রাজ্যপাল চাকরির মেয়াদ ছ’মাস বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু সরেই গেলেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: রাজ্যপাল তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন ছ’মাস। কিন্তু সরেই গেলেন নদিয়ার মোহনপুর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ধরণীধর পাত্র। শুক্রবার রাজ্যপালের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

    আগামী ৯ জুন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে তাঁর চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যপাল তাঁর চাকরির মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি করেন। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই আন্দোলনে নামেন ছাত্র শিক্ষক এবং কর্মচারি সমিতির একাংশ। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসেন ছাত্র শিক্ষক এবং কর্মচারি সমিতি।

    সমিতির সম্পাদক মরণ দে বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে অনৈতিক ভাবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।  সরকারকে অপমানিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। আমাদের আন্দোলন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। উপাচার্য চলে যাচ্ছেন, এটা গণতন্ত্রের জয়।’’

    উপাচার্য ধরণীধর পাত্র বলেন, ‘‘আমি এমনিতেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। আমি আর কাজ করতে চাই না। আমি জানি আমার কোনও দোষ নেই। যেটুকু অফিশিয়াল ডিসিশন নিতে হয় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল এবং অ্যাক্ট স্টাট্যুট অনুযায়ী করেছি। সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারা যায় না। নিজের মনও আর চাইছে না। এখন পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাই।’’

    আগামী ৯ জুন উপাচার্যের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১০ই জুন থেকে পরবর্তী ৬ মাসের জন্য তাঁর কার্যকালের মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২রা জুন থেকে আন্দোলনে নামে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল সমর্থিত ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠন।

    সম্প্রতি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। বেশ কিছুদিন ধরেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদটি  শূন্য ছিল। সোমবার বিকেলে একটি নির্দেশিকা জারি করেন রাজ্যপাল তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড়। তাতে আইনের ধারা উল্লেখ করে তিনি প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ করেন। এরপরেই রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাত চরম জায়গায় পৌঁছয়।

    সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির লোককে বসিয়েছেন রাজ্যপাল। অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ-উপাচার্য হিসেবে কোন ভাবেই মানবে না রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন নবান্ন মনোনীত অধ্যাপক ডঃ আশিস কুমার পানিগ্রাহী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More