২০ বছরের তরুণকে পিটিয়ে মেরে গাছে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তামিলনাড়ু পুলিশের বিরুদ্ধে

২৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুন মাসের শেষের দিকে পুলিশি হেফাজতে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল তামিলনাড়ু। অভিযোগ উঠেছিল, পুলিশই পিটিয়ে খুন করেছে দুজনকে। এবার একই অভিযোগে কাঠগড়ায় তামিলনাড়ুর পুলিশ। ফের পুলিশি অত্যাচারে মারা গেলেন ২০ বছরের এক তরুণ। শুধু তাই নয়, পরিবারের অভিযোগ, তরুণকে মেরে তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হয় সেই ঝুলন্ত দেহ।

মাদুরাই জেলার এই ঘটনায় কথা সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। গাছ থেকে তরুণের দেহ নামিয়ে, দেহটি ঘিরে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ছেলের মৃত্যুতে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে পরিবার। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, নিহত ওই যুবকের নাম কে রমেশ। কিছু দিন আগে তাঁর দাদা ইদ্যাখানি এলাকাবাসী এক পরিবারের কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ২৩ অগস্টের ওই ঘটনায় বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হন মেয়েটির বাবা। ইদ্যাখানির পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ অভিযুক্ত ইদ্যাখানির দুই ভাই রমেশ ও নরেশ এবং তাঁদের মাকে থানায় আসতে বলে। কিন্তু কেউ থানায় হাজিরা দিতে যাননি বলে অভিযোগ পুলিশের।

এর পরেই বুধবার সন্ধেয় কয়েকজন পুলিশ কর্মী ইদ্যাখানির বাড়িতে আসেন। সেইসময় বাড়িতে নরেশ ও তাঁদের মা ছিল। তাঁদের পুলিশ নির্দেশ দেয়, তাঁরা যেন বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় থানায় যান। ইদ্যাখানির বাড়ি থেকে ফেরার সময়ে রাস্তায় আর এক ভাই রমেশের সঙ্গে দেখা হয় পুলিশকর্মীদের। পুলিশ জানিয়েছে, সেই সময় রমেশের বাইক কেড়ে থানায় চলে যান তাঁরা। পরের দিন সকালে গিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বলেন।

পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে থানায় যাওয়ার আগেই গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রমেশের দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, শুধু মোটরবাইক নয়, রমেশকেও থানায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। কারণ রাস্তায় রমেশের সঙ্গে পুলিশের দেখা হয়েছে, একথা জানার পর থেকে রমেশকে আর দেখতে পায়নি কেউ।

পরিবারের ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাইকসুদ্ধ রমেশকে থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করে পুলিশ। সেখানেই মারতে মারতে তাঁকে মেরে ফেলে। পরে নিজেদের দোষ ঢাকতে গাছে ঝুলিয়ে দিয়ে যায় দেহ।

তামিলনাড়ুতে বারবার এই একই অভিযোগ ওঠায় বিরোধীদের দাবি, পুলিশ আইনের পথে চলছে না। যাদের মানুষকে রক্ষা করার কথা, তারাই অত্যাচারী হয়ে উঠেছে। যারা এই বর্বরতার জন্য দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More