মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

‘স্ট্রেস’ কিন্তু মাইগ্রেন অ্যাটাক বাড়িয়ে দেয়

‘মাইগ্রেন’-এর যন্ত্রণা যাঁরা ভোগ করেন, তাঁরাই জানেন এটা সহ্য করা কতটা কঠিন।  এতে কোনও কিছুই ভালোলাগে না, এক এক সময়।  শব্দ, আলো, লোকজন সবকিছু ছেড়ে অন্ধকার ঘরে চোখ বুজে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে এই রোগের জ্বালায়।  কী করবেন , কী করবেন না এই রোগে।  কী ভাবেই বা এই রোগ নির্ণয় করা হয়, সবকিছু নিয়েই ‘দ্য ওয়াল’ কথা বলল বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডঃ শৌমিক সরকারের সাথে।

দ্য ওয়াল: মাইগ্রেন এর লক্ষণ কী কী? কেন হয় মাইগ্রেন?

ডঃ সরকার: মাইগ্রেনের রোগীদের সাধারণত মাথার ও কপালের একপাশে ব্যথা করে।  অনেকসময় ব্যথা সম্পূর্ণ মাথা জুড়েও হতে পারে।  ব্যথার তীব্রতা মাঝারি থেকে গুরুতর হতে পারে।  মাথা ব্যথা সাধারণত চার ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং কাজকর্ম করলে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।  মাথাব্যথার সঙ্গে বমি অথবা বমি বমি ভাব থাকতে পারে।  আলো, আওয়াজ বা গন্ধ অসহ্য লাগতে পারে।
কেন হয় সেই অর্থে ব্যাখ্যা করা যায় না, তবে মাথার ভিতরের ধমনীগুলো এই ব্যথার শুরুতে স্ফীত হয়ে যায়।  মাথার ভিতরের রক্তপ্রবাহে প্রভাব পড়ে এ সময়ে।

দ্য ওয়াল: মাইগ্রেন রোগ নির্ণয়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা হয়?

ডঃ সরকার: মাইগ্রেনের জন্য সাধারণত কোনও টেস্ট করাতে হয় না।  যে ক্ষেত্রে মাইগ্রেন হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়, সেক্ষেত্রে আপনার মাথার সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করে ডাক্তাররা বুঝতে পারেন, ঠিক কী সমস্যা রয়েছে।

দ্য ওয়াল: মাইগ্রেন রোগের চিকিৎসায় কী ধরণের ওষুধ ব্যবহৃত হয়? 

ডঃ সরকার
: সাধারণত দু রকমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়।  প্রথমটা তাৎক্ষণিক ভাবে মাথা ব্যথা থেকে আরাম পেতে দেওয়া হয়।  দ্বিতীয়টা মাথা ব্যথা আটকানোর জন্য দেওয়া হয়।

আরও জানুন, কী বলছেন ডাক্তারবাবু


দ্য ওয়াল: মাইগ্রেনের ব্যথায় দোকান থেকে ব্যথার ওষুধ কিনে নিজের ইচ্ছে মতো খাওয়া যেতে পারে?

ডঃ সরকার
: না খাওয়াই ভালো।  প্রথমত শরীরের ওপর বাজার চলতি পেনকিলারের অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।  দ্বিতীয়ত খুব ঘন ঘন এই ওষুধ গুলো খেলে আরও এক রকমের মাথাব্যথা যোগ হতে পারে।  যার নাম medication overuse headache. তাই একটা ব্যথা আটকাতে আরেকটা ব্যথা ডেকে আনার কোনও দরকার নেই।

দ্য ওয়াল: মাইগ্রেন রোগের চিকিৎসায় জীবনশৈলী পরিবর্তনের কি কোনও ভূমিকা আছে?

ডঃ সরকার
: অবশ্যই আছে।  স্ট্রেস মাইগ্রেন অ্যাটাক বাড়িয়ে তোলে।  সুতরাং যোগ ব্যায়াম, ধ্যান, ইত্যাদি অভ্যাস করতে পারলে মাইগ্রেন থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া যেতে পারে।   পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমোলেও মুশকিল বাড়তে পারে।  তাই যতই ব্যস্ত থাকুন, সময় মেনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর চেষ্টা করবেন।

দ্য ওয়াল: খাদ্যাভাসের সাথে মাইগ্রেনের কোনও সম্পর্ক আছে কি?

ডঃ সরকার
: হ্যাঁ আছে।  কিছু খাবার যেমন অতিরিক্ত চা কফি, মদ্যপান মাথা ব্যথা বাড়িয়ে তোলে।  চিজ়, চকোলেট, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্ট ফুড মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়াতে পারে।  তাই কারও মাইগ্রেন থাকলে, এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।  সঠিক সময়ে খাবার এবং জল না খেলেও এই সমস্যা হতে পারে।  তাই অযথা অনেকটা সময় গ্যাপ দিয়ে দিয়ে না খাওয়াই ভালো।

দ্য ওয়াল: আবহাওয়ার সাথে মাইগ্রেনের কোনও যোগ আছে কি?

ডঃ সরকার
: আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে মাইগ্রেনের আক্রমণ হতে পারে।  রোদ্দুরে বের হলেও মাথাব্যথা হতে পারে।  সুতরাং ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়

Comments are closed.