বুধবার, মার্চ ২০

‘আমাকে প্রথমে গালিগালাজ করেছেন ডিএম-এর স্ত্রী’, বিস্ফোরক অভিযোগ আলিপুরদুয়ারের যুবকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আমাকে গ্রুপে অ্যাড করে প্রথমে গালিগালাজ করেছিলেন। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। কিন্তু জানতাম না উনি ডিএম-এর স্ত্রী। তারপর আমিও গালিগালাজ করি।”

আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মল এবং তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণের হাতে ফালাকাটা থানার ভিতর মার খাওয়া যুবক বিস্ফোরক দাবি করলেন সোমবার। আদালতে তোলার সময় কোর্ট চত্বরে এ কথা বলেন অভিযুক্ত বিনোদ কুমার সরকার। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে নন্দিনী এবং বিনোদের কমেন্ট যুদ্ধের স্ক্রিনশটও ভাইরাল হয়েছে। বিনোদের দাবি, তাঁকে একটি গ্রুপে প্রথমে গালিগালাজ করেছিলেন নন্দিনী।

রবিবার রাতেই ডিএম-পত্নী ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন, লোকে শুধু মারাটাই দেখেছে। কিন্তু কেন মারা হয়েছে সেটা জানেন না। একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, অনেক হয়েছে আজেবাজে কথা। কী জানো তোমরা? কতটুকু দেখা যাচ্ছে ওই ভিডিও-য়? দেখা যাচ্ছে ওকে মারা হচ্ছে। কেন মারা হচ্ছে, সেটা তো দেখা যাচ্ছে না। হ্যাঁ, ওকে থাপ্পড়, লাথি মেরেছি। অন্য কেউ হলে ওকে মেরেই ফেলত। আমার স্বামী আমায় বিয়ের সময়েই বলেছিল সব কিছু থেকে রক্ষা করবে আমায়। ও সেটাই করেছে। আমি ওর জন্য গর্বিত। এখন নিশ্চয় সকলে বলতে শুরু করবে, ধর্ষণ তো করেনি, কেবল করবে বলেছে। এত না মারলেও হতো। আমি কান দিচ্ছি না এ সবে।

ওই ঘটনার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়তেই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় ডিএম-কে। সোমবার সকাল থেকে ডিএম-এর বাংলোতেও তাঁদের দেখা যায়নি। সস্ত্রীক ডিএম-এর ‘উধাও’ হওয়ার ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেননি জেলা প্রশাসনের কোনও বড় কর্তাই।

অভিযুক্ত যুবক আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “যদি আমি দোষী হই, আদালতে তার বিচার হবে। ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী পুলিশের সামনে আমায় মারলেন কেন?” এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই জেলার মানুষের মধ্যেও। একটা অংশের মতে, ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী সংবিধান বিরোধী কাজ করেছেন। আরেকটা অংশ অবশ্য নিখিল এবং নন্দিনীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন। সোমবার আলিপুরদুয়ার অভিভাবক মঞ্চের তরফে জেলার পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দিয়ে ডিএম-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ দিন বিচারক, ধৃত বিনোদ সরকারের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

দেখুন ভিডিও

"ডিএম-এর স্ত্রী আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। উনি আগে গালিগালাজ করেছিলেন। তাই আমি করেছি।" আদালত চত্বরে বিস্ফোরক যুবক। দেখুন ভিডিও।

The Wall এতে পোস্ট করেছেন সোমবার, 7 জানুয়ারি, 2019

Shares

Comments are closed.