লকডাউনে আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য লঙ্গরখানা খুললেন কালনার মানুষ

কেউ তুলে দিলেন বার্ধক্য ভাতার টাকা, কেউ ভাঁড়ে জমানো সঞ্চয়, টাকা দিতে না পেরে চালও দিলেন কেউ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো,পূর্ব বর্ধমান: ভিন রাজ্য বা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কাজ করতে এসে আটকে যাওয়া মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন এলাকার মানুষ। স্বেচ্ছাশ্রম আর নিজেদের খরচে চার হাজার মানুষের জন্য লঙ্গরখানা চলছে কালনা মহকুমার সিঙ্গেরকোণে।

    গ্রামের মানুষ নিজেরাই চাঁদা তুলছেন। তাঁরাই চালাচ্ছেন এই লঙ্গর। সঙ্গে আছেন দুই সমাজসেবী প্রণব রায় ও দেবু টুডু। অন্য পরিচয় সরিয়ে রেখে তাঁরাও সামিল জনতার উদ্যোগে। কেউ বার্ধক্য ভাতার টাকা তুলে দিচ্ছেন। কোনও ছাত্রী আবার ভাঁড়ে জমানো সামান্য সঞ্চয় ধরে দিচ্ছেন। টাকা দিতে না পারলেও কেউ বাড়িতে জমিয়ে রাখা চাল দিয়ে সাহায্য করছেন এই মহৎ উদ্যোগে। লকডাউনের জেরে আটকে পড়া ভিনরাজ্য ও ভিনজেলা কয়েক হাজার খেতমজুরের জন্য খাবার জোগাড় হচ্ছে এভাবেই। লঙ্গরখানা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

    প্রতিবছর কালনার দুই নম্বর ব্লকে খেত থেকে আলু ও পেঁয়াজ তুলতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ড থেকে কয়েক হাজার খেতমজুর আসেন। এ বার করোনা রুখতে লকডাউন জারি হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কেউ আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। কাজ নেই। তাই খাবার কীভাবে আসবে তা ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান দিন আনা দিন খাওয়া এই মানুষগুলো। তাঁদের অনেকের সঙ্গেই রয়েছে শিশু সন্তান। তাদের মুখেও বা কী করে ভাত তুলে দেবেন, ভাবনায় পড়ে যান।

    এই মহা সংকটেই এই সব অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন সিঙ্গারকোণ গ্রামের সাধারণ মানুষ। খোলা হল লঙ্গর। সেখানেই কোনও দিন ভাত-ডাল-সবজি, কোনওদিন ভাত-ডাল-পনিরের তরকারি দিয়ে পেট ভরানোর ব্যবস্থা।

    সকাল থেকে রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন মানুষ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার করে তবেই খাবার নেওয়ার পালা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More