দিঘার নির্জন বালিয়াড়ি খুঁড়ে উদ্ধার বধূর দেহ, গ্রেফতার স্বামী

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, লকডাউনে কাজকর্ম না থাকায় আর্থিক সংকটে ভুগছিল ওই পরিবারটি। তার জেরে অশান্তির কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।  পাশাপাশি ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: নির্জন বালিয়াড়ির ঝাউ জঙ্গল থেকে বালি খুঁড়ে এক বধূর দেহ উদ্ধার করল দিঘা পুলিশ। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বধূর নয় ও বারো বছরের দুই ছেলে মেয়েকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, লকডাউনে কাজকর্ম না থাকায় আর্থিক সংকটে ভুগছিল ওই পরিবারটি। তার জেরে অশান্তির কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।  পাশাপাশি ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশসূত্রে জানা গেছে, নিউ দিঘার রতনপুরের বাসিন্দা শেখ সাবির পেশায় রিক্সাচালক। সোমবার সকাল থেকে স্ত্রী সাকিনা বিবিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে থানায় মিসিং ডায়েরি করতে যান তিনি। পুলিশ জানায়, আগে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে, না পাওয়া গেলে তবেই এসে ডায়েরি লেখাতে। এরপর ওই যুবক ফিরে যান। এই খবর জানাজানি হতেই প্রতিবেশীরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। নিউ দিঘার সায়েন্স সেন্টার থেকে কিছু দূরে ঝাউ জঙ্গলের ভেতরের দিকে পায়ের ছাপ ধরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে একটা জায়গায় বালির ভিতর থেকে ওড়নার একাংশ বেরিয়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে বালি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে।

    খবর পেয়ে শেখ সাবির এসে তাঁর স্ত্রী সাকিনা বিবির দেহ সনাক্ত করেন। এরপরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেখ সাবিরকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

    নদিয়ার শান্তিপুরে এই যুবকের আদি বাড়ি। বছর ১৩ আগে দিঘায় এসে মৎসজীবীদের ট্রলারের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর দিঘায় থাকতে থাকতেই ওই কাজ ছেড়ে দিয়ে রিক্সা কিনে চালাতে শুরু করেন। প্রেম করে বিয়ে করেন সাকিনাকে। পুলিশ জানিয়েছে, নদিয়াতে প্রথম পক্ষের স্ত্রী রয়েছে। এটা দ্বিতীয় বিয়ে।

    ইদানিং স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি চলছিল বলে জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। তারপরেই দেহ উদ্ধার হয় সাকিনার। শেখ সাকিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যা রহস্যের জট খুলতে ওই দম্পতির নয় ও বারো বছরের দুই সন্তানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More