রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

ছিলেন মান্টো, হলেন মারাঠি মানুষের মসিহা বালাসাহেব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগেই তিনি ছিলেন পাকিস্তানি লেখক। অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশভাগ যিনি মেনে নিতে পারেননা কিছুতেই। প্রবল আক্রোশে ফেটে পড়েন সমাজের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে। আর তাই, বারংবার তাঁর লেখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রাষ্ট্রযন্ত্র।

আর এখন তিনি কট্টর হিন্দুত্ববাদী। উত্তরপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্রে কাজ করা লোকেদের কড়া বিরোধী। রাজনীতিবিদ। মন্ত্রী নন, তার থেকেও বেশি কিছু – একদম কিংমেকার।

দুটোই অবশ্য সিনেমায়। সাদাত হোসেন মান্টোর পর ফের বায়োপিকে নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি। এবারে তাঁর চরিত্র বালাসাহেব ঠাকরের।

কিন্তু শিবসেনার প্রতিষ্ঠাপুরুষের চরিত্রে কিনা উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা নওয়াজ! মেনে নেবে তো তাঁর ভক্তেরা?

না সে ভয়ও নেই। কারণ নওয়াজুদ্দিনকেই এই চরিত্রে অভিনয় করবার জন্য অনুরোধ করেছিলেন সেই শিবসেনার নেতৃত্বই!

সিনেমার ট্রেলর রিলিজেও নওয়াজের পাশেই দাঁড়িয়ে রইলেন বালাসাহেবের ছেলে শিবসেনার বর্তমান সুপ্রিমো, উদ্ধব ঠাকরে।

পাক্কা মেথড অ্যাকটর নওয়াজ অবশ্য বালাসাহেবের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রাণপনে পরিশ্রম করেছেন। এমনকি ঠিক করে নিয়েছেন তাঁর মারাঠি উচ্চারণও।

এক সময় খবরের কাগজের কার্টুনিস্ট ছিলেন বালাসাহেব। রাজনীতির নেতাদের বিদ্ধ করতেন মজার কার্টুন এঁকে। সেই লোকই এক হয়ে উঠেছিলেন মারাঠি মানুষের মসিহা। যাঁকে গ্রেফতার করায় তীব্র প্রতিবাদে অচল হয়ে গিয়েছিল দেশের প্রাণকেন্দ্র – বাণিজ্যনগরী মুম্বই। অবস্থা সামলাতে শেষ অবধি জেলের ভেতর সেই বালাসাহেবের কাছে গিয়েই অনুরোধ করতে হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

শিবসেনা প্রমুখ। বাবরী মসজিদ ভাঙার পড়ে মুম্বই শহরে জুড়ে চলা দাঙ্গার জন্য তাঁকেই দায়ী করেছিল অনেকে। আবার মুম্বাইয়েরই আরেক অংশ, বলেছিল বালাসাহেবের জন্যই নাকি থেমেছিল সেই গণ্ডগোল।

বালাসাহেবের জীবন যে সিনেমার থেকেও টানটান তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও।

‘ঠাকরে’ নামের এই সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, বালাসাহেবেরই এক সময়ের সহযোগী, সাংবাদিক ও বর্তমানে শিবসেনার নেতা ও সাংসদ সঞ্জয় রাউত। নির্দেশক অভিজিৎ ফানসে। এই ছবি দেখা যাবে হিন্দিতে এবং ইংরাজি ডাবড সংলাপেও।

জানুয়ারির ২৫ তারিখেই মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি।

তবে, রক্তমাংসে গড়া, প্রবল বিতর্কিত ঠাকরের জীবনের সব ঘটনাই কি দেখাবে এই ছবি? নাকি বলিউডের বায়োপিকের মতোই শুধু একতরফা হিরোর উপাসনাই করা হবে? এই প্রশ্ন অনেকেরই।

দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী বলে বক্স অফিস।

Comments are closed.