বুধবার, মার্চ ২০

বিরিয়ানি আর অঙ্ক

কথায় বলে ক্ষিদের জ্বালা এমন জ্বালা যে মাথা ঠিক কাজ করে না। বোধবুদ্ধি সব গুলিয়ে যায়। তা আম বাঙালির বিরিয়ানির ক্ষিদে এতটাই বেড়ে গেছিলো যে অর্থনীতির যাবতীয় সহজ বোধবুদ্ধি জলাঞ্জলি দিয়ে দিনের পর দিন পরম তৃপ্তিতে হাড় চিবিয়ে গেছে।
 যদিও বিষয়টা রকেট বিজ্ঞান এর মত জটিল মোটেও ছিল না। একটু মাথাটা খাটালেই বিলক্ষণ মালুম হতো যে গন্ধটা নানারকম মশলাদারীর দৌলতে বেশ লোভনীয় ঠেকলেও দামটা বড্ডই সন্দেহজনক।
নগর কলকাতার এই সর্বজনীন বিরিয়ানি প্রীতির বাড়াবাড়িটা গত দু তিন বছরের ঘটনা। পুজোর সময়ে তো শহরে যত জন ট্রাফিক পুলিশ প্রায় তত গুলোই বিরিয়ানি হান্ডি। রাজপথে। অলিতে গলিতে। তস্য গলিতে।
 তবে এমন নয় যে পুজোপাঠ চুকে গেল, বা তার পরে বড় দিনের শীতের আমেজ মিলিয়ে গেল, আর বিরিয়ানির তামাটে হান্ডি সব বেঁধেছেদে তুলে ফেলা হল।
এই সে দিনের ঘটনা। বেলা সাড়ে বারোটায় কলকাতার উত্তর শহরতলিতে একটা হান্ডি শোভিত একটি গজিয়ে ওঠা দোকানের সামনে গলদঘর্ম ভিড়। মধ্য কলকাতার একটি অতি সমৃদ্ধ বিরিয়ানি বিপনীর নাম লেখা রয়েছে সাইন বোর্ডে। আক্ষরিক অর্থেই দিনেদুপুরে নাম আর ব্র্যান্ড চুরি। ওই প্রবল গরমেও হট কেকের মতো বিকোচ্ছে সুগন্ধী হলদেটে ভাত, সঙ্গে হাতবোমার সাইজে আলু, আর বেশ নধর মাংসের পিস। দাম কত? না সত্তর টাকা। ক্রেতা কিনছেন এবং জটায়ুর মতো বোধ হয় মনে মনে বলছেন, কোনো প্রশ্ন নয়। কারণ প্রশ্ন করলে তো এই সত্তরের ধাঁধার হিসেব মিলবে না।
 জানা গেল, ভাগাড় কেলেঙ্কারির পরে অনেক দোকানের পাশাপাশি ওই দোকানটিরও অন্তত সাময়িক পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছে।
 যা খাওয়ার কথা স্বপ্নেও কখনো ভাবেনি তেমন অনেক কিছু দিব্যি বাঙালি দিব্যি হজম করে ফেলেছে। এখন জানতে পেরে সে যতই বাঙালি আঁতকে উঠুক, বা তার ওয়াক উঠুক। যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। এ বার অন্তত স্লেট পেন্সিল নিয়ে বসে একটু হিসেব করার চেষ্টা হোক, কোনটা সম্ভব আর কোনটা নয়।
Shares

Leave A Reply