ফের কোহিনুর চা বাগানে অশান্তির মেঘ, আগের পরিচালকের বিরুদ্ধে চা বিক্রিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার সাগরমল আগরওয়াল সাংবাদিক সন্মেলন করে বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করে কেশব সিনহাকে চাবাগান চালাতে বলেছিলাম। চুক্তি মতো তৈরি চা পাতার কেজি প্রতি দুই টাকা এবং বিক্রিত কাঁচা পাতার কেজি প্রতি এক টাকা আমাকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাকে কোনও টাকাই দেননি কেশব সিনহা। উল্টে শ্রমিকদের পিএফ, গ্র‍্যাচুইটি সহ বিভিন্ন বকেয়া জমিয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। আর আমি এখন চাবাগান চালাতে শুরু করলে আমাকে হুমকি দিচ্ছে।

৩৩৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: কোহিনুর চা বাগানের চা বাইরে বিক্রিতে বাধা দানের অভিযোগ উঠল। একই সঙ্গে চা বাগানের  মালিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আগের পরিচালকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে চা বলয়ে। আগের পরিচালকের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন চা বাগানের শ্রমিকরা। তাদের দাবি, বর্তমানে এই চা বাগান যেভাবে চলছে সেইভাবেই চলুক। আগের পরিচালককে তাঁরা আর এই বাগানে দেখতে চান না।

কোহিনুর চা বাগানের মালিক সাগরমল আগরওয়াল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোহিনুর চা বাগান পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন কেশব সিনহাকে। পাঁচ বছরের জন্য কেশন সিনহাকে লিখিত চুক্তিতে বাগান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই বছর পুজোর আগে ১১ অক্টোবর এই চাবাগানে প্রি লক আউট ঘোষণা করে কেশব সিনহার কোম্পানি। আর তারপরে সাগরমল আগরওয়াল নিজে চাবাগান চালাতে শুরু করেন। ১৮ শতাংশ হারে পুজোর বোনাস পান শ্রমিকরা। শতাব্দী প্রাচীন এই  চাবাগানের উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে বলেও দাবি করেছেন সাগরমল।

বৃহস্পতিবার সাগরমল আগরওয়াল সাংবাদিক সন্মেলন করে বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করে কেশব সিনহাকে চাবাগান চালাতে বলেছিলাম। চুক্তি মতো তৈরি চা পাতার কেজি প্রতি দুই টাকা এবং বিক্রিত কাঁচা পাতার কেজি প্রতি এক টাকা আমাকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাকে কোনও টাকাই দেননি কেশব সিনহা। উল্টে শ্রমিকদের পিএফ, গ্র‍্যাচুইটি সহ বিভিন্ন বকেয়া জমিয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। আর আমি এখন চাবাগান চালাতে শুরু করলে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। শিলিগুড়িতে আমাদের থেকে যাঁরা চা পাতা কিনছেন তাঁদের হুমকি দিয়ে চা পাতা কিনতে বারণ করছেন। আমরা সব ঘটনা থানায় জানিয়েছি। এই অবস্থায় এতজন শ্রমিকের ভবিষ্যত নিয়ে আমি দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।’’

শতাব্দী প্রাচীন কোহিনুর চা বাগান এক সময়ের নাম করা চা বাগান। এই চাবাগানের শ্রমিকদের বরাবরই দুধে ভাতে থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছরে এই চা বাগানের শ্রমিকদের দুরবস্থার অন্ত নেই। সম্প্রতি পরিস্থিতি ভালো হতেই ফের জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই চাবাগানের শ্রমিক নেতা কামিনী রায় বলেন, ‘‘কেশব সিনহা এই চা বাগানকে লুঠ করেছে। এই চা বাগানে চা গাছের উন্নয়নে একটি পয়সাও খরচ করে নি। গত বছর মাত্র নয় দশমিক পাঁচ শতাংশ বোনাস দিয়েছিল। এই বছর মাত্র সাড়ে দশ শতাংশ বোনাস দিতে চেয়েছিল। তার আগেই প্রি লকআউট ঘোষণা করে চা বাগান ছেড়ে পালিয়েছে। আর এখন চা বাগান ভালোভাবে চলতে থাকায় সমস্যার সৃষ্টি করছে। কেশব সিনহাকে আর এই চা বাগানে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’’

জানা গিয়েছে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা উঠছে এই চা বাগান থেকে। চা বাগানের কিছু মেশিন চুরিরও অভিযোগ উঠেছে। কেশব সিনহা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘লিখিত চুক্তির মাধ্যমে আমি পাঁচ বছরের জন্য চা বাগান চালানোর শর্ত নিয়েছি। এছাড়া আমি কোহিনুর টি কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ার কিনে নিয়েছি। আমিই এই চা বাগানের মালিক। এক শ্রেণির কাঁচা চা পাতার দালাল বেআইনিভাবে চা বাগানের দখল নিয়েছে। আমি বিষয়টি থানাতে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’’

এই টানাপড়েনে ফের আতঙ্কের আবহ শ্রমিকমহলে। তাঁরা চাইছেন দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক। শান্তি ফিরুক তাঁদের কাজের পরিধিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More