মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

সফল প্রতিস্থাপন, মুম্বইয়ের কিশোরের হার্ট বসল কলকাতার ৪৪ বছরের রোগিণীর দেহে

  • 154
  •  
  •  
    154
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায়, গ্রিন করিডোর তৈরি করে মাত্র ১৬ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছেছিল হদ্পিণ্ড। তার আগে সেই হৃদ্পিণ্ডকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল মুম্বই থেকে। শেষমেশ ভোর রাত পর্যন্ত চলা প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারকে ‘সফল’ বলে ঘোষণা করলেন চিকিৎসকেরা। যদিও ৪৪ বছরে অনুষা অধিকারী অস্ত্রোপচারের পরে এখনও ভেন্টিলেশনে আছেন। ৪৮ ঘণ্টা না গেলে বিপন্মুক্ত নন তিনি।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মুম্বইয়ের বাসিন্দা, ১৬ বছরের এক কিশোর গত ২৬ মে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি ছিল মুম্বইয়ের গ্লোবাল হসপিটালে। গত কাল, ২৮ মে, হাসপাতালের তরফে তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, পরিবারের সম্মতিক্রমে প্রতিস্থাপনের জন্য বের করে নেওয়া হয় তাঁর হৃদ্পিণ্ডও। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল ফর্টিসে, হার্টের গুরুতর অসুখ ডায়লেটেড কার্ডিও মায়োপ্যাথি নিয়ে ভর্তি ছিলেন দমদমের বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সি অনুষা অধিকারী। তাঁরই শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য আসে ওই কিশোরের হার্টটি।

অনুষা অধিকারী।

রাত সওয়া দশটা নাগাদ মুম্বই থেকে যথাসাধ্য দ্রুততায় হাসপাতালে হৃদ্পিণ্ডটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত গ্রিন করিডোর তৈরি হয় বিধাননগর পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের সমন্বয়ে। রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সব থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি-রা। হৃদ্পিণ্ডটি ফোর্টিস হাসপাতালে পৌঁছে যায় ১০.৩৮-এর কয়েক মুহূর্ত পরে, মাত্র ১৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে। শুরু হয় হৃদ্পিণ্ড প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়া।

দেখুন ভিডিও।

Green Corridor

ট্র্যাফিকের গ্রিন করিডর, ১৬ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে বাইপাসের হাসপাতালে পৌঁছে গেল হৃৎপিণ্ড মুম্বইয়ের বাসিন্দা ১৭ বছরের এক কিশোর গত ২৬ মে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি ছিল মুম্বইয়ের গ্লোবাল হসপিটালে। গতকাল (২৮ মে ) হাসপাতালের তরফে তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, পরিবারের সম্মতিক্রমে প্রতিস্থাপনের জন্য বের করে নেওয়া হয় তাঁর হৃৎপিণ্ডও। কলকাতার ফোর্টিস হাসপাতালে গুরুতর অসুখ নিয়ে ভর্তি দমদমের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী অনুষা অধিকারীর শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য।গতকাল রাত ১০.১৫ নাগাদ হৃৎপিণ্ডটি মুম্বই থেকে বিমানে এসে পৌঁছয় কলকাতায়। এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তৎপরতায় ১০.২২-এ রওনা হয়ে যায় ফোর্টিস হসপিটালের উদ্দেশ্যে।যথাসাধ্য দ্রুততায় হাসপাতালে হৃৎপিণ্ডটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত গ্রিন করিডর তৈরি হয় বিধাননগর পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের সমন্বয়ে। রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সব থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি-রা। হৃৎপিণ্ডটি ফোর্টিস হাসপাতালে পৌঁছে যায় ১০.৩৮-এর কয়েক মুহূর্ত পরে, মাত্র ১৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে। শুরু হয় হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া। ওই কিশোরের পরিবারকে সমবেদনা শুধু নয়, শ্রদ্ধা জানাই। দ্রুত আরোগ্য কামনা করি গ্রহীতা অনুষা অধিকারীর। শ্রদ্ধা সেই চিকিৎসকদের, যাঁরা সম্পন্ন করলেন প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া।কলকাতা পুলিশের এলাকায় চিংড়িহাটা থেকে ফোর্টিস পর্যন্ত 'গ্রিন করিডর'-এর যাত্রাপথের একটি ভিডিও রইল।

Kolkata Police এতে পোস্ট করেছেন মঙ্গলবার, 28 মে, 2019

মুম্বই থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে খবর আসার পরে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও জাতীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংগঠন রোটো-র তরফে সবুজ সঙ্কেত পেয়েই হার্টটি কলকাতায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। চরম তৎপরতার সঙ্গে সারা হয় গোটা পদ্ধতি।

কার্ডিওথোরাসিক ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. তাপস রায়চৌধুরির নেতৃত্বে রাত তিনটের দিকে শেষ হয় অস্ত্রোপচার। ফর্টিসে এই নিয়ে চতুর্থ হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট হল। শহরে অষ্টম। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তবে রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। এই ধরনের অস্ত্রোপচারে কখন কোন সংক্রমণ হয়, বলা যায় না।

তবে এই ধরনের ঘটনা অঙ্গদানের সচেতনতাকে আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন…

মুম্বই থেকে উড়ে এল হার্ট, গ্রিন করিডরে পৌঁছল হাসপাতাল! শহরে চলছে অষ্টম হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন

Comments are closed.