লকডাউনের পর বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতের হাতে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোভিড -১৯ আটকানোর জন্য দেশ জুড়ে ‘টোটাল লকডাউন’ শুক্রবার পড়ল তৃতীয় দিনে। এর মধ্যে প্রকাশ্যে আসছে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কাহিনি। এখন দেশ জুড়ে গণ পরিবহণ বন্ধ। ফলে বাড়ি ফিরতে পারছেন না তাঁরা। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়। ডাকাতের কবলে পড়েছেন তাঁদের কেউ কেউ। খোয়া গিয়েছে টাকাকড়ি ও দরকারি নথিপত্র।

মুম্বইয়ের কুরলা শহরতলিতে লোকমান্য তিলক টার্মিনাসের কাছে ফুটপাথে বসে আছেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁদের একজনের বাড়ি বিহারে, অপরজনের দিল্লিতে। দু’জনেরই দাবি, ডাকাতরা তাঁদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। এখন সরকার সাহায্য না করলে তাঁরা অসহায়।

তাঁদের মধ্যে একজনের নাম আনসারি। তিনি কাজ করেন কুরিয়ার কোম্পানিতে। তাঁর কথায়, “ডাকাতরা আমার টাকা কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। আমার ব্যাগে ১০-১২ টা বিস্কুট ছিল। ব্যাগটাও কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। আমার কাছে আছে শুধু আধার আর প্যান কার্ড। আমি এখন রাস্তায় থাকছি।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্য জুড়ে কার্ফু ঘোষণা করেন। তারপরে দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর ফলে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে যাওয়া কয়েক হাজার শ্রমিক বিপদে পড়েছেন। তাঁদের কাজকর্ম বন্ধ। থাকা-খাওয়ার জায়গা নেই। গণ পরিবহণ বন্ধ বলে বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না।

আটকে পড়া এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, “আমি দিল্লি যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার টাকার ব্যাগ হারিয়ে গিয়েছে। তাতে তিন হাজার টাকা ছিল, মোবাইল ফোন ছিল, আইডেন্টিটি কার্ড ছিল। আমার এখন কিছুই নেই।”

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর তাণ্ডব দেখাচ্ছে মারণ ভাইরাস। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান বলছে, বৃহস্পতিবার অবধি ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,২৯৩। সংক্রামিত ৩,৩৫,৩৭৬। আশঙ্কাজনক অন্তত ১৪ হাজার। তবে সুস্থও হয়ে উঠেছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজারের কাছাকাছি।

করোনা সন্ত্রাসে বিশ্বে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ গৃহবন্দি। চিনের পরেই করোনা মহামারী ইতালিতে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫০৩। আক্রান্ত ৭৪ হাজারের বেশি। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, একদিনে ৭৯৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড ভেঙেছে দোকান-বাজার, রেস্তোরাঁ-বার, স্কুল-কলেজ গোটা ভ্যাটিকানই স্তব্ধ, জনমানবশূন্য। প্রায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়, মর্গে জমছে লাশের স্তূপ। শেষকৃত্য করার লোক নেই। শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে দেহ পুড়িয়ে ফেলছেন সেনাকর্মীরা।

ইতালির পরেই করোনা মহামারী স্পেনে। সংক্রামিতের সংখ্যা টপকে গেছে চিনকেও। কোভিড-১৯-এর জেরে স্পেনে লকডাউন ১১ দিনে পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি, আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হাজারের উপরে। মৃত ৩,৬৪৭।

জার্মানির অবস্থাও সঙ্কটময়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত ২০৬। জাপানে কিছু দিন আগে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও টোকিয়োর গভর্নর ইউরিকো কোইকে বলেছেন সেখানে নতুন আক্রান্ত ৪৫ জন। সংক্রামিত হাজারের উপরে।

ইরানেও পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২,০৭৭। ভাইরাস আক্রান্ত ২৭ হাজারের বেশি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ইরানের কূটনীতিক ও সিরিয়ায় নিযুক্ত ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হোসেইন শাইখল ইসলাম। এর আগে সংক্রমণে মারা যান মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনির শীর্ষ উপদেষ্টা মহম্মদ মীর মহম্মদী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ইরানি পার্লামেন্টের প্রায় ৮ শতাংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত। ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং পার্লামেন্ট অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

করোনার কোপে রাশিয়ায় পিছিয়ে গেছে ভোট। রাশিয়ায় ১৬৩ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৬৫৮। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের।

করোনা কাঁটায় বিদ্ধ পাকিস্তানও। সংক্রামিতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০০। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ সিন্ধু প্রদেশ। হুহু করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে খাইবার পাখতুনখোয়া, পঞ্জাবেও। সঙ্কটের মুখেও লকডাউনের পথে যেতে রাজি নয় ইমরান খানের সরকার। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক ও অন্তর্দেশীয় উড়ান বন্ধ করা হয়েছে, তবে সামাজিক মেলামেশায় লাগাম পরানো হয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More