অসমের মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির চেষ্টা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি প্রশ্ন করেছিল অসম সরকারকে। মুখ্য সচিব তার জবাব দিতে না পারায় সোমবার রাজ্য সরকারকে তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অসন্তুষ্ট হয়ে অসমের মুখ্য সচিবের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সলিসিটর জেনারেলের অনুরোধে করেননি।

    এদিন শুনানির সময় অসম সরকার স্বীকার করে, রাজ্যে ৭০ হাজার অভিবাসী স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তাদের বিদেশী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করে, কোন পদ্ধতিতে স্থানীয় মানুষের থেকে বিদেশীদের আলাদা করে চেনা গেল? কিন্তু অসম সরকার এই প্রশ্নের যথাযথ জবাব দেয়নি। আদালত সলিসিটর জেনারেলকে বলে, আপনারা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তার কোনও মানে হয় না। আপনারা নিছক টালবাহানা করছেন।

    সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিষয়টি ফের শুনানির জন্য উঠবে আগামী সোমবার। সেদিন অসমের মুখ্য সচিবকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। গত বছর জুলাই মাসে অসমে খসড়া জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়। তাতে রাজ্যের ৩ কোটি ২৯ লক্ষ বাসিন্দার মধ্যে ৪০ লক্ষকে অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার বলেছিল, এখনও পর্যন্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশ হয়েছে মাত্র। তাতে যাঁদের নাম আছে, তাঁরা যদি উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে পারেন, অনুপ্রবেশকারীর তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ যাবে।

    ১৯৫১ সালে অসমে প্রথম জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই পঞ্জি সময়োপযোগী করে তোলা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও একই দাবি জানিয়েছিল। নাগরিকপঞ্জি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যে বসবাসকারী বিদেশীদের চিহ্নিত করা। তাদের বেশিরভাগই এসেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে।

    ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহু সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে অসমে চলে আসতে থাকেন। পূর্ব পাকিস্তানে অশান্তি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পৃথক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু তার পরেও অনুপ্রবেশকারীর স্রোত অব্যাহত থাকে।

    আটের দশকের শুরুতে অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বেআইনি অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে স্মারকলিপি দেয়। তাতে বলা হয়েছিল, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অসমে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এর ফলে চাপ পড়ছে রাজ্যের অর্থনীতিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More