সন্তানকে নিয়ে পরের পর হাসপাতালে ঘুরলেন বাবা-মা, আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে অবশেষে ভর্তি, কিন্তু শেষরক্ষা হল না

শ্বাসকষ্টে ছটফট করছে সন্তান, কিন্তু ভর্তি নিচ্ছে না কেউ। শেষমেষ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে আত্মহত্যা করার হুমকি দেন তাঁরা। তারপরে টনক নড়ে ডাক্তারদের। শুক্রবার সারাদিন ঘোরার পর সন্ধে নাগাদ ভর্তি করা হয় ইছাপুরের দম্পতির একমাত্র সন্তানকে। তারপরে অবশ্য আর বিশেষ কিছুই করার ছিল না। শনিবার ভোরে মারা গেলেন ওই তরুণ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিরিয়ে দিল তিন-তিনটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে করতে মারা গেল বছর ১৮র এক তরুণ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়ছিল। আর সহ্য করতে পারেননি বাবা-মা। শেষমেষ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে আত্মহত্যা করার হুমকি দেন তাঁরা। তারপরে টনক নড়ে ডাক্তারদের। শুক্রবার সারাদিন ঘোরার পর বিকেল নাগাদ ভর্তি করা হয় ইছাপুরের দম্পতির একমাত্র সন্তানকে। তারপরে অবশ্য আর বিশেষ কিছুই করার ছিল না। শুক্রবার রাতেই মারা গেল ওই তরুণ।

বৃহস্পতিবার রাতভর শ্বাসকষ্টে ছটফট করেছে ১৮ বছরের তরুণ। শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বাবা-মা কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যান তাকে। সেখানে সুগার পরীক্ষা হয়। ধরা পরে হাই সুগার। আইসিসিইউতে রাখতে হবে কারণ দেখিয়ে বেলঘড়িয়া মিডল্যান্ড নার্সিংহোমে রেফার করে দেন কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালের ডাক্তাররা। ওই তরুণের মা বলেন, ‘‘ভর্তি করাতে গেলে নার্সিংহোম বলে করোনা পরীক্ষা ছাড়া আমরা ভর্তি নিতে পারব না। অ্যাম্বুল্যান্সেই পরে থাকে ও। একটু অক্সিজেনও যদি দিত। ওখানে লালারসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে ৫ মিনিটের মধ্যে একটা হাতে লেখা কাগজে রিপোর্ট দেখান করোনা পজেটিভ। আমাদের হাতে ওই কাগজ দিয়ে বলেন, এটা কোভিড হাসপাতাল নয়। আপনারা অন্য জায়গায় নিয়ে যান। আবার আমরা ছেলেকে নিয়ে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে ফিরে যাই। তখন খুব কষ্ট পাচ্ছে ও।  তবুও ডাক্তাররা দেখল না।  বলল সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সাগর দত্তে নিয়ে গেলে বলে বেড নেই। তখন আমার সন্তান নেতিয়ে পড়ছে। চোখে দেখতে পারছিলাম না ওর কষ্ট।’’

কাকে বলবেন, কার কাছে যাবেন? পাড়ার লোকের পরামর্শে স্বাস্থ্যভবনের হেল্পলাইনে বার দশেক তাঁরা ফোন করেন বলে জানান ওই তরুণের বাবা। সেখান থেকে জানানো হয় কেউ কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন বলে বেলঘড়িয়া হাসপাতাল থেকে জানানো হয়নি তাঁদের। শেষপর্যন্ত উপায় না পেয়ে কলকাতা পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করেন তাঁরা। সেখান থেকে বেলঘড়িয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। বেলঘড়িয়া থানা থেকে বলা হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে।  দুপুর দু’টো নাগাদ পুলিশের পরামর্শে  ছেলেকে নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন ওই দম্পতি। কিন্তু অভিযোগ, সেখানেও ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তারপরেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে মায়ের।

ওয়ার্ডে ঢুকে ছেলেকে বাঁচানোর কাতর আর্তি নিয়ে শুরু করেন চিৎকার। ছেলেকে ভর্তি না নিলে আত্মহত্যার হুমকি দেন। তারপরেই ডাক্তাররা বলেন, তাঁদের ছেলেকে নিয়ে আসতে। অ্যাম্বুল্যান্স থেকে বাবা-মা নামিয়ে আনেন ছেলেকে। ততক্ষণে আর জ্ঞান নেই ১৮ বছরের তরুণের। তাও ভর্তি তো করেছে কলকাতার অন্যতম নামী হাসপাতাল। তাই আশা রেখেছিলেন বাবা মা। হয়তো ডাক্তাররা বাঁচিয়ে দেবেন তাঁদের একমাত্র সন্তানকে।

কিন্তু শনিবার ভোরবেলাই হাসপাতাল থেকে খবর দেওয়া হয় ইছাপুরের বাড়িতে। শুক্রবার রাতেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের ছেলের। আর্তনাদ করছেন বাবা-মা। প্রশ্ন তুলছেন বারো ঘণ্টা ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেরিয়েছেন ছেলেকে নিয়ে। নিয়মের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে একটু অক্সিজেন কি দেওয়া যেত না কোথাও? তাহলে হয়তো বেঁচে যেত তাঁদের তরতাজা ছেলেটা।

কোনও হাসপাতাল থেকে ফেরানো যাবে না কোনও রোগীকে। নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। রোগী ফেরালেই নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা। ছাড় দেওয়া হবে না সরকারি –বেসরকারি কোনও হাসপাতালকেই। শোনানো হয়েছে বারবার। তা কি শুধুই মুখের কথা? মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে হাহাকার করছেন ১৮ বছরের ওই যুবকের বাবা-মা। মুখ্যমন্ত্রীও কি শুধু কথার কথা বলেন? কেন তাঁর কথা শোনেন না কেউ? প্রশ্ন তুলছেন তুলছেন তাঁরা। উত্তর দেওয়ার জন্য অবশ্য কেউ নেই সেখানে।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More