বুধবার, আগস্ট ২১

চণ্ডীগড়ের চায়েওয়ালি: শুধু চা বেচেই বিদেশের মাটিতে সেরা ব্যবসায়ী ২৬ বছরের তরুণী!

  • 3.1K
  •  
  •  
    3.1K
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ বছর বয়স ছিল তাঁর। সদ্য হাতে এসেছে আইনের ডিগ্রি। সামনে অনন্ত সম্ভাবনা কেরিয়ার গড়ার। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন চায়ের ব্যবসা। সকলে চমকে উঠেছিলেন এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে! কিন্তু তিনি অনড় ছিলেন। এবং চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, এই চায়ের ব্যবসা করেই সারা দুনিয়ার মন জিতবেন তিনি। হয়েছেও তাই। ব্যবসা শুরু করার মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যেই সুপারহিট হয়ে গেল তাঁর ব্র্যান্ড ‘চায়েওয়ালি’। তিনি উপ্পমা ভির্দি, চায়ের ব্যবসায় অন্যতম সফল এক ভারতীয় তরুণী। আদতে চণ্ডীগড়ের মেয়ে উপ্পমা অবশ্য বড় হয়েছেন অস্ট্রেলিয়াতেই।

২০১৬ সালে আইনের ডিগ্রি পাওয়ার পরে সিডনির একটি ল-ফার্মে কাজ শুরু করেছিলেন উপ্পমা। কিন্তু মন চাইত অন্য কিছু। নিজের কিছু। চেনা ছকে রোজগার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমে মনের খিদে মিটছিল না চনমনে এই তরুণীর। চাইছিলেন, এমন কিছু করতে, যাতে থাকবে স্বকীয়তার ছাপ।

এই সময়েই তাঁর মনে পড়ে, দাদুর কথা। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক মানুষটি ছোটোবেলায় উপ্পমাকে শিখিয়েছিলেন, কী ভাবে ভাল হার্বাল চা বানাতে হয়। অদ্ভুত কিছু উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে খুব সুন্দর চা বানানোয় ছোটোবেলা থেকেই পারদর্শী ছিলেন উপ্পমা। হঠাৎই মনে হয়, সেই পারদর্শিতা কাজে লাগালে কেমন হয়!

উপ্পমা বলছিলেন, “খুব ছোটোবেলা থেকেই আমি বাড়িতে প্রায়ই শুনতাম, ‘উপ্পি, আমাদের জন্য একটু চা বানাও তো।’ কোনও অতিথি এলে তো কথাই নেই। আমার হাতের চা তাঁদের চাই-ই চাই। এমনকী যখন আমার দাদার বিয়ে হল, প্রায় হাজার অতিথির জন্য আমি একা হাতে চা বানিয়েছিলাম একাধিক বার। গোটা বিয়েবাড়িতে শুধু চা-ই খেতে চাইছিল সকলে বারবার। এর পরে যখন স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রিয়ায় পড়তে গেলাম, তখনও আস্তে আস্তে আমায় ঘিরে একটা চা-চক্র গড়ে উঠল। আমার হাতের চা খাওয়ার জন্যই বহু বন্ধুবান্ধব আসত। আমি সবার জন্য চা বানাতাম, আড্ডা দিতাম।”

তখনই উপ্পমার মনে হয়, এটাও তো একটা প্রতিভা! ভাল চা খাওয়ানো, চায়ের মধ্যে দিয়ে বন্ধু তৈরি করা, আলাপ-আলোচনার জায়গা তৈরি করা– এটাও তো পেশাদারি ভাবে করা যায়। যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে চায়ের দোকান খুলে বসলেন তিনি।

স্বাভাবিক ভাবেই, পরিবারের লোকেরা প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান। তাঁদের পরিবারের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো মেয়েটি এ কী করতে চলেছে! তবে উপ্পমার প্যাশনের কাছে হার মানে সব কিছু। অস্ট্রেলিয়ার বুকে, মন দিয়ে চা বানিয়ে মানুষকে খাওয়াতে শুরু করেন উপ্পমা। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, এত দিন তাঁর বানানো চা সকলকে মুগ্ধ করেছে যখন, তখন তাঁর খরিদ্দাররাও হতাশ হবেন না।

‘চায়েওয়ালি’ হতাশ করেনি কাউকেই। না উপ্পমার জেদকে, না তাঁর পরিবারকে, না তাঁর খরিদ্দারদের। দিন দিন খ্যাতি বেড়ে চলে তাঁর। এক সময়ে অনলাইনে হার্বাল চায়ের পাতা বিক্রিও করতে শুরু করেন তিনি। সঙ্গে নানা রকমের চায়ের পাত্র, কেটলি, ছাঁকনি। এর সঙ্গে ছিল তাঁর নিজস্ব ফর্মুলায় বানানো, চা ফ্লেভারের চকলেট। খুব তাড়াতাড়ি জমে ওঠে ব্যবসা। অফলাইন এবং অনলাইন দুইয়েই।

এমনকী তাঁর কাছে অনেকে ওয়ার্কশপ করতেও শুরু করে, চা বানানো শেখার। মেলবোর্ন টি ফেস্টিভ্যালে ডাক পান চণ্ডীগড়ের চায়েওয়ালি। ভারতীয় চা সম্পর্কে তাঁর বক্তৃতা মন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সকলের। সম্প্রতি, বছরের সেরা ব্যবসায়ী মহিলা হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়ান বিজ়নেস অ্যান্ড কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ডস’-ও পেয়েছেন তিনি।

ছোটোবেলা থেকে সকলের জন্য চা বানাতে পারদর্শী মেয়েটি আজ ‘চায়েওয়ালি’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন বিশ্ব জুড়ে। শুধু প্যাশনের প্রতি সৎ ও পরিশ্রমী থাকলে, তাকে পেশা করতে কোনও বাধা হয় না। তারই উদাহরণ যেন চায়েওয়ালি উপ্পমা।

Comments are closed.