মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬

পড়াশোনা করতে বলায় বাবা, মা, বোনকে কুপিয়ে খুন করল দিল্লির ১৯ বছরের তরুণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পডা়শোনায় মন নেই। রাতদিন ঘুড়ি ওড়ানো আর আড্ডাবাজিতে মন। এই নিয়ে বাবা বকাবকি করতেন। মা-ও বলতেন মন দিয়ে পড়তে। আর দাদার কীর্তিকলাপ বাবা-মা-র কাছে ফাঁস করে দিত ১৫ বছর বয়সী বোন। সেই রাগে তিন জনকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করল বাড়ির ছেলে। পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাকে। পুলিশকে সে-ই বলেছে হত্যা করার কারণ।

ঘটনাটি বুধবার গভীর রাতের, ঘটনাস্থল দিল্লির বসন্তকুঞ্জ।  আগের সন্ধেতেই বেশ অনেকক্ষণ পারিবারিক অ্যালবামে বাবা-মায়ের ছবি দেখছিল তরুণটি। অ্যালবাম নিয়েই নাড়াচাড়া করছিল সে। প্রায় গভীর রাত পর্যন্তই। তার পরেই সে অপেক্ষা করে সবাই ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত ও রাত তিনটে নাগাদ এই ভয়ঙ্কর কাণ্ডটা ঘটায়। পুলিশকে সুরজ ভার্মা নামে ওই তরুণ জানিয়েছে, বাবা-মায়ের তিরস্কার শুনতে শুনতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। কেন সে পড়াশোনা করে না, কেন নিয়মিত কলেজে যায় না, কেন ঘুড়ি উড়িয়ে সময় নষ্ট করে, এই সবই তাকে বলতেন বাবা-মা। গত ১৫ অগস্ট ঘুড়ি ওড়ানো জন্য বাবা মিথিলেশ ভার্মা তাকে মারধরও করেন। তখনই মনে মনে সুরজ ঠিক করে সে এর প্রতিশোধ নেবে।

মঙ্গলবার বন্ধুদের সঙ্গে বাজারে গিয়ে সুরজ ছুরি ও কাঁচি কিনে বাড়ি ফেরে। বাড়ির সকলের সঙ্গে বসে বসে গল্প করে, অ্যালবাম দেখে। তার পর খেয়ে দেয়ে সকলে শুয়ে পড়েন। রাত তিনটে নাগাদ উঠে প্রথমে বাবা-মায়ের ঘরে যায় সুরজ। বাবার বুকে ও পেটে বেশ কয়েকটা  কোপ বসায়। মা জেগে গিয়ে চিৎকার করলে তাঁকেও কোপায় সে। এর পরে সে যায় বোনের ঘরে । সেখানে বোনের ঘাড়ে ছুরি বসিয়ে দেয়। মা কিন্তু তখনও বেঁচে ছিলেন। তিনি মেয়েকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে আবার তাঁকে মারে সুরজ।

এর পর সে সারা বাড়ি তছনছ করে, যাতে পুলিশ দেখে ভাবে ডাকাতি হয়েছে। ছুরি থেকে আঙুলের ছাপ ধুয়ে ফেলে। এর পরেও ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করে প্রতিবেশীদের ডাকে সে। বলে, বাড়িতে ডাকাত এসেছিল। কিন্তু পুলিশের প্রথমেই খটকা লাগে। কারণ, বাড়ি থেকে কোনও মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়নি। তা ছাড়া, বাড়ির সবাইকে খতম করলে ডাকাতরা কেন সুরজকে ছেড়ে দিল, এই প্রশ্ন ওঠে।  ফরেনসিক টিম এসেই বুঝে যায় যে সুরজ বাথরুমে আর ছুরি থেকে আঙুলের ও পায়ের ছাপ ধুয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সুরজ কয়েক বছর আগে একবার অপহরণ হওয়ার গল্প ফেঁদেছিল। কিন্তু ধরা পড়ে গেছিল। সুরজ দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ফেল করেছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। সুরজ সবাইকে বলত, তাদের বাড়ি তৈরির সময় তার বাবা সবসময় তাকে কাজ দেখাশোনা করতে বলতেন বলে তার পড়ার ক্ষতি হয়। পরে গুরগাঁওয়ে একটি প্রাইভেট কলেজে তাকে তার বাবা ভর্তি করে দেন।

Shares

Comments are closed.