পড়াশোনার ইঁদুরদৌড় শুধু নয়, খোলা মাঠের ঘোড়দৌড়েও মেতে উঠছে স্টেম স্কুলের খুদেরা

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

    পাহাড়-প্রমাণ স্কুলব্যাগ। সমুদ্র-সম সিলেবাস। আকাশ দেখার সময় নেই দিনভর। ঘাড় গুঁজে পড়াশোনা করার চাপে নিত্য পিষে যাচ্ছে শৈশব। কৈশোরের সবুজ মলিন হয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততায়। এখনকার ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই সমস্যা কম-বেশি সমস্ত স্তরেই। পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে, বিভিন্ন স্কুলে আস্তে আস্তে লোপ পাচ্ছে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ়। স্কুলের পরে আলাদা করে সে সব করতে গেলে, আর একটুও খেলার সময় পায় না খুদেরা। খুদেদের ব্যস্ত মা-বাবারও পরিত্রাহি অবস্থা হয়ে ওঠে।

    আর যদিও বা পড়াশোনা ও কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ়ের সবটাই কাছাকাছির মধ্যে চাওয়া হয়, তা হলে থাকতে হবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে। হাতের মুঠোয় মিলবে পড়াশোনা থেকে খেলাধুলোর সমস্ত সুযোগ। কিন্তু সব কিছু যে একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়, আর সম্ভব হলেও তা যে কেবল শহরের প্রাণকেন্দ্রের বাসিন্দারাই পাবেন, সেই ধারণাতেই এবার বদল এনেছে শহরতলির একটি আন্তর্জাতিক স্কুল।

    শহরের উপকণ্ঠে, ব্যারাকপুরের কাছে বিশাল এলাকা নিয়ে স্থাপিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক স্কুল। ইউএসএ অ্যাফিলিয়েটেড এই ‘স্টেম ওয়ার্ল্ড স্কুল’-এ খুদেরা আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনা তো শিখবেই, সেই সঙ্গে শিখবে নাচ-গান-হাতের কাজ। খেলবে ফুটবল, বাস্কেটবল। এমনকী শিখবে ঘোড়ায় চড়ার মতো ‘আউট অফ বক্স’ স্পোর্টসও!

    ব্যারাকপুরে অবস্থিত এই স্কুলের অ্যাডমিন হেড কুণাল দত্ত জানালেন, প্লে-গ্রুপ থেকে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে আইসিএসই বোর্ডের এই স্কুলে। তবে পঠনপাঠনের পদ্ধতি থেকে শুরু করে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ়—সবেতেই স্বাতন্ত্র্যের ছাপ রেখেছে স্টেম। যেমন ধরা যাক, যে কোনও বিষয়ই শেখার ক্ষেত্রে বইয়ের পড়ার থেকে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই কারণেই স্কুলে রয়েছে একাধিক ল্যাবরেটরি। ফিজ়িক্সের জটিল সূত্রই হোক, বা কেমিস্ট্রির রহস্যময় রং পরিবর্তন। বইয়ে পড়ার সঙ্গেই তা হাতে-কলমে নিজেরা মিলিয়ে দেখে নিতে পারে পড়ুয়ারা। ফলে তাদের কাছে সমস্ত তাত্ত্বিক ধারণা অনেক বেশি করে পরিষ্কার হয়।

    শুধু তা-ই নয়, রয়েছে দু’টি স্মার্ট ক্লাসরুম। কুণালবাবু জানালেন, খুব শিগ্গিরিই স্কুলের সমস্ত ক্লাসরুম ‘স্মার্ট’ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। যাতে সমস্ত বিষয়ই অডিও-ভিজ়ুয়ালি শিখতে পারে পড়ুয়ারা। শুধু বইয়ে পড়ার চেয়ে যা অনেক বেশি প্রভাব ফেলে শিশুমনে।

    ছোটবেলা থেকেই প্রতিটি শিশুর সৃজনশীল মনের যেন পূর্ণ বিকাশ ঘটে, সে দিকে বিশেষ নজর রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের। নিচু ক্লাসের ক্লাসরুমগুলিতে ঢুকলেই অবশ্য তা বোঝা যায়। দেওয়াল জুড়ে এঁকেছে খুদেরা, রং করেছে ইচ্ছেমতো। সারা ঘরে সাজিয়ে রেখেছে কচি হাতের নানা রকম কাজ। স্কুল কর্তৃপক্ষ মনে করেন, স্কুলের কাজ শুধু পড়াশোনা শেখানো নয়, এক জন খুদেকে ভাল মানুষ হওয়ার পথে এগিয়ে দেওয়াও। আর এই ভাল মানুষ হওয়ার জন্য সৃজনশীলতা অত্যন্ত জরুরি।

    সেই সঙ্গে জরুরি, খেলাধুলোও। তাই পড়াশোনার পাশাপাশিই নিয়ম করে ক্যারম, টিটি, দাবা খেলে একটু উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা। এ তো গেল ইনডোর গেমস। আউটডোরে রয়েছে ফুটবল, বাস্কেটবল, হর্স রাইডিং। এবং এই খেলাগুলো রীতিমতো রুটিনবদ্ধ ভাবেই রয়েছে স্কুলটাইমে। ফলে নিয়ম মেনে পড়ার মতোই নিয়ম মেনে খেলাধুলোও করে এই স্কুলের পড়ুয়ারা। স্কুলের বাইরে আলাদা করে খেলার বা এক্সট্রা কারিকুলারের সময় না মিললেও তার অভাব থাকে না সে ভাবে।

    আপাতত দমদম থেকে কাঁচরাপাড়া পর্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েরা পড়ছে ব্যারাকপুরের ওয়্যারলেস মোড়ের কাছে অবস্থিত এই স্টেম স্কুলে। কুণালবাবু জানাচ্ছেন, এককালীন ২৭ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরে প্রতি তিন মাসে লাগে পাঁচ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া প্রতি মাসের টিউশন ফিজ় ২০০০ টাকা করে। এর বাইরে আছে স্কুলবাসের ফিজ়, যা দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত।সব মিলিয়ে মাসে হাজার চার-পাঁচ টাকায় পড়াশোনা করা যাবে এই বিশ্বমানের স্কুলে। অনেকেই মনে করছেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরাও পড়তে পারবেন এই স্কুলে। বিশ্বমানের স্কুল মানেই যে আকাশছোঁয়া ফিজ়—এই ধারণাতেও বদল এনেছে স্টেম ওয়ার্ল্ড স্কুল। বর্তমানে স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা ৬২০।

    কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, খুব তাড়াতাড়িই স্কুলের পরিকাঠামো এবং পড়ুয়াসংখ্যা দুই-ই আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথাগত পড়াশোনাকে যতটা সম্ভব গ্রহণযোগ্য করে তোলার এবং পড়াশোনার বাইরেও শিশুদের সর্বতো বিকাশ ঘটানোই লক্ষ্য এই স্কুলের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More