রবিবার, জুলাই ২১

শিলিগুড়ির বুকে যেন ছোট্ট এক টুকরো অসম, হাটে জমজমাট বিকিকিনি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের মধ্যেই ফুটে উঠল এক টুকরো অসম রাজ্য। অন্য দিনের মতো সকাল সকাল বাজার করতে এসে অনেকেই ভেবে বসেছিলেন, যেন অসমেরই কোনও এক ছোট্ট গ্রামে চলে এসেছেন তাঁরা। অসমের বাঁশের ঝাঁপি, অসমে তৈরি সুতোর পোশাক, নানা অসমিয়া খাবারের সমাহারে বাংলা-‌অসম যেন মিশে গেল শিলিগুড়ির চার্চ রোডে ‘‌সানডে হাটে’‌।

তবে এ দিনই প্রথম নয়। ইতিমধ্যেই শহরবাসীর মন করেছে করেছে এই হাট। প্রতি রবিবার চার্চ রোডে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল প্রাঙ্গণে এই হাট বসে। যেখানে জৈব শাক-সবজি, নানা রাজ্যের খাবার নিয়ে হাজির হন চাষী, ব্যবসায়ীরা। এই হাটে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। পরিবেশ দূষণ হবে এমন কোনও কাজ যেমন বিক্রেতারা করেন না, তেমনই খদ্দেরদেরও সতর্ক থাকতে হয় সে বিষয়ে।

আয়োজকরা জানাচ্ছিলেন, তাঁদের তরফে প্রতি মাসের কোনও এক রবিবার স্পেশ্যাল কোনও এক থিমের উপর এই হাটের আয়োজন করা হয়। গত মাসে যেমন স্ট্রবেরি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছিল হাটে। ঠিক তেমনই, এই রবিবারের থিম ছিল ‘‌অসম’‌।

এ দিন অসমের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি থেকেও অনেকে অসমে তৈরি সুতোর পোশাক, অলঙ্কার নিয়ে হাজির হন। অন্যতম আয়োজক সংযুক্তা বসু বলেন, “১৫ জন বিক্রেতা আমাদের হাটে এসেছিলেন। সকলেই খুব খুশি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো অবধি হাট চলে। বেলা সাড়ে ১২ টার মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে গেছে। অসমের বিভিন্ন প্রান্তের নানা জিনিসকে একত্রিত করে তা শিলিগুড়িবাসীর হাতে তুলে দেওয়াই চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের। খুব ভাল সাড়া পেয়েছি। আগামী মাসে পাহাড়ের সংস্কৃতিকে হাটের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।”

এ দিন হাটে অসমের তৈরি গামছার ছাতা, সেখানকার বিশেষ এক সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি কাঁসার বাসনপত্র বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। এ ছাড়াও অসমের পিঠে, নাড়ু ছাড়াও আরও নানা খাবার মন জয় করে নেয় শিলিগুড়িবাসীর। তিন ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ স্টলের সমস্ত সামগ্রী বিক্রি হয়ে যাওয়ায় উচ্ছসিত ছিলেন সকলেই।

জলপাইগুড়ি থেকে আসা এক বিক্রেতা দোলা গুহ বলেন, “ছোটবেলায় অসমে থেকেছি। সেখানকার সঙ্গে একটা সম্পর্ক রয়েছে। তাই গত কয়েক বছর ধরে সেখানকার সুতোয় আধুনিক পোশাক তৈরি করছি। সানডে হাটে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি।”

Comments are closed.