গাছের আম পেড়ে খাওয়ায় জুতোর মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরানোর পরেই অপমানে আত্মঘাতী যুবক

আজ সকালে ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে শাহিনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ এরপরেই গোটা এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷ খবর পেয়ে রতুয়া থানার পুলিশ সাহিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়৷

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: গাছ থেকে আম পেড়েছিল। তাই গলায় জুতোর মালা পরিয়ে যুবককে গ্রামে ঘোরানোর অভিযোগ। অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রতুয়া থানার মাকাইয়া ২ নম্বর কলোনিতে। ওই যুবকের বন্ধুর অভিযোগ, গ্রামের একটি মেয়ের সঙ্গে ওই যুবকের সম্পর্ক মানতে পারেনি মেয়েটির পরিবার। তার জেরেই এই ঘটনা। গাছের আম পেড়ে তাদের হাতে আসলে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল ওই যুবক। পুলিশ জানিয়েছে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। সেদিন সাহিন আখতার (১৮) নামে ওই যুবক রতুয়া থানার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাকাইয়া ২ নম্বর কলোনির বাসিন্দা শামিম আখতারের গাছ থেকে আম পেড়ে খায়। অভিযোগ, ওই রাতেই শামিম লোকজন নিয়ে শাহিনের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক মারধর করে তাকে।  এরপর বুধবার সকালে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরায়। এখানেই শেষ নয়। তাঁকে হুমকি দেয়, আজ বৃহস্পতিবার, মাথা কামিয়ে মুখে চুনকালি ঢেলে গ্রামে ঘোরানো হবে তাঁকে।

    আজ সকালে ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে শাহিনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ এরপরেই গোটা এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ৷ খবর পেয়ে রতুয়া থানার পুলিশ সাহিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়৷

    সাহিনের আত্মীয় মহম্মদ জালালউদ্দিন, হুমায়ুন রেজাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে সাহিন এলাকার বাসিন্দা শামিমের গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়েছিল৷ তারই জেরে রাতেই বাড়িতে এসে তারা সাহিনকে মারধর করে৷ পরদিন জুতোর মালা গলায় পরিয়ে গ্রামে ঘোরায়৷ তারা জানিয়ে দেয়, সাহিনকে মাথা কামিয়ে মুখে চুনকালি লাগিয়ে গ্রামে ঘোরানো হবে৷ গতকাল সন্ধ্যায় শামিমরা এই হুমকি দেয়। আজ সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় সাহিন ৷ এই ঘটনায় সাহিনের বাবা  শামিম আকতার, সাহাবুদ্দিন, সামশেরা বিবি ও সালেমা বিবি নামে চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷

    সাহিনের বাড়ির লোকজন কিংবা আত্মীয়রা কিছু না বললেও তাঁর বন্ধু মহম্মদ সাদিকুল ইসলামের দাবি, ‘‘শামিমের মেয়ের সঙ্গে সাহিনের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। দু’জনের এই সম্পর্ক শামিম মেনে নিতে পারেনি কখনও৷ এর জন্য সাহিনকে এর আগেও হুমকি দিয়েছে তারা৷ শামিমরা বড়লোক বলে সাহিনকে তারা পছন্দ করত না৷ গত পরশু তাদের গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়ে সাহিন শামিমদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়৷ সাহিনের গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয়৷ এরপর আরও বড় অপমানের জন্য তৈরি থাকতে বলে৷ এত অপমান সহ্য করতে না পেরে সাহিন শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়েছে৷ এটা খুন৷ আমরা এর বিচার চাই৷’’

    স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছিল শাহিন। তাঁর প্রতিবেশী কাজী হেলাল বলেন, ‘‘সে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা গ্রামবাসীরা চাই, পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত করুক এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক।’’

    রতুয়া থানার ওসি কুনালকান্তি দাস বলেন, ‘‘আমরা চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ একইসঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে  মৃত যুবকের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক রয়েছে। আসল ঘটনা কী, তদন্তেই তা পরিষ্কার হয় যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More