নৈরাজ্যের ইঙ্গিত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    বিজেপি ভাবছে যে করেই হোক ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতেই হবে। তৃণমূল চাইছে ক্ষমতা ধরে রাখতে। দু’পক্ষই সমান মরিয়া। কোনও তরফেই প্ররোচনার অভাব নেই। রাজ্যে বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণে। এই অবস্থায় মারদাঙ্গা, রক্তপাত অনিবার্য।

    সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যে অশান্তি লেগে আছে। রোজই কোথাও না কোথাও গণ্ডগোলের খবর পাওয়া যায়। এসব আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। তবু এরই মধ্যে দু’-একটা খবর শুনে আমরা বিবেকের দংশন অনুভব করি। আশঙ্কা জাগে, পশ্চিমবঙ্গ কি নৈরাজ্যে তলিয়ে যাচ্ছে?

    ২১ অক্টোবর, সোমবার বিকাল নাগাদ শোনা গেল, বীরভূমের নানুরে নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন এক প্রৌঢ়া। নাম শঙ্করী বাগদি। ঘটনাটি এইরকম : নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামে দুপুরবেলা ভাত খেতে বসেছিলেন শঙ্করী। এমন সময় গ্রামে হামলা চালায় তৃণমূল বাহিনী। শঙ্করীর ছেলে উদয় একসময় তৃণমূল করতেন। পরে বিজেপিতে নাম লেখান। স্বনামধন্য তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের নিজের গ্রাম হাটসেরান্দি। সেই গ্রামের ছেলে হয়ে উদয় বিরোধী দলে যাওয়ায় বেজায় চটেছিল শাসক দল। সে ছিল তৃণমূল বাহিনীর টার্গেট। তারা গ্রামে হানা দিলে শঙ্করী ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে আসেন। তখনই তাঁর বুকে গুলি লাগে।

    সোমবার আরামবাগ, পুরশুড়া, তারকেশ্বর থেকেও হানাহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। কোথাও তৃণমূল আক্রমণকারী, কোথাও বিজেপি। উভয় পক্ষই চাইছে শত্রু দলের কর্মীদের মধ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে।

    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হানাহানির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রবীণদের মনে আছে পশ্চিমবঙ্গের যুক্তফ্রন্ট ও সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলের কথা। গত শতকে সাতের দশকের শুরুর কয়েকটি বছরে পশ্চিমবঙ্গ পুরোপুরি নৈরাজ্যে তলিয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে, মানুষ সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পেত। শহর ও শহরতলির বিভিন্ন পাড়া কংগ্রেস, সিপিএম ও অন্যান্য দলের মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যার পরে এক পাড়ার লোক অন্য পাড়ায় গিয়ে পড়লে প্রাণ হারানোর সম্ভাবনা ছিল।

    সেই সময় রাজনৈতিক শত্রুতা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল, শত্রুকে বাড়িতে না পেয়ে তার পরিবারের লোকজনের ওপরে হামলা হত।

    পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা এখনও ‘৭১-‘৭২ সালের মতো শোচনীয় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু নেতারা যদি কর্মীদের সংযত না করেন, তাহলে পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে যাবে সন্দেহ নেই। বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে, ততই হানাহানি বাড়বে রাজ্য জুড়ে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More