জয়ের ভিত গড়ল সেই ঋদ্ধিমানই, কোহলিদের কফিনে শেষ পেরেক হোল্ডারের

১,৫৫০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

চলতি আইপিএলে একটা অন্য বিষয় লক্ষ্য করছি। টুর্নামেন্ট যত ছোট হয়ে আসছে, ততই দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ম্যাচে লো স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে। এর একটাই কারণ, উইকেট খুবই স্লো হয়ে যাচ্ছে, এই উইকেটে মারতে গেলে আউট হয়ে যাবে ব্যাটসম্যানরা। তাই বাড়তি সতর্কতা নিতে গিয়েই ইনিংস স্লথ হয়ে যাচ্ছে।

তার মধ্যে বিরাট কোহলির কাছে এই ম্যাচে নায়ক হওয়ার সব মঞ্চই সাজানো ছিল। আমি ভেবেছিলাম কোহলি দারুণ একটা ইনিংস খেলে দলের রানকে ১৬০-১৭০ নিয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কী! সাত রানের মাথায় অহেতুক তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সন্দীপ শর্মার বলে উইকেট দিয়ে চলে গেল। কোহলি যখন নেমেছিল ব্যাটিং করতে, সেইসময় প্রায় ১৭ ওভার বাকি ছিল। ধীরে সুস্থে খেললে দলের রানকে চ্যালেঞ্জিং জায়গায় নিয়ে যেতে পারত।

ব্যাঙ্গালোর দলটি কোহলি ও ডি’ভিলিয়ার্সের ওপর এবারও সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। তাই এবি-র কাছেও এই ম্যাচটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই মতো টানছিল ইনিংস, ২৭ বলে ২৭ রান করে শাহবাজ নাদিমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেল।
সেদিক থেকে হায়দরাবাদ দলটিকে বেশ ভাল লেগেছে। দলটি শুরুতে কেমন কোনঠাসা ছিল, তারপর যত এগিয়েছে টুর্নামেন্ট খোলস ছেড়ে বেরিয়েছে। আমাদের ঋদ্ধিমান সাহা তো অসাধারণ, গত ম্যাচেই ছন্দ পেয়েছিল। এই ম্যাচেও সেটি জারি ছিল। ভাল লাগত যদি না তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে উইকেট না দিয়ে চলে আসত। জিতে মাঠ ছাড়লে আরও আনন্দ পেতাম। তবুও দলের জয়ের ভিত ঋদ্ধিই গড়ে দিয়ে গিয়েছে। ৩২ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে রয়েছে চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। সেই কারণেই আরসিবি-র ১২০/৭-র এর জবাবে তাদের দল প্রায় ছয় ওভার আগেই ১২১ রান করে খেলা শেষ করে দিতে পেরেছে।

আর শেষদিকে জেসন হোল্ডার তো এককথায় সাইক্লোনের মতো ব্যাটিং করে গেল। ১০ বলে ঝোড়ো ২৬ রানের ইনিংসে রয়েছে তিনটি ছয় ও একটি চার। একমাত্র যজুবেন্দ্র চাহাল ছাড়া বাকিদের নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে হোল্ডার। সুন্দর, নভদীপ, মরিসদের উড়িয়েছে ঋদ্ধিও, শেষদিকে হোল্ডারও। এমনকি মনীশ পান্ডেও (১৯ বলে ২৬) দুরন্ত খেলেছে।
এবার আইপিএলে শেষ তিনটি স্থানের জন্য কোন দল যাবে, সেই নিয়ে তর্ক হবে রাতভর। কোহলিরা হেরে ১৩ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলে কী হবে তাদের মতোই ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বসে রয়েছে দিল্লি। আবার হায়দরাবাদ জিতে ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে চলে এল। ১২ পয়েন্ট নিয়ে মোট চারটি দল ঘাড়ে শ্বাস ফেলছে। কী হবে শেষমেশ কে জানে! কাল অবশ্য কেকেআরকে জিততেই হবে, না হলে এবারের মতো বিদায় নেবে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর : আরসিবি ২০ ওভারে ১২০/৭। জোস ফিলিপ ৩২, ডি’ভিলিয়ার্স ২৪, কোহলি ৭, সন্দীপ ২/২০, হোল্ডার ২/২৭।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৪.১ ওভারে ১২১/৫। ঋদ্ধিমান ৩৯, হোল্ডার ২৬, চাহাল ২/১৯।
সানরাইজার্স জয়ী পাঁচ উইকেটে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More