বুধবার, জানুয়ারি ২২
TheWall
TheWall

বন্ধুত্বের জোরে মুছে গেল দূরত্ব! চন্দ্রকোনার অধিকারী-দম্পতির অতিথি থাইল্যান্ডের দুই মহিলা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বছরের বন্ধুত্ব জমে উঠেছিল ফেসবুকে। ভার্চুয়াল মনের মিল এতটাই জোরদার ছিল, যে মিলিয়ে গিয়েছিল প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার ভৌগোলিক দূরত্ব। তাই তো সুদূর থাইল্যান্ড থেকে বাংলায় পাড়ি দিলেন দুই বান্ধবী মিলে। উদ্দেশ্য, পশ্চিমবাংলার মেদিনীপুর জেলায় চন্দ্রকোনা টাউনের বন্ধু-দম্পতির সঙ্গে দেখা করা!

কয়েক দিন ধরেই থাইল্যান্ডের লখনসাওয়ন এলাকার ওয়াংওয়াং গ্রামের দুই বাসিন্দা, প্রনম পিমুব ও সুচুচিপ কৃটস্নাপ্যাক্সডি-কে কেন্দ্র করে হইচই পড়ে গেছে চন্দ্রকোনা থানার গোঁসাইবাজারে। সেখানকার মানিক অধিকারী ও দেবযানী অধিকারীর বাড়ি যেন এখন দর্শনীয় স্থান! সেখানেই তো এসেছেন থাইল্যান্ডের ৪০ ও ৪৫ বছরের ওই দুই বান্ধবী।

চার বছর আগে চন্দ্রকোনার অধিকারী দম্পতির সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয় প্রনম ও সুচুচিপের। তার পরে মেসেঞ্জারে দীর্ঘ হয় চ্যাট, বিনিময় হয় মতের। বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি বেশি। কিছু দিন আগে মানিকবাবু ও দেবযানীদেবী ঠিক করেন, থাইল্যান্ডে যাবেন এবং বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁদের আর্থিক স্বচ্ছলতা তেমন না থাকায় তাঁদের যাওয়া-আসার খরচও বহন করতে রাজি হয়েছিলেন থাইল্যান্ডের বান্ধবীরা। কিন্তু ভিসার সমস্যা হওয়ায় যে কোনও কারণেই হোক, যাওয়া হয়নি তাঁদের।

তখনই থাইল্যান্ডের ওই দুই বন্ধু মানিকবাবুকে জানান, তাঁরাই ভারতবর্ষে বেড়াতে আসতে চান। সানন্দে আমন্ত্রণ জানান মানিক-দেবযানী। কিছু দিনের মধ্যেই আসার সব কিছু ফাইনাল করে ফেলেন তাঁরা। শেষমেশ আসার দিনও ঠিক হয়ে যায়। মানিক-দেবযানী বান্ধবীদের স্বাগত জানাতে পৌঁছে যান কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে তাঁদের নিয়ে আসেন চন্দ্রকোনায়।

শুক্রবার থেকেই ওই দুই থাই মহিলা এখন অধিকারী দম্পতির বান্ধবী কাম অতিথি। দুই বিদেশিনির আতিথেয়তায় কোনও ত্রুটি রাখেননি মানিকবাবু ও দেবযানীদেবী। ভারতীয় খাবার তাঁদের তেমন পছন্দ নয় বলে, ভিন্ দেশি অতিথিদের জন্য আলাদার রান্নারও ব্যবস্থা করেছেন অধিকারি দম্পতি।

তবে ভারী মজার পদ্ধতিতে চলছে তাঁদের কথাবার্তা। কারও ভাষাই তো কেউ বোঝেন না। তাই মোবাইলের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে অনুবাদ করে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছেন তাঁরা। দেবযানীদেবী বলেন, “ওঁদের ব্যবহার খুব মিষ্টি। আকার ইঙ্গিতে সবই বুঝতে পারছি। তার উপর মোবাইল অ্যাপ তো রয়েইছে।”

দুই বিদেশিনিদের দেখতে শুক্রবার থেকেই অধিকারি দম্পতির বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন প্রতিবেশীরাও। বাকি সময়ে দুই বান্ধবীকে চন্দ্রকোনা শহর ঘোরাঘুরি করে দেখাচ্ছেন অধিকারী দম্পতি। বিদেশিনি দুই অতিথিও বেজায় খুশি নতুন দেশে এসে। তাঁরা বলেন, “আমাদের খুব ভাল লাগছে। এখানকার পরিবেশ খুবই মনোরম। মানুষজনও ভারী আন্তরিক।”

Share.

Comments are closed.