বিজেপির ডাকা বনধ ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত বাগনান, মৃতের বাড়িতে ঢুকতে বাধা সৌমিত্র খাঁকে

দলের কর্মী কিঙ্কর মাঝির (৪২) মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বাগনান বনধের ডাক দেয় বিজেপি। বাগনান এলাকায় বিজেপির শক্তিপ্রমূখ ছিলেন কিঙ্কর।

৪০৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধ ঘিরে সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলছে বাগনানে। দোকানপাট খোলা নিয়ে তৃণমূল–বিজেপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অশান্তি রুখতে র‍্যাফ ও কমব্যাট ফোর্সের টহলদারি চলছে। দলের কর্মী কিঙ্কর মাঝির (৪২) মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বাগনান বনধের ডাক দেয় বিজেপি।

বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশ জোর করে দোকান খোলায় বলে বিজেপির অভিযোগ। তবে বাগনানের বহু জায়গায় বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। সকালে এলাকায় শান্তিমিছিল করার জন্য জমায়েত হচ্ছিলেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। পুলিশ গিয়ে তাদের হটিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা রয়েছে গোটা বাগনান জুড়ে।

এরই মধ্যে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। এরপরেই বাগনান থানায় চড়াও হন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। থানার গেটের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। থানায় ঢোকারও চেষ্টা হয় বলে আভিযোগ। বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরপর পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন সাংসদ। পরে জসনাপাড়ায় মৃতের বাড়িতেও যান তিনি।  কথা বলেন কিঙ্করের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। সৌমিত্রবাবু বলেন, ‘‘যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বিজেপির সমর্থক। আমি পুলিশকে বলেছি এদের ছেড়ে দিতে। যদি না ছাড়া হয় তাহলে গোটা হাওড়া জুড়ে বনধ ডাকব আমরা।’’

বাগনান এলাকায় বিজেপির শক্তিপ্রমূখ ছিলেন কিঙ্কর। তাঁর বাড়ির লোকের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপি করা যাবে না বলে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা হুমকি দিচ্ছিল কিঙ্করকে। এরপর অষ্টমীর দিন হাওড়া থেকে ফুল বিক্রি করে ফেরার সময় বাগনানে তাঁর বাড়ির একদম কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। পেটে গুলি লাগে তাঁর।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখানকার ডাক্তাররা তাঁকে কলকাতায় রেফার করেন। কলকাতায় এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই বিজেপি কর্মীকে। পেটে অস্ত্রোপচারও করা হয়। কিন্তু সারিয়ে তোলা যায়নি। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ  মারা যান তিনি।

তাঁর মৃত্যুর খবর আসতেই উত্তাল হয়ে ওঠে বাগনান। শুরু হয় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দফায় দফায় জাতীয় সড়ক অবরোধ। স্থানীয় তৃণমূল নেতা নন্দ মাঝির বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাগনান থেকে বেনাপোল যাওয়ার রাস্তায় শুরু হয় অবরোধ। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলে দেয়। তারপরেই অবরোধ শুরু হয় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায়। বাগনান থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। দলীয় কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টা বাগনান বনধের ডাক দেয় বিজেপি। যদিও এই মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করে তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, জমি বিবাদের জেরেই এই ঘটনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More