বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

পুরোহিতদের ভাতা দেবে রাজ্য, সরকারি সিদ্ধান্ত না হতেই প্রচারে প্রশান্ত কিশোর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের দুঃস্থ ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের ভাতা দিক রাজ্য সরকার, এমনটাই দাবি করেছেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের কাছে এমন দাবি জানানো হবে। অথচ ‘আমার গর্ব মমতা’ ফেসবুক পেজে ইতিমধ্যেই দাবি করা হল, সরকার সত্যিই ভাতা দেবে। বলা হয়েছে– “জনদরদি জননেত্রী মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আরও একটি নতুন পদক্ষেপ, ব্রাহ্মণ এবং পুরোহিতদের মাসিক ভাতা দেবে রাজ্য সরকার।” আর তা ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন।

ঘটনার সূচনা গত ৯ অগস্ট। ওই দিন ধর্মতলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্ট’ একটি সমাবেশ করে। এই সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকায় ওই সভাতেই সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের তরফে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংগঠনের মুখ্য পরামর্শদাতা করা হয়েছে। সেখানেই মন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাহ্মণদের মাসিক ভাতা প্রদানের জন্য যা করতে হয় করব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেব। তাঁদের গৃহ নির্মাণের বিষয়টিও দেখা হবে।” ব্রাহ্মণদের নিয়ে বিজেপির রাজনীতিরও জবাব দেন রাজীব। তিনি বলেন, “যাঁরা রাজনীতির জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছেন, ভগবান রামকে পার্টির এজেন্ট করেছেন, তাঁদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”

ঘটনা এই পর্যন্তই। কিন্তু পরের দিনই, ১০ অগস্ট ‘আশ্বাস’কে ‘সিদ্ধান্ত’ হিসেবে প্রচারের হাতিয়ার করে টিম প্রশান্ত কিশোর। সম্প্রতি ‘দিদিকে বলো’ প্রচার কৌশলের পরে ‘আমার গর্ব মমতা’ নামে আরও একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার শুরু করেছে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের টিম। সেই পাতাতেই লেখা হয়েছে– “ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের মাসিক ভাতা দেবে দিদির সরকার।” এমন ভাবে লেখা হয়েছে যেন, ইতিমধ্যেই মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এখানেই না থেমে সেদিনের সমাবেশে মন্ত্রীর ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে– “মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুরোহিতদের যাতে বাড়িও দেওয়া হয় তা তিনি নিশ্চিত করবেন।”

রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, তৃণমূ‌‌লের এহেন চিন্তাভাবনাই নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচ‌নের ফলাফল থেকেই তৃণমূল শিক্ষা নিয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূ‌ল গতবারের ৩৪ থেকে নেমে এসেছে ২২ আসনে। পাশাপাশি বিজেপি ২ থেকে উঠেছে ১৮-তে। লোকসভা নির্বাচনে এমন ফলের পরে বিজেপি ক্রমেই রাজ্যে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করতে তৎপর। গেরুয়া শিবিরের বহুদিনের অভিযোগ, তৃণমূল তোষণের রাজনীতি করে। ইমাম ভাতা দেওয়া নিয়ে তারা বহু অভিযোগ জানিয়েছে। সেই সব অভিযোগের জবাব হিসেবেই তৃণমূল এবার ব্রাহ্মণ ভাতার কথা ভাবছে। কিন্তু সেই ভাবনাকেই টিম পিকে দাবি করেছে যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।

এদিন এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “কারা কী পোস্ট করেছে জানা নেই তবে, রাজ্য সরকারের কাছে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। সেটা যাতে পূর্ণ হয় তার জন্য আমি যা যা দরকার করব।”

উল্লেখ্য, সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্ট নামের ওই সংগঠনের সদস্য রাজ্যের ১ লক্ষ ৮৩ হাজার পুরোহিত। সংগঠনের তরফ থেকে আগেই ৩৫ হাজার দরিদ্র ব্রাহ্মণের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। দাবি ছিল, এঁদের মাসিক ২,০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার তরফে শ্মশানের ব্রাহ্মণদের ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। আগে ভাতা শুধুমাত্র দেওয়া হত গোরস্থানের মৌলবিদের। এবার থেকে একই ভাবে শ্মাশানের ব্রাহ্মণদেরও ভাতা দেওয়া হবে। দিন প্রতি ৩৯৮ টাকা করে ভাতা পাবেন শ্মশানের সমস্ত পুরোহিত। প্রথম পর্যায়ে মোট ২৭ জন পুরোহিতের প্রত্যেকের হাতে ৯,৫০০ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

আরও পড়ুন

ঘাসফুলের ভরসা প্রশান্ত কিশোর কে, কত টাকা নেন পিকে, জানুন ১০ তথ্য

Comments are closed.