বাংলাদেশে বস্ত্র কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অবরোধ, উদ্বিগ্ন সরকার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাংলাদেশে ফের আসার পরেই বড় ধরনের শ্রমিক বিক্ষোভের মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। গত এক সপ্তাহ ধরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বস্ত্র কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক। মঙ্গলবার বিক্ষোভের মধ্যে মারা যান সুমন মিয়াঁ নামে এক শ্রমিক। সহকর্মীদের দাবি, তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। এর পরে মঙ্গলবারই শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সেখানে বলা হয়, বিক্ষোভের নামে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার পরেও বুধবার ফের শুরু হয়েছে শ্রমিক বিক্ষোভ।

    এদিন সকালে মিরপুরের কালশিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। দক্ষিণখান এবং সাভারে তাঁরা পথও অবরোধ করেন। পল্লবী থানার সাব ইনস্পেক্টর তামিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এদিন সকাল ন’টা নাগাদ কালশিতে ২২ তলা গারমেন্ট ফ্যাক্টরির সামনে শ্রমিকরা জড়ো হন। তারপর থেকে এলাকায় যানবাহন থেমে রয়েছে। আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলতে চাইছি।

    বাংলাদেশে মোট ৪৮২৫ টি গারমেন্ট ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে কাজ করেন ৩৫ লক্ষ শ্রমিক। তাঁদের ৮৫ শতাংশ মহিলা। তাঁরা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে রফতানি করার জন্য বস্ত্র উৎপাদন করেন। বাংলাদেশের রফতানি বাবদ যে আয়, তার ৮০ শতাংশ থাকে বস্ত্র থেকে। কিন্তু সাধারণভাবে শ্রমিকদের বেতন খুব কম। তাঁদের বেশিরভাগ মাসে ৩ হাজার বাংলাদেশী টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা বেতন পেলে মানুষ জীবনধারণের মৌলিক বস্তুগুলি, যথা খাদ্য, আশ্রয় ও শিক্ষা পেতে পারে।

    কম বেতনের পাশাপাশি বস্ত্র কারখানাগুলিতে কাজের পরিবেশও খুব খারাপ। শ্রমিকেরা বেশিরভাগ দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হন। অনেককে সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করতে হয়। কোনও অফ ডে নেই। অনেক শ্রমিকের কাজ শেষ হয় রাত তিনটেয়। পরদিন ফের সাড়ে সাতটায় তাঁরা কাজ শুরু করেন। তাঁরা ছোট জায়গায় অনেকে মিলে কাজ করতে বাধ্য হন। সেখানে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা থাকে না প্রায়ই। শ্রমিকেরা প্রায়ই আহত হন। ঘন ঘন কারখানাগুলিতে আগুন লাগে। ১৯৯০ সাল থেকে মোট ৫০ বার বস্ত্র কারখানায় আগুন লেগেছে। ৪০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন।

    গতবছর জানুয়ারি মাসে গারমেন্ট ওয়ার্কারদের বেতন নির্ধারণ করার জন্য সরকার ওয়েজ বোর্ড তৈরি করে। সেপ্টেম্বরে বোর্ড সুপারিশ করে, বস্ত্র কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৮ হাজার টাকা করা হোক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More