সাবেক কলকাতায় ঝড়ঝাপটা, ইতিহাসে আর গল্পে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রাজীব সাহা

    আবহাওয়া অফিস খবর দিয়েছিল দিনকয়েক আগে। বঙ্গোপসাগরের বুকে ঘনিয়ে উঠেছে নিম্নচাপ। আগামীদিনে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা। কিন্তু অনেকে ভাবছিল, করোনায় জর্জরিত বাংলার ওপরে কি প্রকৃতিদেবী অত নির্দয় হবেন?

    নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ফেলল মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে। দৈত্যের মতো ধেয়ে এল সাগরদ্বীপের দিকে। বুধবার বিকালে শুরু ঝড়ের ল্যান্ডফল। কলকাতারও রেহাই নেই। ঝোড়ো হাওয়া বড় বড় গাছগুলোর মুঠি ধরে ঝাঁকিয়ে দিয়েছে। উপড়ে ফেলেছে অনেক গাছ। বাতিস্তম্ভও বাদ যায়নি। প্রাণহানিরও খবর আসছে। ঘরের ভেতর থেকেই শোনা যাচ্ছে বাতাসের একটানা হা হা শব্দ। যেন বলতে চায়, বড় রকমের কিছু বিপর্যয় না ঘটিয়ে যাব না আমি।

    কলকাতার কাছে এমন ঝড়ের দাপট নতুন নয়। গত তিনশ বছরে অনেকবার হয়েছে। প্রতিবারই আঘাত সয়ে ফের হেসে উঠেছে কল্লোলিনী। ঝড়ের স্মৃতি রয়ে গেছে নানা গল্পে, ইতিহাসে ও কলকাতার নানা জায়গার নামের মধ্যে।

    মহানগরীতে ঝড়ের কথা উঠলেই প্রথমে এক সাহেবের কথা মনে পড়ে। ঝড় নিয়ে খুব মূল্যবান গবেষণা করেছিলেন এই শহরে বসে। কোনও স্বীকৃতি পাননি। মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গী ছিল হতাশা। বড় দুঃখের জীবন তাঁর।

    এক পাগলা সাহেবের কাহিনি

    নাম তাঁর হেনরি পিডিংটন। জন্ম অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি। গরিবের ছেলে। ভাগ্যান্বেষণে এসেছিলেন কলকাতায়। তাঁর মনে ছিল বৈজ্ঞানিক কৌতুহল। প্রথমদিকে বাংলার গাছপালা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তারপরে কলকাতার ওপর দিয়ে বয়ে গেল মারাত্মক সাইক্লোন। সেই দেখে সাহেবের আগ্রহ জাগল ঝড় নিয়ে। বিভিন্ন জাহাজের লগ বুক ঘাঁটাঘাটি শুরু করলেন। কারণ জাহাজ কবে কখন ঝড়ে পড়েছিল সেই খাতায় লেখা থাকে।

    গবেষণা করে সাহেব সাইক্লোন নিয়ে বেশ কিছু পরিমাণে জ্ঞান অর্জন করলেন। ১৮৪৪ সালে প্রকাশিত হল তাঁর বই, ‘দি হর্ন বুক ফর দি ল অব স্টর্মস ফর দি ইন্ডিয়ান অ্যান্ড চায়না সি।’

    হেনরি পিডিংটন

    ১৮৫৭ সালে ভারতের বড়লাট হয়ে এলেন লর্ড ক্যানিং। তিনি ভাবলেন, কলকাতা থেকে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যাবেন। কারণ কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমছে। খুব শীঘ্র বড় বড় জাহাজ আর আসতে পারবে না এতদূরে। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যাবেন সুন্দরবনের কাছে। সাগরের কাছে অন্তত গঙ্গার নাব্যতা নিয়ে সমস্যা নেই।

    সেইমতো একটা জায়গা বাছা হল। বড়লাটের নামে সেই নতুন শহরের নাম হল ক্যানিং। জোর কদমে এগিয়ে চলল নতুন রাজধানী তৈরি করার কাজ। সেকথা শুনতে পেয়েই হাঁ হাঁ করে উঠলেন পিডিংটন। রাজপুরুষদের কাছে গিয়ে বলতে লাগলেন, এই ভুলটি করবেন না। ওই জায়গাটা ঝড়প্রবণ। যে কোনও সময় বঙ্গোপসাগর থেকে আসবে সাইক্লোন। তছনছ করে দিয়ে যাবে বড়লাটের সাধের রাজধানী।

    পিডিংটনের মতো চালচুলোহীন লোকের কথা শুনতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তাদের বয়েই গেছে। তাঁরা খুব ডাঁট দেখিয়ে বললেন, পাগলের কথায় কান দেওয়ার সময় নেই। তখন সিপাহি বিদ্রোহের সময়। ভারত জুড়ে প্রবল উতরোল। তার মধ্যেও পোর্ট ক্যানিং তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে।

    পিডিংটন সাহেব হতাশায় মদ ধরলেন। গবেষণা গোল্লায় গেল। দিনরাত মদে ডুবে থাকতেন।

    ক্যানিং বন্দর তৈরির কাজ শেষ। এবার উদ্বোধন হবে। এমন সময় এল ঝড়। খুব মাঝারি মাপের ঝড়। তাতেই ক্যানিং বন্দরের দফারফা। পিডিংটন সাহেবের কথা ফলল এতদিনে। কিন্তু ততদিনে তিনি দেহরক্ষা করেছেন। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে মৃত্যু।

    লর্ড ক্যানিং

     

    সাহেবের কথা দীর্ঘকাল চাপা পড়েছিল ইতিহাসের পুরানো নথিপত্রে। সেসব ঘেঁটে পিডিংটনের কাহিনি উদ্ধার করেছিলেন বিশিষ্ট লেখক অমিতাভ ঘোষ। তাঁর ‘হাংরি টাইড’ বইতে পাঠকের সঙ্গে সেই পাগলা সাহেবের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

    ঝড়ে মরেছে বাঘ, গণ্ডার, জাহাজের ডেকে ওত পেতে আছে কুমির

    তখনও পলাশীর যুদ্ধ হতে বিশ বছর বাকি। বাংলার নবাব তখন সুজাউদ্দিন মহম্মদ খান। আলিবর্দি খান তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি। ভাগিরথীর পূর্বপাড়ে এখন যে জায়গাটাকে বাগবাজার বলে, তখন সেখানে ছিল সুতানুটি গ্রাম। জব চার্নক ওইখানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যকুঠির পত্তন করেছিলেন ১৬৯০ সালে। ১৭৩৭ সালে সুতানুটি গ্রামের আশপাশে ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জনাকয়েক কর্তার প্রাসাদ। কয়েকজন ধনী বাঙালিও সেখানে নির্মাণ করেছিলেন পাকা বাড়ি, দেবালয়। আর ছিল গুটিকতক খোলার বস্তি। সব মিলিয়ে কলকাতার বাসিন্দা তিন হাজারের বেশি ছিল না।

    সে আর এক কলকাতা। চৌরঙ্গীতে তখন ঘন জঙ্গল। দিনেদুপুরে বাঘ ডাকে। কলকাতার উত্তর সীমান্তে ছিল চিৎপুর রোড। রোড নয়, তখন সে পায়ে চলা রাস্তা। সেই পথ ধরে তীর্থযাত্রীরা যেত কালীঘাটে। পথের উত্তরপ্রান্তে ছিল চিতু ডাকাতের আড্ডা। সে ডাকাতি করার আগে পুজো দিত চিত্তেশ্বরী দেবীর মন্দিরে। এখনও সেই স্মৃতি বহন করছে চিৎপুর রোড।

    দিনটা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। দিনভর টিপটিপ বৃষ্টি। সন্ধে থেকে ঘনিয়ে উঠল প্রলয়। অনেকে বলেন, ঝড়ের সঙ্গে ভূমিকম্পও নাকি হয়েছিল। একালের ইতিহাসবিদরা অবশ্য ভূকম্পের কথা বিশ্বাস করেন না।

    সেই সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুঠির অ্যাডভাইসার ছিলেন স্যার ফ্রান্সিস রাসেল। তিনি ঝড়ের বর্ণনা দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর লেখায় আছে—

    বঙ্গোপসাগর থেকে ঝড় এসেছিল। পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে নদীর জল বেড়ে উঠল ১৫ ইঞ্চি। রাতভর মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল। তার সঙ্গে বজ্রপাত। মিসেস ওয়াস্টেল নামে এক মহিলা তাঁর ছেলেমেয়ে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি যে ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তার দরজা-জানলা জোর শব্দ করে ভেঙে পড়ল। মৃত্যুর আশঙ্কা বুকে নিয়ে সেদিন রাত কাটালাম।

    পরদিন সকালে রাসেল সাহেব দেখলেন আরও ভয়ানক দৃশ্য। প্রায় বিশ হাজার জাহাজ, নৌকা, জেলে ডিঙি, বজরা ডুবে গিয়েছে। অসংখ্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য গৃহপালিত পশু জলে ভেসে যাচ্ছে। গঙ্গায় কয়েকটি মরা বাঘ ও গণ্ডারও ভাসছিল।

    ঝড় থামতে সাহেব ভেবেছিলেন, একটা ভাঙা জাহাজ থেকে মালপত্র উদ্ধার করবেন। এক কুলিকে জাহাজের নীচের ডেকে নামিয়ে দেওয় হল। অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও সে ফিরল না। তারপরে নামল আর একজন। সেও ফিরল না। তখন সাহেবের সন্দেহ হল। একজনকে বললেন, মশাল জ্বেলে দেখ তো কী ব্যাপার। সে আলো নিয়ে উঁকি মেরে দেখে, জাহাজের ডেকে বসে আছে মস্ত বড় কুমির। আগের দু’জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, বুঝতে বাকি রইল না।

    একটি হিসাবে পাওয়া যায়, কলকাতায় ৩ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল। এটা অতিশয়োক্তি। কলকাতা বা তার আশপাশে তখন অত লোক বাস করত না। কিন্তু বহু সংখ্যক মানুষ যে মারা গিয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই।

    সেই ঝড় বদলে দিয়েছিল কলকাতার ভুগোল। আগে গঙ্গা থেকে একটা খাল সোজা চলে গিয়েছিল বিদ্যাধরী নদী অবধি। ওই পথে পণ্য পরিবহণ করা হত। কিন্তু ১৭৩৭-এর ঝড়ে সেই খালে বহু নৌকা ও বজরা ডুবে যায়। সেই জলপথ নৌকা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ স্থির করে খাল বুজিয়ে ফেলা হবে।

    খাল বুজিয়ে তৈরি হল রাস্তা। তার নাম ক্রিক রো। ক্রিক মানে খাল। আজও মধ্য কলকাতায় আছে ক্রিক রো। তার নামের মধ্যে দিয়ে বহন করে চলেছে ১৭৩৭ সালের ঝড়ের স্মৃতি।

    এখন যেখানে সল্টলেক আগে সেখানে ছিল বিস্তীর্ণ জলা। ১৭৩৭ সালে ঝড়ের তেজ এত বেশি ছিল যে, জল থেকে ডিঙি নৌকা উড়ে এসে পড়েছিল ডাঙায়। তখন থেকে জায়গাটার নাম উল্টোডিঙা। এখনকার আলো ঝলমলে উল্টোডিঙা দেখলে সেই দিনটার কথা কল্পনা করা কঠিন।

    ঝড়ের বন্ধু

    আগেকার দিনে কলকাতা এত ঘিঞ্জি ছিল না। অনেক ফাঁকা জায়গা ছিল। গাছপালা, পুকুর, ডোবাও কম ছিল না। তার মধ্যে স্বাভাবিক কারণেই ঝড়ঝাপটার দাপট ছিল বেশি। এখনকার দিনে উঁচু উঁচু বাড়িতে হাওয়া আটকে যায়। ১৮৬৪ সালে কলকাতায় এমন ঝড়ের বর্ণনা আছে আদ্যিকালের এই বইতে।

    ঊনিশ শতকে মজিলপুর নামে জায়গাটা ছিল সুন্দরবনের অন্তর্গত। সেখান থেকে কলকাতায় পড়তে এসেছিলেন এক মেধাবী যুবক। ১৮৬৪ সালের পুজোর সময় তিনি ও কয়েকজন বন্ধু মিলে রওনা হলেন বাড়ির দিকে। সেকালে পথঘাট বেশি ছিল না। নদী-খাল দিয়েই যাতায়াত হত বেশি। সেই যুবকেরাও রওনা হয়েছিলেন জলপথে। কালীঘাট থেকে উঠেছিলেন শালতিতে।

    সেদিন সন্ধ্যা থেকেই ঝড়বৃষ্টি শুরু। দুর্যোগ মাথায় নিয়েই চলল নৌকা। পরদিন ভোরে তাঁরা উপস্থিত হলেন মগরাহাটে। তখন হাওয়ার বেগ ভয়ানক। নৌকা এগোতে চায় না। কোনওরকমে মাঝি এক বাজারের কাছে শালতি বাঁধল। নৌকার যাত্রীরা পরামর্শ করলেন, চাল-ডাল কিনে খিচুড়ি বানিয়ে খাবেন।

    ততক্ষণে হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়েছে। শালতির এক যাত্রী আশ্রয় নিয়েছিলেন দোকানের চালার নীচে। তিনি সদানন্দ পুরুষ। দুর্যোগের মধ্যে হাততালি দিয়ে পরমানন্দে গান গাইছেন, বৃন্দাবন বিলাসিনী রাই আমাদের…। এমন সময় হুড়মুড় করে চাল ভেঙে পড়ল। ধ্বংসস্তূপ ফুঁড়ে উঠে দাঁড়ালেন সেই ব্যক্তি। তখনও মুখের হাসিটি অম্লান।

    ততক্ষণে খিচুড়ি খাওয়া মাথায় উঠেছে। যুবকরা দৌড়চ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ঝড়ে গোটা গ্রাম মাটিতে মিশে গিয়েছে। শুধু একটা বাড়ি অক্ষত। সেখানে আশ্রয় নিতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, গোটা গ্রামের লোক জড়ো হয়েছে। মেয়েরা আছে। বাচ্চারা আছে। যুবকরা ভাবলেন, থাক, দরকার নেই এই বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে। কিন্তু বাড়ির এক বৃদ্ধা আহ্বান জানালেন, বাবা কোথায় যাও, এত লোকের যদি জায়গা হয়, তোমাদেরও হবে।

    ঝড়ের গতি কমল বিকাল চারটে নাগাদ। সন্ধে নাগাদ ফিরলেন বৃদ্ধার ছেলে। তিনি উদারহৃদয় যুবক। ঘরে ছিল একথালা ভাত। কিন্তু সেই যুবক অতিথিদের অভুক্ত রেখে খেতে রাজি নন। অনেক খুঁজে গরিব গৃহস্থের ঘরে মিলল কয়েক মুঠো ভিজে চাল। যুবকদের কাছে ছিল ছোলা। সেই দিয়ে তাঁদের নৈশভোজ হল।

    শিবনাথ শাস্ত্রী

    পরদিন তাঁদের ফেরার পালা। ঝড়ে শালতি ডুবে গিয়েছিল খালে। সেই উদারহৃদয় যুবক মাঝিদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে শালতি তুলে ফেললেন। নিজে মাথায় করে যুবকদের মালপত্র তুলে দিলেন শালতিতে।

    পরবর্তীকালে মেধাবী যুবকটি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তাঁর নাম শিবনাথ শাস্ত্রী। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের বড় নেতা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বিশেষ স্নেহভাজন।

    শিবনাথ শাস্ত্রীর ‘আত্মচরিত’ গ্রন্থে সেদিনের ঝড়ের বর্ণনা আছে। সেই মহৎহৃদয় যুবকটিকে তিনি বলেছেন, ‘ঝড়ের বন্ধু’। তাঁর বইতে আরও একটি মূল্যবান তথ্য আছে। ১৮৩৩ সালের ঝড়ের সময় বাংলা জুড়ে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল ওলাউঠা রোগ। অর্থাৎ কলেরা। এখন যেমন করোনা মহামারীর মধ্যে উমফান এল সেবারও তাই হয়েছিল। মহামারীর মধ্যে সাইক্লোন। কালেভদ্রে এমন হয়। দেশের বুকে নেমে আসে জোড়া দুর্যোগ।

    তথ্যসূত্র :  আত্মচরিত- শিবনাথ শাস্ত্রী, কলিকাতা সেকালের ও একালের – হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রাচীন কলিকাতা—নিশীথরঞ্জন রায়, অশোক উপাধ্যায় সম্পাদিত, হাংরি টাইড—অমিতাভ ঘোষ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More