রাজ্যপালের সঙ্গে ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে আলোচনা, বিতর্কে মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান

৮৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে বসেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মা। পরে কমিশন জানায়, ‘লাভ জিহাদ কেস’-এর সংখ্যাবৃদ্ধি ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন চেয়ারম্যান। এর পরেই শুরু হয় বিতর্ক।

রেখা শর্মা রাজ্যপালকে বলেছিলেন, মহারাষ্ট্রে ‘লাভ জিহাদ’ বাড়ছে। ভিন্ন ধর্মের নারীপুরুষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর পার্থক্যের ওপরে তিনি জোর দেন। দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলি ‘লাভ জিহাদ’ বলতে মুসলিম পুরুষের সঙ্গে হিন্দু নারীর বিবাহ বোঝায়। তাদের মতে, এইভাবে কৌশলে হিন্দু নারীদের ধর্মান্তকরণ করা হয়। মহিলা কমিশন থেকে রাজ্যপালের সঙ্গে রেখা শর্মার বৈঠকের ছবি টুইট করা হয়। তাতে লেখা হয়, আমাদের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোভিড সেন্টারে মহিলা রোগীদের ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহ এবং লাভ জিহাদের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে কথা হয়েছে।

এই টুইটের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেন। এক ব্যক্তি লেখেন, “জাতীয় মহিলা কমিশন ও তার চেয়ারপার্সন কি দয়া করে ব্যাখ্যা করবেন লাভ জিহাদ কাকে বলে? কয়েকটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ওই কথাটি বলে যা বোঝাতে চায়, আপনারাও কি তাই বোঝাতে চাইছেন? যদি তাই হয়, তাহলে আপনারা কি অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো অনুমোদন করছেন।”

আর এক ব্যক্তি লিখেছেন, “ব্যাপারটা খুবই আপত্তিকর। দেশে কট্টরপন্থা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। মহিলা ও সংখ্যালঘুর ওপরে ঘটে চলা অপরাধ নিয়ে উদাসীনতাও বাড়ছে। লাভ জিহাদ কথাটা ব্যবহার করা কি সংবিধানসম্মত?” ‘স্যাকরেখাশর্মা’ নামে হ্যাশট্যাগ দিয়ে অনেকে মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন। বিশিষ্ট আইনজীবী করুণা নন্দী টুইট করে বলেন, “নারীবিদ্বেষী এক মহিলাকে মহিলা কমিশনের শীর্ষে বসানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, মোদী সরকার মহিলাদের অধিকার নিয়ে আদৌ ভাবিত নয়।”

কিছুদিন আগেই তনিষ্কের একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, বিজ্ঞাপনটি ‘লাভ জিহাদে’ উৎসাহ দিয়েছিল।

ওই বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়, একজন হিন্দু যুবতীর সাধভক্ষণের অনুষ্ঠান চলছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে তাঁর শাশুড়ির তরফে। শাশুড়ির পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি অন্য একটি ধর্মের। যে যুবতীর অনুষ্ঠান চলছে তিনি প্রশ্ন করেন, এই অনুষ্ঠান তো আপনাদের বাড়িতে হয় না। তার জবাবে শাশুড়ি বলেন, এই অনুষ্ঠান কি প্রত্যেক বাড়ির তাঁদের মেয়েকে খুশি রাখার জন্য করা উচিত নয়?

এই বিজ্ঞাপনের পরেই শুরু হয় বিতর্ক। অনেকেই অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়েছে। কেউ আবার অভিযোগ করেন এর মাধ্যমে লাভ জিহাদের প্রচার করা হচ্ছে।

তনিষ্ক টাটা গ্রুপের গয়না সংস্থা। তাই রতন টাটার বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ দেখান অনেকে। এমনকি এই ঘটনার পরে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারে পতন হয়েছে টাটা গোষ্ঠীর। তাই ওই বিজ্ঞাপনকে তুলে নিয়েছে তারা। তারপরেও বিতর্ক থামার নাম নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More