এই গ্রীষ্মে ভাল থাকুক ওরাও! সোশ্যাল মিডিয়ায় পাখি-স্নানের নতুন চ্যালেঞ্জ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হু হু করে বাড়ছে তাপমাত্রা। বসন্ত শেষ হয়ে গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগেই দেশের নানা প্রান্ত যেন জ্বলছে রোদের তাপে। মানুষ তো বটেই, পশুপাখিদেরও অবস্থা শোচনীয়। পরিবেশবিদেরা বলছেন, আর কয়েক দিন পরে এই অবস্থা আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে। তাপপ্রবাহ শুরু হলে বহু মৃত্যু পর্যন্ত ঘটবে।

    এই অবস্থায়, এক দল তরুণ প্রযুক্তিবিদ, যাদের কাজই হল যন্ত্রপাতি, প্রোগ্রামিং নিয়ে মাথা ঘামানো, তাঁরাই এই গ্রীষ্মে পাখিদের ভাল রাখতে নতুন এক অভিনব প্রচার শুরু করেছেন। কেরালার কোচির বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি করা এই প্রযুক্তিবিদেরা চলতি মাসের গোড়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু করেছেন, #BirdBathChallenge। অর্থাৎ, পাখিকে স্নান করানোর চ্যালেঞ্জ।

    যাঁরা পথ দেখালেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চ্যালেঞ্জ ছড়িয়ে পড়ছে, তাঁরা শুরু করার পর থেকেই। চ্যালেঞ্জটি হল, একটি বড়, পরিষ্কার, চওড়া মুখের পাত্রে জল ভরে সেটি রাখতে হবে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায়। অফিসের ব্যালকনিও হতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ তখনই সম্পূর্ণ হবে, যখন পাত্রটি মাটির হবে। এর পরে সেই জল খেতে আসবে পাখিরা। আসবে ডানা ভেজাতে। সেই ছবি তুলেই ফের পোস্ট করতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নির্দিষ্ট হ্যাশট্যাগ #BirdBathChallenge লিখে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হবে বন্ধুবান্ধব-পরিচিতদের।

    কোচির ওই প্রযুক্তিবিদদের ফেসবুক পেজ ‘প্রোগ্রেসিভ টেকিজ়’ থেকে এই ক্যাম্পেন প্রথম শুরু হয়। তাঁরা নিজেরা প্রথমে এই পদ্ধতিতে জল রেখে, পাখিদের খাইয়ে, ছবি তুলে পোস্ট করেন। তার পরেই ভাইরাল হয় এই উদ্যোগ। প্রোগ্রেসিভ টেকিজ়ের এক সদস্য অনীশ পন্থালানি বলছেন, “ফেসবুকে বহু চ্যালেঞ্জ ছড়ায়। এটা আমরা প্রথম শুরু করেছিলাম। প্রথমে আমরা নিজেরাও জানতাম না, বিষয়টা সম্ভব হবে কি না। তাই নিজেরাই পরীক্ষা করি। দারুণ আনন্দ পাই, পাখিদের খুশি হতে দেখে। তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ক্যাম্পেনিং শুরু করি আমরা।”

    এর পরেই ভাইরাল হতে শুরু করেছে এই চ্যালেঞ্জ। মাটির পাত্রে জল রেখে, সেই জলে পাখির স্নানের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে পরবর্তী পাঁচ জনকে একই কাজ করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা।

    দেখুন ফেসবুক পোস্ট।

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10157225738608619&set=basw.Abri3ndrZYtA4LvfhezNQKRJQi4PbD3E9DhytSGHsea3pnUvq1j3MlKE_lXpUF4sAK2tSVC9UZFZyXyjfBs0xEvzW5XqRHW1wiBSjO2FcrSFmtzpkMSBZ_mPyMxjy2xE0tc_YG8rCYlaX-qm3a9IHFvamRy1huuPbViazAV9w4FEGg.2404529266257851.10157225738608619.2188395951254214.460449478029037.2313606255561869&type=1&opaqueCursor=AbrIBrBVyEM_LQLHqc905oNiqvaZG5H2jOogAtDFc7P2N0HDhh4tD1m0FsUq9b-PWxNQkatO38Rz2HWUmJivy43qBdEy00b2gojqWOOSIiMs3lUR_3jTLSQc9-kpkmXYuFFUpysqgWdnqZZvWvLDcW6fqsRLpLOIg-BKnJfgBAfyTg8pN-m3M4-UUMceESMu5A6lIoc_3UXQwEaTLjnAAP7y8JX22PYjY9CC-vS7c3RMvbv5pn5NO-BK89ErzH1SbqA8Lp8XXitTlxyuZJoCPNbLEHili_daGC1-pYIwTvsN5u7WUrSt9ZKYnTsXFFO9WvdaCQKsA6sGCf2yFgCk0kS2gOtaS6Ry_tLeON3lkDSixNOSKjxt2Y5C9VO9j9432tnPkZIDxZJ-oenPb3Vkl4Jwg7bCzt-s4Oeob6QsBCX9AqOs1AahXgjgeSAO-pAyHgzQU81tz3iRYgs9mReZHFTC6mzZD7SIsTFQgCnQpM-lTxkvHzfExQIpnuxI6T7vEyAzX0C1JY39bEWqrpXYgkwCi_F026EhodaTEfuz2lzMkGm14BdxNl97wcLhVMWajMl5J-gETdWCG7s2U0xjgxPyrIbBYlJ0GZQnxD7xscoLOg&theater

    পক্ষী-বিশারদেরা বলছেন, এমনিতেই শহর অঞ্চলে গাছ-জল কমে যাওয়ায় পাখিরা অসহায় হয়ে পড়েছে। তার উপর মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যা অত্যন্ত বেড়ে যাওয়ায়, তাদের জীবন দুর্বিষহ। এই অবস্থায় গ্রীষ্মকালে পাখিরা যাও বা খাবারদাবার সংগ্রহ করে নেয়, কিন্তু জলের অভাব তাদের বড্ড বিপদে ফেলে। পাখিরা কল খুলে জল খেতে পারে না। পড়ে থাকা জলের ওপরেই নির্ভরশীল। গরমে নদী-নালা-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় সে সুযোগ থাকে না। এমন অবস্থায় যদি ছায়ার নীচে একটু করে জল রাখা যায় বড় পাত্রে, তা হলে পাখিরা এসে দু’দণ্ড জিরোতে পারে। গলা ভেজাতে পারে। সেই ভাবনা থেকে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

    প্রোগ্রেসিভ টেকিজ়ের সদস্যরা বলছেন, দক্ষিণের সুতীব্র গরম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বেশির ভাগ মানুষ তবু চাইলে এসি-র অন্দরে থাকতে পারেন। ঠান্ডা জল খেতে পারেন। কিন্তু খোলা আকাশের নীচের না-মানুষদের সে সুযোগ নেই। এক সদস্যের কথায়, “আমরা পালকে মোড়া নরম প্রাণীগুলোর কথা ভেবেছি প্রথমে। শুরু করেছি বার্ড বাথ চ্যালেঞ্জ। আশা করছি, এই গ্রীষ্মে কিছু পাখি অন্তত বাঁচবে, সুস্থ থাকবে।”

    আরও পড়ুন…

    https://www.thewall.in/kerala-man-distributes-10000-mud-pots-worth-rs-6-lakh-free-give-birds-water/

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More