কালো টাকা বিনিয়োগ করুন সরকারি আবাসন প্রকল্পে, কোনও শাস্তি হবে না, ঘোষণা পাকিস্তানে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমহামারীর মধ্যে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। গত সাত দশকের মধ্যে এই প্রথমবার সেখানকার অর্থনীতি সংকুচিত হতে চলেছে। সরকার যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি শুরু করেছিল, তা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই অবস্থায় সরকার থেকে বলা হয়েছে, যাঁরা কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাঁরা যদি সরকারি আবাসন প্রকল্পে কালো টাকা বিনিয়োগ করেন, তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে না।

পাকিস্তানে মাত্র এক শতাংশ নাগরিক প্রত্যক্ষ কর দেন। সেদেশের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ জানিয়েছে, যাঁরা কর দেননি, তাঁরা যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নয়া পাকিস্তান আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন, তাঁদের শাস্তি মকুব হবে। নয়া পাকিস্তান হাউসিং প্রোগ্রামের টাস্ক ফোর্সের সদস্য জাইগাম রিজভি বলেন, ডেভলপারদের মধ্যে অনেকে কর ফাঁকি দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, আবাসন প্রকল্পে যদি কালো টাকা বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে কালো টাকার মালিকরা পরোক্ষে কিছু পরিমাণে কর দিতে বাধ্য হবেন।

পাকিস্তানের অর্থনীতির মূল্য ২৭৮০০ কোটি ডলার। সেদেশে যে বেআইনি সম্পদ সঞ্চিত আছে, তার পরিমাণও কম নয়। বেআইনি সম্পদের মূল্য অর্থনীতির মূল্যের ৫৬ শতাংশের সমান। করোনা অতিমহামারীর জন্য পাকিস্তানের রাজস্ব আদায় কমেছে। সম্প্রতি আইএমএফ থেকে আপৎকালীন ঋণ নিয়েছে সরকার। তার ফলে কল্যাণমূলক কাজে বরাদ্দ করার মতো খুব কম অর্থই আছে সরকারের হাতে।

পাকিস্তানে কিছু বন্ধক দিয়ে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় কালো টাকার মালিকদের ছাড় দিলে আবাসন প্রকল্পে গতি আসবে বলে ইমরান খান সরকারের ধারণা। পাকিস্তানের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী শিবলি ফরাজ বলেন, চলতি বছরেই ২৪০ কোটি ডলার বা পাকিস্তানের মুদ্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

পাকিস্তানে এর আগেও অন্তত চারবার কালো টাকার মালিকদের ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে বেশি অর্থ উদ্ধার করা যায়নি। রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রে অবশ্য এই প্রথম কালো টাকার মালিকদের ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে করে হোক দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা করছেন। জুন মাসের শেষে এক হিসাবে দেখা যায়, তার আগের ১২ মাসে পাকিস্তানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ০.৪ শতাংশ। করোনা ঠেকাতে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে লকডাউন চালানো হয়েছিল। তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতি। এছাড়া কিছুদিন আগে সেদেশে হানা দিয়েছিল পঙ্গপালের ঝাঁক। তাতে কৃষির গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More