বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

ইমরান আমেরিকা যাওয়ার আগে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি ফাঁকা, পরে ফের হাজির

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জঙ্গিরা সব গেল কোথায়? উপগ্রহ মারফৎ তোলা ছবি দেখে রীতিমতো আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন ভারতের গোয়েন্দা কর্তারা। সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানে কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটি আছে। সেখান থেকে সন্ত্রাসবাদীরা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেই ঘাঁটিগুলিকে বলে লঞ্চপ্যাড। জুলাইয়ের শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আমেরিকা সফরে যাওয়ার আগে গোয়েন্দারা খবর দেন, লঞ্চপ্যাডগুলিতে কেউ নেই। উপগ্রহ চিত্রেও দেখা যায়, শিবিরগুলি ফাঁকা। বিষয়টি রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে গোয়েন্দা কর্তাদের।

গত সপ্তাহে ইমরান আমেরিকা সফর থেকে ফিরে আসেন। তার পরে দেখা যায়, লঞ্চপ্যাডগুলিতে জঙ্গিরা ফিরে এসেছে। সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেন, কয়েকদিন ধরে আমরা রিপোর্ট পাচ্ছিলাম, লঞ্চপ্যাডগুলিতে কেউ নেই। সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যেই জঙ্গিরা ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। তার আগে লঞ্চপ্যাডগুলিতে জড়ো হয়।

২২ জুলাই ইমরান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেনাপ্রধান কামার বাজওয়া এবং আইএসআইয়ের প্রধান ফৈজ হামিদ। দিল্লির ধারণা, পাকিস্তান চেয়েছিল, ইমরানের আমেরিকা সফরের সময় যেন ভারত সীমান্তে কোনও গন্ডগোল না হয়। তাই জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।

ইমরান ফিরে আসার পরেই দেখা যায়, লঞ্চপ্যাডগুলিতে ফের ২০০ থেকে ২৫০ জন জঙ্গি জড়ো হয়েছে। গত মঙ্গলবার গুরেজ সেক্টরে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান ফের গোলাগুলি চালায়। সেই সুযোগে জঙ্গিরা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করে। তাদের দু’জন নিহত হয়েছে।

ভারতের এক গোয়েন্দা অফিসার জানিয়েছেন, লঞ্চপ্যাডগুলি খালি করে জঙ্গিদের দু’সপ্তাহ আশপাশের গ্রামগুলিতে রাখা হয়েছিল। তারা এখন ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সীমান্তে ফের সংঘর্ষবিরতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে তাংধের ও কেরান সেক্টরেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে। সুন্দরবেনি সেক্টরেও পাকিস্তান গোলাবর্ষণ করেছে। ভারতের এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার শ্রীনগরে সাংবাদিক বৈঠকে চিনার কোরের কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে জে এস সান্ধু বলেন, পাকিস্তান অনুপ্রবেশে মদত দিয়ে চলেছে। তারা কাশ্মীর উপত্যকার শান্তিভঙ্গ করতে চায়।

ফেব্রুয়ারি মাসে বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার আক্রমণের পরে কিছুদিন সীমান্তে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণ বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস অবশ্য প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা কিছুটা শান্ত ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে ফের গোলাবর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় সেনার ধারণা, পাকিস্তান মনে করছে, ইমরানের আমেরিকা সফর খুবই সফল। ট্রাম্প যেভাবে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করতে চাইছে, তাতেও তারা খুব খুশি। সেজন্যই সাহস পেয়ে তারা ফের ভারতের ওপরে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে।

Comments are closed.