শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

পুষ্পা ভালোটিয়া মৃত্যু-মামলা: সিবিআই তদন্তের দাবি খারিজ হওয়ার পরেও, ফের একই দাবিতে হাইকোর্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গল বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের রায় দেওয়ার পরে তা খারিজ করে দিয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু চার মাস পরে সেই সিবিআই তদন্ত চেয়েই ফের সে মামলা ফিরে এল হাইকোর্টেই। রানিগঞ্জের গৃহবধূ পুষ্পা ভালোটিয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলায়, বুধবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে ফের সিবিআই তদন্ত চেয়ে সওয়াল করেন মৃতের পরিবারের আইনজীবী। পরিবারের দাবি, সিআইডি-র তদন্তে গাফিলতি রয়েছে।

ইতিমধ্যে অবশ্য এই তদন্তে চার্জশিট দিয়ে দিয়েছে সিআইডি। কিন্তু তাতে অনেক ফাঁক-ফোকর রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী। যদিও সরকার পক্ষের কৌঁসুলির দাবি আগের জায়গাতেই আছে– অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রানিগঞ্জের ব্যবসায়ী পরিবারের বধূ পুষ্পা।

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর রানিগঞ্জে, দুপুর বেলায় রান্নাঘরের মধ্যে মাথায় গুলি আর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছিল পুষ্পা ভালোটিয়ার। সেই মৃত্যুর পরে শুরু হয় সিআইডি তদন্ত। তারও পরে কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর। এক সময়ে তদন্ত না এগোনোর দায় রাজ্য ফরেন্সিক দফতরের উপরে চাপিয়েছিল সিআইডি। ফরেন্সিক কোনও রিপোর্ট না দেওয়ার কারণেই তদন্ত এত দিন এগোয়নি বলে হাইকোর্টে অভিযোগ করেছিল তদন্তকারী সংস্থা।

কিন্তু পরে তদন্ত এগোয়, চার্জশিটও জমা পড়ে। সেই চার্জ শিটে প্রতিষ্ঠিত হয় সরকার পক্ষের আইনজীবীর দাবিই। কিন্তু বুধবার আদালতে মামলাকারী পরিবারের পক্ষে পার্থ সেনগুপ্ত ও সোমপ্রিয় চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিল না বলে রিপোর্টে লিখেছে সিআইডি। তা হলে কে আগুন নেভানোর জন্য দমকলে খবর দিল? সেই ব্যক্তিকে জেরা করা হয়নি কেন? মৃতার একটি ডায়েরিতে লেখা কিছু অংশ তুলে ধরে তিনি যে মানসিক অবসাদে ছিলেন বলে যুক্তি সাজানো হয়েছে, বাস্তবের সঙ্গে যার কোনও মিল নেই বলেও দাবি অভিযোগকারীর পরিবারের।

এদিন মৃতার শ্বশুরবাড়ির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করেন। আজ, বৃহস্পতিবার ফের শুনানি হওয়ার কথা। সেখানেও রাজ্যের তরফে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি-র হাতে তদন্ত রাখার পক্ষে সওয়াল করবেন।

গত বছর অগস্টে হাইকোর্টেরই বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ এই অস্বাভাবিক মৃত্যর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। যদিও পরের দিনই সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে রাজ্য সরকার। সেই মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে দেয়। ফলে ফের মামলার তদন্ত চালায় সিআইডি-ই।

ইতিমধ্যে বধূকে অত্যাচারের অভিযোগে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতারও করে সিআইডি। তিন মাস জেল খেটে গত ডিসেম্বরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তার আগেই, নভেম্বরে সিআইডি ওই মামলায় চার্জ শিট জমা দিয়ে দিয়েছিল। আবার জানুয়ারিতেই ফের সিবিআই তদন্ত চেয়ে একই আদালতে এমন মামলা ব্যতিক্রম বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে, তদন্তে খুঁটিনাটি ত্রুটি আছে বলে উল্লেখ করেছিল। একই সঙ্গে মৃতার স্বামীকে সিআইডি-র সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করতেও নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

Shares

Comments are closed.