শনিবার, ডিসেম্বর ১৫

নারীর সাফল্যই সবার সাফল্য? প্রশ্ন আলোচনা সভার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে প্রতি দু’মিনিটে নির্যাতিতা হন একজন মহিলা। প্রতি আধ ঘন্টায় ধর্ষণ করা হয় কাউকে। ছাড়া পায় না শিশুরাও। রম রম করে চলছে কন্যা ভ্রুণ হত্যা। পণের জন্য বধূনির্যাতন সেও তো এই দেশে খুব সাধারণ।

আবার পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এই কাঠামোর ভেতরেই এগিয়ে আসছেন মহিলারা। ছুঁয়ে ফেলছেন সাফল্যের শিখর। অ্যাথলিট হিমা দাস থেকে কর্পোরেট সাফল্যের উচ্চতম আসনে বসা ছন্দা কোচর বা কিরণ মজুমদার শ। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি হোক বা অন্য পেশা মহিলারা এখন পুরুষদের অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে প্রায়শই।

মহিলাদের এই সাফল্য নিয়েই কলকাতায় একটা আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলেন সাই শিখা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও অ্যানেক্স কলেজ অব ম্যানেজমেন্ট। বিষয় – একজন মহিলার সাফল্যই আসলে সবার সাফল্য।

আলোচনার শুরুতেই চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা অরিন্দম শীল আনলেন মা দুর্গার প্রসঙ্গ। অসুরকে বধ করতে না পেরে অন্য পুরুষ দেবতারাই তো সৃষ্টি করেছিলেন দশভূজার। যুদ্ধে সেই দেবীর সাফল্যই হয়ে উঠেছিল পুরুষ দেবতাদের সফলতার পরিচয়। তবে তারপরও অরিন্দমের প্রশ্ন এই আলোচনা সভার বিষয় নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তুলছেন, কেন বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও মহিলাদের সাফল্যকে আলাদা করে দেখতে হবে? কেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে আজও বারংবার মহিলাদের সম্মান করতে শেখাতে হবে।

নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায় টেনে আনলেন, তৃতীয় লিঙ্গের প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য তৃতীয় লিঙ্গ তো আরও নীপিড়িত। সমাজ তাঁদের কোন দোষ ছাড়াই প্রান্তিক করে দেয়। তাঁর আরও প্রশ্ন, কেন আজকের দুনিয়াতে দাঁড়িয়েও একজন পুরুষ এবং নারীর কাজকে আলাদা করে দেখা হবে?

ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল প্রশ্ন করলেন আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকেই। একজন মহিলা কী কাজ করবেন বা করবেন না, কীভাবে কথা বলবেন, কী পোশাক পরবেন, সেইগুলো নিয়ে সমাজের অনুশাসনের কি আদৌ কোনও যৌক্তিকতা আছে? অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা কে জে রাও, এআইএমএ’র প্রাক্তন ডিজি এস সি মোহন এবং আর্বানার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবযানী মুখোপাধ্যায়।

Shares

Leave A Reply