বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

অহনা থেকে বকুল হয়ে ওঠা………..আমার জীবনেরই গল্প

 

সোহিনী চক্রবর্তী

বসা হয়েছিল এক সন্ধের আড্ডায়। সামনে ধূমায়িত ক্যাপুচিনো। সঙ্গে চকলেট কেক। কেকে আলতো কামড় দিয়েই একগাল হাসি দিল বকুল। থুড়ি, উষসী। বলল, “আমি কিন্তু এসবের উপরেই বেঁচে আছি। চেহারা দেখলে বোঝা যায় না বটে। তবে ডায়েটিংয়ে আমি একদম নেই।”

এর পর শুরু হলো আড্ডা। ধীরে ধীরে জানা গেল আশুতোষ কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তনীর জীবনের নানা গল্প।

  • অহনা থেকে বকুল হয়ে ওঠার জার্নিটা কেমন লাগছে উষসী?
  • সত্যি বলছি ভীষণ এনজয় করছি। এই জার্নিটা না ভীষণ ভাবে আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে। দেখো ‘মিলন তিথি’ ছিল টেলিভশনে আমার প্রথম কাজ। আর ডেবিউয়ের ক্ষেত্রে যা হয় আর কি। আমি ঠিক অহনার মতোই ভীতু ছিলাম। লোকজনকে বিশ্বাস করে ঠকে যেতাম। হয়তো অন্যায় হলেও প্রতিবাদ করতে পারতাম না। এর পর ‘মিলন তিথি’ শেষ হলো। গোটা জার্নিতে আমি পরিণত হলাম। দু’মাসের মধ্যেই জয়েন করলাম ‘বকুল কথা’-তে। আর এখন আমি ঠিক বকুলের মতো। সোজাসাপ্টা মুখের উপর কথা বলতে উষসী এখন ভয় পায় না। প্রতিবাদ করতে পিছিয়ে যায় না।

 

  • অভিনয় জগতে আসা কী ভাবে?
  • আমি ছোট থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। চেতলা কৃষ্টি সংসদে আমি থিয়েটার করতাম। আর ছোট থেকেই ভাবতাম অভিনেত্রীই হবো।  এর পর যা হয়।  মাধ্যমিকের আগে সব বন্ধ টাইপ একটা ব্যাপার।  ক্লাস টু থেকে এইট পর্যন্ত আমি টানা থিয়েটার করেছি।  এর পর প্রায় সাত বছরের একটা লং গ্যাপ।  তার পর গ্র্যাজুয়েশনের পর ভাবলাম একবার অডিশন দিয়েই দেখি।  যেদিন রবীন্দ্রভারতীতে মাস্টার্সে ভর্তি হই, সেই দিনই ফোন আসে অডিশনের।  এর পর এক ইতিহাসের ইতি।  অন্য ইতিহাসের শুরু।  আর একটা কথা আমার এই পুরো অভিনয় আসার ব্যাপারে আমি ভীষণ ভাবে পাশে পেয়েছি আমার বাবাকে।

 

  • যদি অভিনেত্রী না হতে……
  • এটা না আমায় সবাই জিজ্ঞাসা করে। আসলে আমার না ওই দশটা-পাঁচটার চাকরি কোনোদিনই পোষায় না। আর যদি আমার পড়ার বিষয় ধরে বলি, তাতেও বলবো টিচার আমি কোনওদিন হতাম না। কারণ পড়াতে আমার ভালো লাগে না। তবে হ্যাঁ হয়তো রিসার্চের সুযোগ পেলে করতাম। আর্কিওলজিস্ট হওয়ার একটা বাসনাও ছিল বটে।

 

  • উষসী তো এখন সেলিব্রিটি……রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া, দরদাম করে শপিং করা, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করা-এগুলো এখন আর হয়?
  • হয়। সবগুলোই হয়। কিন্তু কিছুটা আড়ালে।  লোকে যাতে আমায় চিনে না ফেলেন সেদিকে একটু খেয়াল রাখতে হয় আমায়।  আমি কিন্তু ক’দিন আগেও অটোয় চড়লাম।  ফুচকা তো খাইই।  আর যেহেতু স্কুল কমলা গার্লস, কলেজ আশুতোষ, বাড়ি নিউ আলিপুর–তাই গড়িয়াহাটে দরদাম করে শপিং করাটা তো আমার জীবনের অঙ্গ।  তাই সে সবও হয়।  তবে একটু গোপনে।

 

  • “জয় কালী কলকাত্তাওয়ালী”-তে নেগেটিভ চরিত্র করেছো। ভবিষ্যতে আরও ডার্ক শেডে অভিনয় করতে চাও
  • অবশ্যই। ইন ফ্যাক্ট আমি তো মনে করি সব অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরই জীবনে অন্তত একবার ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করা উচিত। নিজেকে ভালোভাবে চেনার জন্য। জানার জন্য।  ভবিষ্যতে ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে আমি নিশ্চয়ই নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করবো।

  • মেগা সিরিয়াল মানেই ভীষণ টাইট শিডিউল। আর তুমি তো সেখানে লিড ক্যারেক্টার।  ক্লান্তি লাগে না?
  • (খানিক হেসে) লাগে গো। ভীষণ ক্লান্তি লাগে। ‘মিলন তিথি’-র সময় তো প্রায় ২০ ঘণ্টা করে কাজ করতাম।  মুড সুইংস হতো।  অকারণে অনেকসময় সেটা চেঁচিয়ে ফেলতাম।  ঠিক মতো খাওয়া-ঘুম কোনোটাই হতো না।  বাড়ির লোকের সঙ্গেও অনেক সময় খারাপ ব্যবহার করে ফেলতাম।  এখন অভ্যাস হয়ে গেছে সবটাই।  আর ‘বকুল কথা’-তে আমার একটা সুবিধাও রয়েছে।  কারণ এই একই টিম ছিল ‘মিলন তিথি’-তে।  আর এখন তো আমার অনেকদিনই আগে প্যাক আপ হয়ে যায়।  মাঝে মাঝে ছুটিও থাকে।  তাই এখন আমি অনেকটাই রিল্যাক্সড।  আর বয়সে ছোট হওয়ায় সেটে আমি সবার ভীষণ আদরের।  কাজের চাপে সে ভাবে তো আমাদের বাড়িতে থাকা হয় না।  তাই শ্যুটিংয়ে যদি আমরা বাড়ির আবহাওয়াটা পাই তাহলে তো ভালোই হয়।  এখানে আমরা সবাই একটা পরিবার।

 

  • বড়পর্দায় আসার কোনও পরিকল্পনা?
  • দেখো এটা তো আমাদের হাতে থাকে না। তবে একটাই কথা বলবো ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে নিশ্চই কাজ করবো। পারলে দিনে ছবির কাজ আর রাতে মেগার কাজ করবো। (এ বার একটা অট্টহাসি)। তবে হ্যাঁ আমি আপাতত অভিনয়টাই করতে চাই।  পরিচালনায় আসার কোনও প্ল্যান আপাতত নেই।  কারণ আমার না অত ধৈর্য্য নেই।  অতক্ষণ ধরে মাথা ঘামাবো-এই ব্যাপারটাই না নেই আমার মধ্যে।  আমি খুব ছটফটে।

 

  • কোনও একটা স্বপ্নের চরিত্র যেটায় অভিনয় করার সুপ্ত বাসনা আছে?
  • সাউন্ড অফ মিউজিকের মারিয়ার চরিত্রটা আমায় ছোট থেকেই ভীষণ ভাবে টানে। তাই এ জীবনে অন্তত একবার মারিয়ার চরিত্রে অভিনয় করতে চাই।

 

  • তোমার সহ অভিনেতা হানি বাফনার সঙ্গে বন্ডিং কেমন?
  • ভীষণ ভালো। হানি ভীষণ ভালো মনের মানুষ। ভক্ত অদ্ভুত মানিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ওর মধ্যে।

 

  • প্রায় আড়াই বছর হতে চললো ইন্ডাস্ট্রিতে আছো। সবচেয়ে কাছের বন্ধু কারা?
  • দেখো একটা প্রবাদ আছে যে, ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারোর বন্ধু হয় না। কিন্তু আমার দু’জন বান্ধবী রয়েছে। একজন সঞ্চারী মণ্ডল।  যে ‘মিলন তিথি’-তে আমার ননদ হয়েছিল।  আর দুই, সীমারেখার টিয়া, মানে অলিভিয়া।

 

  • অহনা না বকুল, কে বেশি কাছের?
  • অহনা তো আমার ডেবিউ। অহনা দিয়েই লোকে আমায় চিনেছে। তাই ‘অহনা’ আমার বড্ডো কাছের। তবে বকুলও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

এর পর একটা র‍্যাপিড ফায়ারের অনুরোধ করতেই উষসী বলে উঠলো “হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই”।

* প্রিয় অভিনেতা: এখানে একটা মজা আছে।  শাহরুখ সলমন দু’জনেই আমার প্রিয়।  আর বাংলায় অনির্বাণ ভট্টাচার্য।

* প্রিয় অভিনেত্রী: কাজল, রানী, দীপিকা, আলিয়া (একেবারে লিস্ট করে দিলাম)।

* বকুল কথা দ্যাখো?: বাড়িতে থাকলে দেখি।

*কোন পরিচালকের সঙ্গে একবার অন্তত কাজ করতে চাও: অনুরাগ কাশ্যপ।

*ডায়েটিং না করা বকুলের পছন্দের খাবার কী: ওয়ান অ্যান্ড অনলি বিরিয়ানি।

*এক সপ্তাহ টানা ছুটি পেলে কোথায় ঘুরতে যাবে: কাশ্মীর।

*তোমার হিডেন ট্যালেন্ট: (প্রচণ্ড হেসে) আমি হেব্বি ভালো নকল করতে পারি।

*বয়ফ্রেন্ড আছে: না গো।  আমি সিঙ্গল।

Leave A Reply