ঝোপ থেকে মিলল চুঁচুড়ার যুবকের দেহাংশ, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আনা হচ্ছে কলকাতায়

১০ অক্টোবর বিষ্ণুকে অপহরণ করার পরেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবারের লোকজন। তদন্ত শুরু করে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ। পাকড়াও করা হয় বিশালের দুই সঙ্গী কৃষ্ণ মণ্ডল ও রাজকুমার প্রামাণিককে। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে অপহরণের দিনই বিষ্ণুকে খুন করে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়।

৪২৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিষ্ণু মালের দেহাংশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সোমবার রাতে দিল্লি রোডের ধার থেকে উদ্ধার হয় চুঁচুড়ার কামারপাড়ার যুবক বিষ্ণুর দেহাংশ। গত ১০ অক্টোবর তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশাল দাস। সোমবার দশমীর রাতে দিল্লি রোডের ধার থেকে উদ্ধার হয় বিষ্ণুর দুটি হাত ও দুটি পা। তারপরেই আজ বুধবার বিষ্ণুর বাড়িতে যান চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর–সহ অন্য পদস্থ কর্তারা। এমন নির্মম খুনের ঘটনায় জড়িতদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দেন পুলিশকর্তারা।

১০ অক্টোবর বিষ্ণুকে অপহরণ করার পরেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবারের লোকজন। তদন্ত শুরু করে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ। পাকড়াও করা হয় বিশালের দুই সঙ্গী কৃষ্ণ মণ্ডল ও রাজকুমার প্রামাণিককে। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে অপহরণের দিনই বিষ্ণুকে খুন করে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। সোমবার রাতে ধৃতদের নিয়ে গিয়ে দিল্লি রোডের পাশে বৈদ্যবাটি খালের ঝোপ থেকে উদ্ধার হয় যুবকের দেহাংশ।

মঙ্গলবার বিষ্ণুর পরিবারের সদস্যরা শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেহাংশ সনাক্ত করেন। ওই দেহাংশই অপহৃত যুবকের কি না তা নিশ্চিত করতে বুধবার মেডিকেল কলেজে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিশাল এখনও অধরা। তার দুই সঙ্গীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই ওই যুবককে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি বিষ্ণুর প্রেমিকার সঙ্গে  সম্প্রতি সম্পর্কে জড়িয়ে পরে বিশাল। ওই মেয়েটির ফোন থেকে বিষ্ণুকে ফোন করে তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় সে। তারপরেই খুনের ছক কষে।’’ তিনি জানান, শীঘ্রই এই খুনের পুনর্নির্মাণ করা হবে।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, একসময় এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী টোটন বিশ্বাসের ডানহাত ছিল বিশাল। পরে টোটনেরই দাদা তারক খুনে নাম জড়ায় বিশালের। ২০১৮ সালে এই খুনের পর জেল হয় তার। সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে আবার অপরাধমূলক কাজকর্ম শুরু করে সে। একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল বিশালের বিরুদ্ধে। এবার নিরপরাধ যুবককে নৃশংস খুন। তার খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More