রবিবার, আগস্ট ২৫

অবাধ নির্বাচনের দাবিতে মস্কোর পথে ৫০ হাজার মানুষ, ব্যাপক ধরপাকড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচন হবে মস্কোর নগর পরিষদে। অভিযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের দাঁড়াতেই দেওয়া হচ্ছে না। সেই নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে মস্কো। এক মাসের বেশি সময় ধরে শহরের রাস্তায় বেরোচ্ছে বড় বড় মিছিল। পুলিশ শহরে সবরকম মিছিল মিটিং নিষিদ্ধ করেছে। তা সত্ত্বেও শনিবার ৫০ হাজার মানুষ মিছিল করে মস্কোর রাজপথে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সেন্ট পিটাসবুর্গেও। এর আগে ২০১১ সালে রাশিয়ায় এত বড় আন্দোলন হয়েছিল। সেবার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমেছিলেন।

শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমে মস্কোর কেন্দ্রে আন্দ্রেয়া শাখারোভা স্ট্রিটে জড়ো হতে থাকে। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, ‘আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দাও’, ‘সরকার মিথ্যা কথা বলছে’, ‘পুতিন একটা চোর’। ইরিনা ডারগোল্টস নামে ৬০ বছর বয়সী এক ইঞ্জিনিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে অবিচার চলছে। সরকার অনেককে ভোটে দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। যারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাদেরও গ্রেফতার করছে।

শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল হোয়াইট কাউন্টার নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের দাবি, মিছি ছিলেন ৪৯ হাজার ৯০০ মানুষ। অন্যদিকে মস্কো পুলিশের দাবি, বড় জোর ২০ হাজার লোক হয়েছিল। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মস্কোতে গ্রেফতার হয়েছেন ২২১ জন। সেন্ট পিটাসবুর্গে ৮০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। অন্যান্য শহর থেকেও ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গিয়েছে।

শনিবার মিছিল শুরুর আগে পুলিশ লিওবোফ সোবল নামে এক বিরোধী নেতাকে গ্রেফতার করে। তাঁকে ভোটে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। তিনি অনশন ধর্মঘট করছিলেন। পুলিশের দাবি, লিওবোফ এদিনের মিছিলে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর টুইটারে একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ তাঁর অফিসের দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করছে। তিনি চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করছেন, তোমরা আমাকে ধরতে এসেছ কেন?

লিওবোফ টুইটারে লিখেছেন, আমি মিছিলে যেতে পারছি না। কিন্তু মানুষ জানে, কী করতে হবে। তাঁর আগে বেশিরভাগ বিরোধী নেতাকেই জেলে বন্দি করা হয়েছে। বন্দি বিরোধী নেতা দিমিত্রি গুটকোভের স্ত্রী ভালেরিয়া এদিনের মিছিলে ছিলেন। তিনি বলেছেন, মানুষ আমাদেরই সমর্থন করে। নির্বাচন কমিশনে যারা বসে আছে, তারা সকলেই ক্রিমিন্যাল।

Comments are closed.