাতে ৬ হাজার মানুষ থাকতেন। আজ মেরেকেটে থাকেন চার হাজার। সাগরের বুকে জেগে ওঠা ওই একটুকরো জমি আজ আছে কাল নেই। এই মানুষগুলোর কালের ঘরে শনি। আজ জুটেছে। আর কাল কী হবে, সেটা ওরা জানেন না। জানে ভবিতব্য। যদি সেই ভবিতব্য বলে কিছু থেকে থাকে, তাহলে ওই একমাসের ছেলেটার জীবনে কেন এমন হল? এই প্রসঙ্গে মনে আসছে শঙ্খ ঘোষের ‘জন্ম’ কবিতার পঙক্তিগুলো। ‘‘…এ-প্রলয় ঝড়ে জন্ম দিয়েছি তোর! কোথায় তাহলে জোটাব রে আজ ঠাঁই… আজ জন্ম মানেই অবৈধ অন্যায়।’’

    এই পৃথিবীটা ওই শিশুটার বাসযোগ্য হয়ে থাকতে পারল না। শিশুটার পৃথিবীটা তো খুব বড় ছিল না। প্রায় ৯০৩৫ একর গঙ্গার পলিমাটি দিয়ে গড়ে ওঠা একফালি জমি। যার চারদিক জল দিয়ে ঘেরা। পূর্ব দিকে বটতলা, পশ্চিম দিকে হুগলি, উত্তরদিকে মুড়িগঙ্গা নদী আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। ব্রিটিশ আমলে এক সাহেব এসেছেন কাকদ্বীপ থেকে নৌকা নিয়ে। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তার ঘোড়া। রাতে তাঁবুর বাইরে থেকে সেই ঘোড়াকে তুলে নিয়ে যায় এক বাঘ। আর তারপর থেকেই এই দ্বীপটার নাম হয় ঘোড়ামারা। গ্রিক মাইথোলজির এক চোখওয়ালা দানব সাইক্লোপস-এর মতো ধেয়ে আসা উমফান সাইক্লোনে সুন্দরবন শেষ হয়ে গিয়েছে।

    থৈ থৈ করছে জল। কিন্তু পানযোগ্য জল একফোঁটাও নেই। মানুষগুলো বাঁচার আর্তনাদও বেশি জোরে করতে পারছেন না। লালারসে ভিজে থাকা জিভ একটু বেশি কথা বললেই শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই ওরা আজ কথাও বলতে চাইছেন না। সুন্দরবনের ঘোড়ামারা উমফানের পর যেন এক শ্মশানভূমি হয়েছে। একই অবস্থা পুরো সুন্দরবন জুড়েই। আসলে ঘোড়ামারা দ্বীপটা সুন্দরবনের ধ্বংস-জীবনের প্রতিনিধিত্ব করছে। কুমিরমারি, রাঙ্গাবেলিয়া, কুলতলি, ঘটিহারানিয়া সব জায়গায় একই ধ্বংসের ছবি। আসলে সুন্দরবনের মানুষের কাছে ধ্বংসের কোনও ছবি হয় না। তাদের কাছে ধ্বংসের একটাই ছবি। বুকভরা কান্না আর চোখভরা নোনতা জল। বাঁচার আর্তনাদ। আসলে এই কথাগুলো বলার একটাই কারণ, এগারো বছর আগে যখন আইলা এসেছিল তখনও এই রকমই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবু তারা গুছিয়ে নিয়েছিলেন। আইলার দগদগে ক্ষতটা এখনও সুন্দরবনের শরীর থেকে ভাল করে সেরে ওঠেনি।

    উমফানের মতো এতটা তীব্র ছিল না ২০০৯ সালের আইলা ঝড়। বিগত ১২৯ বছরে এত শক্তিশালী সাইক্লোন ইতিহাস দেখেনি। বেঞ্জামিন কিংসবিউরির একটা বই প্রকাশিত হয়েছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে, ২০১৮ সালে। বইটির নাম ছিল ‘অ্যান ইম্পেরিয়াল ডিজাস্টার: দ্য বেঙ্গল সাইক্লোন অব ১৮৭৬’। এই বই থেকে জানা যাচ্ছে, অক্টোবরের শেষের দিকে ১৮৭৬ সালে বাংলাতে একটা সাইক্লোন এসেছিল। ৩০ অক্টোবর আকাশে কোনও মেঘ ছিল না। আবহাওয়াবিদ জন ইলিওটের চোখেও আবহাওয়ার কোনও পরিবর্তন ধরা পড়েনি। নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছিল নিম্নচাপ। আর সেই ঝড় আছড়ে পড়েছিল অবিভক্ত বাংলার বুকে। কিন্তু তার তীব্রতা উমফানের মতো এতটা ছিল না। বেসরকারি পরিবেশ সংগঠন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিগত বছরগুলোর সাইক্লোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে সাইক্লোন হবার গড় প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে যেখানে গড় সাইক্লোনের সংখ্যা ছিল ৫৯টি। সেখানে ২০১৮-১৯ সালে মোট সাইক্লোনের সংখ্যা ছিল ৭২টি। যা গড় সাইক্লোনের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে অনেকটা বেশি। আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, ভারত মহাসাগর থেকেই সবচেয়ে বেশি ঝড়ের জন্ম হচ্ছে। ২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের প্রথম অ্যাসেসমেন্ট বা আইপিসিসি রিপোর্ট প্রকাশের সময় ক্লাইমেট চেঞ্জের সঙ্গে সাইক্লোনের প্রকোপ বেড়ে যাবার সম্ভাবনার কোনও যোগাযোগ রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে খুব একটা কনফিডেন্স তাদের ছিল না। আইপিসিসির সেই রিপোর্টে লেখা হচ্ছে, “There is low confidence that long term changes in topical cyclone activity are robust, and there is low confidence in the attribute of global changes to any particular cause.”

    কিন্তু সেই সময় তাদের চোখের সামনে একটা উদাহরণ জ্বলজ্বল করছিল। ১৯৭০ সালের পর থেকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ের ধাক্কা ক্রমশ বেড়েছে। তাই শুরু হল তাদের নানা রকমের নিরীক্ষণ। ২০১৯ সালে প্রকাশিত হল আইপিসিসির স্পেশাল রিপোর্ট। এই রিপোর্টটি ছিল সমুদ্র, ক্রায়োস্ফিয়ার ও ক্লাইমেট নিয়ে। এই রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ করা হল, ক্লাইমেট চেঞ্জের জন্যই বার বার তৈরি হচ্ছে সাইক্লোনের। এই বিষয়ে রিপোর্টে লেখা হচ্ছে, “Anthropogenic climate change has increased observed precipitation, winds, and extreme sea level events associated with some topical cyclones, which has increased intensity of multiple extreme events and associated cascading impacts.” পৃথিবীর শরীরে জ্বর এল। পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ল। আর তার প্রভাব পড়ল পৃথিবীর তিনভাগ জলের দেশে।

    পৃথিবীর জলের দেশে আধিপত্য করে সমুদ্রেরা। সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে আর সমুদ্র স্রোতের উষ্ণতাও ক্রমশ বাড়ছে। তা এই সময়ে ঘোরাফেরা করছে ৩২-৩৪০ সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি। কাজেই উষ্ণজলের স্রোত থেকে ক্রমশ শক্তি সংগ্রহ করছে নিম্নচাপ। নিজের শক্তিকে ক্রমশ বাড়িয়ে তা সাইক্লোন থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আর এইখানেই এক অদ্ভুত বিষয়কে আবহবিদেরা লক্ষ্য করলেন। তারা দেখলেন দানবের মতো ধেয়ে আসা সাইক্লোন তার শক্তিকে যেকোনও সময় প্রচুর বাড়িয়ে ফেলছে। সমুদ্রের ও স্থলভাগের উপর দিয়ে সাইক্লোন এগোচ্ছে খুব ধীর গতিতে। এছাড়াও সাইক্লোন যেদিকে যাবার কথা, সেদিকে না গিয়ে হঠাৎ করেই দিক পাল্টে ফেলছে। এমন কথাই বলছে ইউএস জয়েন্ট টাইফুন সেন্টার। যা আইপিসিসির বক্তব্যকেও সমর্থন করছে।

    এবার বিষয়টাকে আমরা উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। উমফানের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২৭০ কিমি প্রতি ঘণ্টায়। মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে সাইক্লোনটির ইন্টেন্সিফিকেশন বেড়ে ১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা থেকে ২৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা হয়ে গিয়েছিল। ২০১৯ সালের মে মাসে ঘটে যাওয়া ফণী, ওই বছরের জুন মাসে বায়ু, ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিতলি, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তৈরি হওয়া ওখি– এই সব ক’টা ঝড়েই খুব দ্রুত ইন্টেন্সিফিকেশন দেখা গিয়েছে। এর একটাই কারণ ছিল, সমুদ্রজলের উষ্ণতাবৃদ্ধি। আবার মনে করে দেখুন, তিতলি আর ওখি হঠাৎ করেই তার গতিপথ পরিবর্তন করে নিয়েছিল। তাই এই ধরনের সাইক্লোনের পূর্বাভাস দেওয়া সত্যি চ্যালেঞ্জিং কাজ।

    কথা প্রসঙ্গে আমরা যে বার বার ঘুরেফিরে ঝড়ের দ্রুত ইন্টেন্সিফিকেশনের কথা বলছি, এই শব্দটা বোঝায় মূলত যেকোনও ঝড়ের সাইক্লোনে কনভার্ট বা রূপান্তরিত হয়ে যাওয়াকে। সাগর ও ভূমিভাগের উপর দিয়ে খুব ধীর গতিতে সাইক্লোনের যাত্রা, প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটানো, ভূমিভাগের উপর দিয়ে সাইক্লোনের অনেক দূর পর্যন্ত ধেয়ে চলা, উত্তাল ঝড় ও সমুদ্রের জলস্ফীতি আর ঝড়ের আশপাশের অঞ্চলে বাতাসের খুব ধীর গতিতে আবর্তন। আগে ঝড়ের দ্রুত ইন্টেন্সিফিকেশন এতটা ছিল না। প্রতিবছর প্রায় নিয়ম করে ঝড় আসত আর সেই ঝড় উপকূল ভাগের পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করত। প্রায় প্রতি ঝড়েই গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মোহনার চেহারা কিছু না কিছু পাল্টে যেত। প্রতিবছর আসা এই সাইক্লোনের একটা ধারাবাহিকতা ছিল। মে-জুন ও অক্টোবর-নভেম্বরের শেষের দিকে এই সাইক্লোনগুলো আসত বাংলায়। এই সাইক্লোনের জন্ম হত বঙ্গোপসাগরে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর হাত ধরেই তারা আসত বঙ্গদেশে। এই প্রসঙ্গে বেঞ্জামিন কিংসবিউরি জানাচ্ছেন, “Every year cyclones came in from the Bay of Bengal at the beginning and end of the south-west monsoon, from May to June October to November. These storms had is great an effect on the shape of the estuary as the currents and tides. Heavy swells stirred up the mudflats at the head of the bay and carried their silt back onto the land.”

    বাংলার মোহনা মানেই গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের জলের ভাণ্ডার, যা বঙ্গোপসাগরে সে উজাড় করে দেয়। নদীর এই জলের দান মৌসুমী বায়ুকে সচল করে আর এই ভারতীয় উপমহাদেশের বুকে বৃষ্টি ডেকে আনে। ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে ‘কারেন্ট সায়েন্স’ পত্রিকায় ভারতের আটজন বিজ্ঞানী এমন দাবি করেন। তার পেছনে যে বিজ্ঞান লুকিয়ে ছিল তা হল, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর বয়ে আনা জল বঙ্গোপসাগরের জলের সঙ্গে মেশে না। দশ থেকে কুড়ি মিটারের একটা মিষ্টিজলের স্তর হিসাবে ভেসে থাকে। এই জল মিষ্টিজল। ঘনত্ব তাই কম। নদীর বয়ে আনা মিষ্টিজলের ধারা সাগরের ওপরে ভাসে। মিষ্টিজলের স্তরের ঠিক নিচে থাকে সাগরের নোনাজলের ভারী স্তর। এই দ্বি-স্তরীয় জলস্তরে পরিচলন পদ্ধতিতে যে তাপচক্র প্রক্রিয়াটি ঘটার কথা, তা ব্যাহত হয়। মৌসুমী বাতাস চলে গেলে বঙ্গোপসাগরের মিষ্টিজলের তাপমাত্রা দিন চারেকের মধ্যেই ২৮-২৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে পৌঁছে যায়। এই মিষ্টিজলের ধারা বঙ্গোপসাগরের ভেতর ১০০ কিলোমিটারের অনেক বেশি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত থাকে। সাগরের বুকে এই রকম তাপমাত্রার পার্থক্য ডেকে আনতে সাহায্য করে মৌসুমী বাতাসকে। চিন্তা হল, ক্রমশ কমছে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ। কারণ একদিকে যেমন ক্লাইমেট চেঞ্জ রয়েছে, ঠিক অন্য দিকে নদীর ওপর তৈরি হওয়া একের পর এক বড় বাঁধ।
    এই দুই মূল কারণের জাঁতাকলে পড়ে গঙ্গা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্র বঙ্গোপসাগরকে জল দিতে পারছে কম। যা মৌসুমী বায়ুকে অনেক সময়ই কম শক্তিশালী করছে, একথা ঠিক। তবে সাইক্লোনকে বেশি শক্তিশালী করে তুলছে। এমনই কথা বলছেন ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে কাজ করা কয়েকজন ভারতীয় বিজ্ঞানী।
    যার জন্য উমফানের দগদগে ক্ষত নিয়ে সুন্দরবনের শরীর– তিলোত্তমা কলকাতার কায়া এখনও বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    লেখক নদী বিশেষজ্ঞ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More