বর্ধমানের রোভার আন্তর্জাতিক আসরে, ফের চমক দেখাল বাংলার কিশোর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দেবার্ক ভট্টাচার্য

    হেলমেট না পরলে হবে না বাইক স্টার্ট, সেই চমকের পর নতুন আবিষ্কার আবিরের। তখন সবে নবম শ্রেণি, তখন সবে পনেরো। এক আশ্চর্য হেলমেট তৈরি করেছিল বর্ধমানের ছেলে আবির ঘোষ। যেটা না পড়লে বাইক স্টার্টই নেবে না।

    লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকেই বিজ্ঞান চর্চা যেন খেলা কিশোর আবিরের কাছে। আর সেই খেলার ছলেই আবিষ্কার হয়েছিল পথ দুর্ঘটনা রোধের এক বড় হাতিয়ার। স্কুলের মাস্টারমশাই থেকে গন্যমান্যরা ধন্য ধন্য করেছিলেন। সেই আবির এবার নতুন রং ছড়াল। এবার সে চন্দ্রযান দুইয়ের রোভার প্রজ্ঞানের আস্ত একটা মডেল তৈরি করে ফেলেছে। কলকাতায় ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স ফেস্টিভ্যালে সবাইকে হাতে কলমে দেখাচ্ছে নিজের হাতে তৈরি প্রজ্ঞানের কেরামতি।

    সায়েন্স সিটিতে ফেস্টিভ্যালের এক্সপোতে দেখা হল আবিরের সঙ্গে। নীল জামা আর খাঁকি প্যান্টের সাদামাটা ছেলেটা সাবলীল ভাবে দর্শকদের বুঝিয়ে দিচ্ছে, কেমন করে কাজ করবে তার প্রজ্ঞান।

    সায়েন্স এক্সপোর টেবিলে বর্ধমানের বরশুল সিডিপি হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আবির ঘোষের ‘প্রজ্ঞান’। পাশে দাঁড়িয়ে আবির দেখাল আর শোনাল প্রজ্ঞানের ক্ষমতা। রিমোট চালিত সেই রোভারের ক্যামেরার কাজ করছে একটি মোবাইল। কী ভাবে এই মডেল রোভার কাজ করে তা হাতে কলমে দেখাল সায়েন্স সিটির উঠোনে। আন্তর্জাতিক আসরে চলল বর্ধমানের রোভার। ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলা হচ্ছে, উল্টে গিয়েও সোজা হয়ে উঠছে প্রজ্ঞান। আবিরই জানাল, এর মধ্যে একটা হাইড্রলিক সিস্টেমও রয়েছে।

    এই মডেল বানিয়ে এই ফেস্টিভ্যালে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল আবির। তার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স হয়। তখনই তাকে দেখাতে হয় কী ভাবে কাজ করবে ওর প্রজ্ঞান। যে প্রজ্ঞানের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান দুইয়ের সফট ল্যান্ডিং না হওয়ার স্বপ্নভঙ্গের দিনে। গোটা দেশ সেদিন কষ্ট পেয়েছিল। আর মনে মনে একটা সফল প্রজ্ঞানের মডেল বানানোর শপথ নিয়েছিল আবির। সেই স্বপ্ন, দিনের পর দিন ঘুম কেড়ে নিয়েছিল শান্ত কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত ছেলেটার। আর সেই ঘুম ছুটে যাওয়া স্বপ্নটাই জন্ম দেয় এই প্রজ্ঞানের। এবার সেই স্বপ্নপূরণের গল্পটা শুনছেন দেশ বিদেশ থেকে আসা বিজ্ঞান ফেস্টিভ্যালের প্রতিনিধিরা।

    কিন্তু সেই হেলমেটটা নিয়ে আসতে পারেনি আবির। ক্লাস নাইনে পড়ার সময়ে যা তৈরি করে চমকে দিয়েছিল সে। কিছুদিন আগে থেকে সেই হেলমেটের সেন্সারটা আর কাজ করছে না। তা নিয়ে অবশ্য মনকষ্ট নেই আবিরের। সে যে নতুন নতুন চমকের স্বপ্ন দেখতে জানে।

    আরও পড়ুন

    বিজ্ঞান নুডলস-পিৎজা নয়, এখানে ফটাফট সংস্কৃতি চলে না: মোদী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More