‘গুলি মারার কথা বলা উচিত হয়নি!’ দিল্লি নির্বাচনে ভরাডুবির পরে এই প্রথম মুখ খুললেন অমিত শাহ

এসব মন্তব্যের ফল যে জনমানসে খুব শুভ হয়নি, তা বুঝিয়ে দিয়েছে ভোটের ফলই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তাঁকে কার্যত দেখাই যায়নি। কোনও মন্তব্যও শোনা যায়নি। ভরাডুবি পরাজয়ের পরে যেন ম্লান হয়ে গেছে তাঁর উপস্থিতি। এবার সামনে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেন এই হারের কারণ। বললেন, “নেতাদের ‘গুলি মারো’ মন্তব্য করা উচিত হয়নি।

    একসময়ে গোটা দেশ প্রায় জয় করে ফেলেছিল বিজেপি। কয়েক মাস আগে থেকে সেই জয়রথ থামতে শুরু করে। এবার দিল্লির বিধানসভা ভোটে তো রীতিমতো করুণ দশা হল গেরুয়া শিবিরের। অথচ তার আগে পর্যন্ত আস্ফালন কম ছিল না দলের।

    ভোটের আগে বিজেপি নেতার মুখে গুলি মারার হুমকি শোনা গিয়েছে৷ বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মুখে শোনা গিয়েছে, ‘দেশ কে গদ্দারোঁ কো’… উপস্থিত জনতা চিৎকার করে বলেছে ‘গুলি মারো শালোঁ কো…৷’ আর তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

    গুলি করার কথা প্রকাশ্যে বলতে শোনা গিয়েছে বিজেপির তারকা প্রচারক এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও। বিজেপি সাংসদ পরবেশ বর্মাও বলেন, “শাহিনবাগে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম। তারা আপনাদের ঘরে ঢুকে, আপনাদের বোন এবং মেয়েদের ধর্ষণ করবে, ওদের মেরে ফেলুন, এখনও সময় আছে। আগামীতে মোদিজী এবং অমিত শাহ আপনাদের রক্ষা করতে আসবেন না।”

    আর এক বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র আরও একধাপ এগিয়ে দিল্লি নির্বাচনকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বলে উল্লেখ করনে। অর্থাৎ সরাসরি দাগিয়ে দেন হিন্দু-মুসলিমের লড়াই বলে। এমনকি অমিত শাহ নিজে ভোটপ্রচারে বলেন, এমন ভাবে ভোট দিতে হবে যাতে শাহিনবাগে কারেন্ট লাগে। কিন্তু এসব মন্তব্যের ফল যে জনমানসে খুব শুভ হয়নি, তা বুঝিয়ে দিয়েছে ভোটের ফলই।

    দিল্লিবাসী বিপুল ভোটে আপ-কে জিতিয়ে বার্তা দিয়েছেন, তাঁরা মেরুকরণের বা হিংসার পক্ষে নন। তাঁরা উন্নয়নেরই পক্ষে। ভোটের ফল ঘোষণার পরে বৃহস্পতিবার প্রথম মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ স্বীকার করলেন, ‘গুলি মারো’ মন্তব্য করা উচিত হয়নি৷

    অমিত শাহ আরও বলেন, “এই ধরনের হিংসাত্মক মন্তব্য থেকে বিজেপি নিজেকে দূরত্ব রেখেছে৷ কারণ নেতাদের এই ধরনের মন্তব্যে দলকে ভুগতে হয়েছে৷ দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি ঠিকই, তবে সিএএ-র প্রতিক্রিয়ায় এমন ফল হয়নি। আমাদের মূল্যায়ন ভুল হয়েছে বলেই এমনটা ঘটেছে।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, সিএএ নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকলে তাঁর অফিসে যোগাযোগ করতে।

    নির্বাচনী প্রচারে ২৭০ জন সাংসদ, ৭০ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যের নেতাদের নামিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তার পরেও ৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি সাতটি আসন পেয়েছে৷ আম আদমি পার্টি পেয়েছে ৬৩টি আসন৷ তৃতীয়বারের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

    কিন্তু অমিত শাহ যতই বলুন, এই ধরনের হিংসাত্মক মন্তব্য থেকে বিজেপি দূরত্ব তৈরি করেছে, আদতে কিন্তু তা ঘটেনি। বরং দেখা গেছে, একের পর এক হিংসাত্মক মন্তব্য করে চলা নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি দলে। এমনকি ঘটেছে জামিয়া ও শাহিনবাগে গুলি চালানোর ঘটনাও। সেখানেও বারবার বিজেপি সমর্থকের নাম জড়ালেও, অপরাধ বা দুষ্কৃতীর বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি গেরুয়া শিবির।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More