জি বনাম জলসা লড়াইয়ে ‘দাদা’ কিন্তু একজনই, শো মানেই শুভঙ্কর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ জোর লড়াই। দুই পক্ষই বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়ে টিভি ময়দানে। টিভি দর্শকদের সত্যিই এ এক টনাপোড়েনের দিন। একদিকে ‘সুপার সিঙ্গার সুপার অডিশন’। টানা দশ ঘণ্টা ধরে দেশের ও রাজ্যের তাবড় সঙ্গীত শিল্পীদের মহাসঙ্গম স্টার জলসায়। পৌষের রবিবাসরীয় দুপুর থেকে রাত জমজমাট আসরে নতুন নতুন শিল্পীদের বাছা হবে। দেখা হবে অনেক সম্ভাবনার সঙ্গে। সেই সঙ্গে বাড়তি বিনোদন তো নিশ্চিত থাকবে। কারণ, এই অনুষ্ঠানের মূল মাথাটির নাম শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়।

    আবার ওদিকেও চলছে ১২ তারিখে ১২ ঘণ্টার জি-বাংলা আসর। সেখানে নাচে গানে ২০২০ মহোৎসব শেষ হতে না হতেই ‘প্যান্থার’ ছবির টিভি প্রিমিয়ার। আর তার পরে পরেই চ্যানেলের পাঁচ টিআরপি টানা সিরিয়ালের মহাসংগ্রাম। তবে আসল আকর্ষণ তো রাত সাড়ে আটটা থেকে। দাদাগিরির সেটে মহারাজকে সেলাম জানাতে চাঁদের হাট। দাদাগিরি মানে শুধুই তো ক্যুইজ নয়, ফাঁকে ফাঁকে দেদার মজা। গুগলি, দুসরা ছাপিয়ে সুপার হিট শোয়ের সুপার হিট ধামাকা। সুপার স্পেশাল এপিসোড।

    এই এপিসোডে সৌরভের সঙ্গে থাকছেন দিকপাল ছয় ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ, জাহির খান, হরভজন সিং, মহম্মদ কাইফ। সঙ্গে জাতীয় দলের একমাত্র সক্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে রবিবারের এপিসোডে হাজির থাকবেন ফিঙ্গার স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এর পরে আবার গানে ঊষা উত্থুপ, দালের মেহেন্দি আর বাংলাদেশের নোবেল।

    আরও পড়ুন: বাঙালি হিপোক্রিট, মীরাক্কেলের জনপ্রিয়তাই সেটা বলে দেয়: শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়

    এই ধামাকার সঙ্গে বাঙালি পরিচিত। একের পর এক দাদাগিরির সিজনে অনেক স্পেশাল এপিসোড দেখিয়েছেন দাদা। না ‘দাদা’ শুধু সৌরভ নন, এই শোয়ের পরিচালক, প্রযোজক শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ও।

    তাই নিঃসঙ্কোচে বলাই যায় ১২ জানুয়ারির বিনোদনে মূল আকর্ষণ দাদা শুভঙ্কর। তাঁর কাঁধে ভর দিয়েই জি বনাম জলসার টিআরপি যুদ্ধ।

    গত বেশ কিছুদিন ধরেই নানা জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালের হাত ধরে টিআরপি যুদ্ধে অনেক অনেক এগিয়ে জি বাংলা। কিন্তু এদিনের লড়াইটা সামনা সামনি। ওয়ান ডে ম্যাচ। আর তাতেও দুই পক্ষেরই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানটির নাম শুভঙ্কর।

    কিন্তু কেন? তাঁর উপরে এত আস্থা কেন? উত্তর একটাই– তিনি সাফল্য দেখিয়েছেন, সাফল্য পেয়েছেন। তিনি জানেন বাঙালি টেলিভিশন দর্শক কী চায়। তিনি চেনেন বাঙালিকে। তাই তাঁর হাত দিয়ে একদিকে ‘মীরাক্কেল’ বেরতে পারে আবার ‘দাদাগিরি’ বেরতে পারে। আবার তিনিই জানেন ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-কে হিট থেকে সুপার হিট বানাতে কেন মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ভূতকেও হাজির করতে হয়।

    দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার এখনও বিশ্বাস বাংলার দর্শক যাঁরা নাচের শো দেখেন, তাঁরা আসলে নাচ দেখেন না। দেখেন সুন্দর সুন্দর মুখের বাচ্চাদের। সুন্দর পোশাকগুলো। আর তার থেকেও বেশি কতটা মজা আছে। কতটা হাসি-আনন্দের উপাদান আছে সেটা।”

    এক সময়ে কবিতা লিখতেন। একাধিক কাব্যগ্রন্থও রয়েছে তাঁর। নাটকও লিখতেন। বানিয়েছেন সিরিয়াল, সিনেমা। কিন্তু এখন তিনি মানে বাংলা রিয়্যালিটি শো। আবার বাংলা শো মানেই শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তিনি সাফল্য পেতে জানেন। সাফল্য টিকিয়ে রাখার তাগিদটাকেও চেনেন।

    ওই সাক্ষাৎকারের একটি প্রশ্নের উত্তরে সেই সত্যটা বলেছিলেন শুভঙ্কর। “আমি এখন ডিরেক্টর-প্রোডিউসার। আমাকে অনেক কিছু ভাবতে হয়। কজন কাজ করছে আমার সঙ্গে। আমার কাজের ওপরেই তো তাদের রুজি রোজগার নির্ভরশীল। আমার শো যদি পর পর তিনবার ফ্লপ করে আমাকে কেউ আর কাজ করতে ডাকবে না। আমি একা ডুবব না। আমার সঙ্গে এতজন সবাই ডুববে। আমার বাবা ছিলেন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক। আমি জানি অর্থনীতি কাকে বলে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More