শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কেরলে হড়পা বানে ভেসে গেল পুরো একটা শহর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অল্প কয়েকটি বাড়ি, দু’-চারটি দোকান, একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র ও একটি ধর্মস্থান। এই নিয়ে পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত ছিল এক ছোট্ট শহর। তার নাম পাথার। কেরলের নীলাম্বুর জেলার পোথাকাল্লু পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছিল সেই শহর। এখন আর তার অস্তিত্ব নেই। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে এসেছিল হড়পা বান। পুরো শহর ধুয়েমুছে গিয়েছে। একসময় যেখানে ছিল মানুষের বসতি, এখন সেখানে পড়ে আছে কয়েকটি পাথরের বোল্ডার। দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি গাছও।

বৃহস্পতিবারই পাথার থেকে চার কিলোমিটার দূরে কাভালাপ্পারা শহরে বৃষ্টিতে ধস নামে। ৪০ টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। ৬০ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন। ধস নামার শব্দ শোনা গিয়েছিল পাথারেও। সেখানকার বাসিন্দারা শব্দ শুনে আগেভাগে সতর্ক হয়ে যান। বাড়ি ও দোকান ছেড়ে আশ্রয় নেন নিরাপদ জায়গায়। ইতিমধ্যে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ঝরনাতেও জল বাড়ছিল।

পাথার থেকে কিছু দূরে অবস্থিত মারিয়া সেডান কনভেন্ট। সেখানকার বাসিন্দা রোজ ম্যাথিউ বলেন, প্রবল বৃষ্টির পরে ঝরনায় জল বাড়ছিল। বিকাল পাঁচটা নাগাদ আমাদের কনভেন্ট বিল্ডিং কাঁপতে থাকে। আমাদের সাইকো সোশ্যাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ১৩ জন বাসিন্দা আছেন। আমরা সবাই দেখতে গেলাম, ঝরনার কী অবস্থা। আমরা বেরিয়ে দেখি, সাংঘাতিক অবস্থা। ঝরনার জল ফুলেফেঁপে উঠেছে। আমরা ভাবছিলাম শহরে আশ্রয় নেব। ইতিমধ্যে ঝরনার জল আমাদের কনভেন্টের খানিকটা অংশ ভাসিয়ে নিয়ে গেল। ওদিকে দেখি, শহরেরও আর অস্তিত্ব নেই।

রোজ বলেন, হড়পা বান যদি রাতে আসত তাহলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হত। বানে অন্তত ২৫ টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েকশ বাড়ি। ডেভিস জোনস আব্রাহাম নামে এক স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার পাহাড়ে আটটি ধস নেমেছিল। তার ফলে ঝরনার জল ফুলেফেঁপে ওঠে। ১০ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে।

Comments are closed.