ছ’গুণ বেশি দূষিত কলকাতার বায়ু! দেশ জোড়া দূষণ-সূচক বলছে, ‘শুভ’ নয় দীপাবলি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবে শেষ হয়েছে দীপাবলির আবহ। সুুপ্রিম কোর্টের রায়ের তোয়াক্কা না করেই দেদার ফেটেছে শব্দবাজি এবং আতস বাজি। সন্ধে থেকে সারা রাত ধরেই। কলকাতা পুলিশ যদিও দাবি করেছে অন্য বারের চেয়ে শব্দদানবের উৎপাত এই বার কম ছিল, কিন্তু বহু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা তা বলছে না। আবার সন্ধেবেলায় দু’ঘণ্টার বেশি বাজি না পোড়ানোর যে নির্দেশ জারি হয়েছিল, তাতেও কার্য জল ঢেলেছে উৎসবমুখর দেশবাসী। আর তাতেই সারা দেশে বায়ু দূষণের পরিমাণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। মার্কিন দূতাবেসের ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ বলছে, গোটা দেশের বড় শহরগুলিতে গড়ে অন্তত চার গুণ বেশি ধরা পড়েছে দূষণের মাত্রা। আর এই অঙ্কে বেশ সামনের দিকেই রয়েছে কলকাতার নাম।

    মার্কিন দূতাবাসের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কলকাতায় পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৩৭০। যা সহনশীলতার প্রায় ছ’গুণ৷ ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের’-এর মতে, পিএম ২.৫-এর মাত্রা ১০০ থেকে ২০০-র মধ্যে থাকলে তাকে ‘মডারেট পলিউশন’ বলে। এই ধরনের দূষণে শিশু থেকে বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্রের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ সেখানে বিশেষজ্ঞদের মতে দীপাবলিতে কলকাতার আকাশে দূষণমাত্রা সহনশীলতার প্রায় তিন গুণ৷ বাজির দাপটেই এই হাল বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু দূষণের মাত্রায় পিএম ২.৫-এর স্বাভাবিক মাত্রা ৬০ পিএম বেঁধে দিয়েছে। অর্থাৎ মাইক্রোগ্রাম প্রতি মিটার কিউবে দূষণের গড় ৬০৷ সেখানে কলকাতায় এই অঙ্ক ৩৭০!

    পরিবেশবিদেরা জানাচ্ছেন, দূষণ রোধে মানুষের সচেতনার প্রবল অভাব রয়েছে৷ পুলিশের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন দূষণ পর্ষদকেও৷ এবার যদিও দীপাবলিতে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে, ফলে বাতাসে ধুলি কণা ও দূষণের পরিমাণ অনেকটাই কম ছিল৷ তা সত্ত্বেও ৩৭০ ছোঁয়া সূচক বেশ দুশ্চিন্তার কারণ।

    আশঙ্কা অবশ্য ছিলই। আর আশঙ্কা সত্যি করেই কালীপুজোর রাতে বাতাসে দূষণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেল। সৌজন্যে শহর জুড়ে শব্দবাজি ও আতসবাজির দাপট! রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণপর্ষদের ব্যাখ্যা, আবহাওয়া মেঘলা থাকার কারণে ধোঁয়া-ধোঁয়া ছিল চার পাশ। তবে বুধবার দিনভর যে কুয়াশাচ্ছন্ন চেহারা ছিল শহরের, তার পিছনে বাজির ধোঁয়ারও অবদান কম নয় বলে জানাচ্ছেন পরিবেশবিদেরা।

    রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘‘এমনিতেই মেঘ করে রয়েছে। তাই বাজি পোড়ানোর ধোঁয়াটা বেরোতে না পেরে রয়ে গিয়েছে। ফলে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার (পিএম ১০) পরিমাণটাও বেশি দেখা যাচ্ছে।’’  বুধবার রাতে ওই ধোঁয়াশার সঙ্গেই যুক্ত হয় দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর দূষণ।

    তবে কলকাতা এখা নয়। সারা দেশই এই দূষণের শিকার হয়েছে দীপাবলিতে। পাটনার সূচক ছুঁয়েছে ৪২৩, লখনউ ৩৮৮। দূষণ নগরী দিল্লি আছে ৩৮০-তে। এর মধ্যেই আশার আলো দেখিয়েছে কেরালার তিরুঅনন্তপুরম এবং মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর। এই দু’টি শহরেই দূষণের সূচক ৬৫ এবং ৬৩।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More