উমফানের তাণ্ডবে সন্দেশখালি-হিঙ্গলগঞ্জে শেষ বিঘের বিঘে জমির কলাচাষ, রাতে ঘুম নেই জগদীশ-রবিউলদের

বিঘের পর বিঘে জমির কলাগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছেন বসিরহাট মহকুমার-হাড়োয়া-মিনাখাঁ- সন্দেশখালি-বাদুড়িয়া-স্বরূপনগর-হিঙ্গলগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কলাচাষিরা। হাড়োয়া ব্লকের বিডিও দীপঙ্কর দাস বলেন,‘‘চাষিরা বিরাট ক্ষতির মুখে। তবুও তাঁদের বলব, একটু ধৈর্য ধরতে। সবাই যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তারজন্য সরকার নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে। এর সুফল মিলবেই।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: ৪৩ হাজার টাকা কৃষিঋণ নিয়েছিলেন জগদীশ প্রামাণিক। দু’বিঘা জমিতে কলা চাষের জন্য। সিঙ্গাপুরি কলা। পাক ধরলেই বিক্রি হয়ে যাবে মহাজনের কাছে। তারপর সেই কলা চলে যাবে কলকাতা-সহ দেশের আরও নানা প্রান্তে। বিনিময়ে ঘরে আসবে অর্থ। শোধ হবে ঋণ। সচল থাকবে সংসারের চাকাটাও।

    এভাবেই চলে এসেছে এতকাল। জলজঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবনের মানুষ তিনি। তাই ঝড়ঝঞ্ঝা, আপদ-বিপদ যে কখনই আসেনি, তেমনটা নয়। কিন্তু উমফান যেন ছাপিয়ে গেল সবকিছুকে। ঝড়ের তাণ্ডবে দু’বিঘা জমির কলা চাষ পুরোটাই শেষ। দুর্যোগের পর কেটে গেছে এক সপ্তাহ। এখন শিকড় থেকে উপড়ে আসা কলাগাছগুলিকে সরিয়ে সরিয়ে হারিয়ে যাওয়া সুখের চাবি খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রৌঢ় জগদীশ। ঝড়ের তাণ্ডবের পর থেকে ঘুম উড়ে গেছে তাঁর। কৃষিঋণ রয়েছে। মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণও রয়েছে। অথচ তা শোধ করার উপায় নেই।

    তিনি একা নন, বিঘের পর বিঘে জমির কলাগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছেন বসিরহাট মহকুমার-হাড়োয়া-মিনাখাঁ- সন্দেশখালি-বাদুড়িয়া-স্বরূপনগর-হিঙ্গলগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কলাচাষিরা। আমফানের পর কেটে গেছে দশদিন। ঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে পড়া গাছ নষ্ট হতে শুরু করেছে নোনা জলে। শুকিয়ে যাচ্ছে পাতা। পচন ধরেছে গাছে। হাড়োয়ার সালিপুর গ্রামের কলাচাষি রবিউল মোল্লা বলেন, ‘‘অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে বাজারে। ঋণ করেই কলাচাষ করেছিলাম। ঝড় বৃষ্টির পরে যখন রোদ উঠেছে, তখন থেকেই গাছের গোড়ায় পচন ধরা শুরু। ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, সংসার চালাতে ঘাম ছুটবে এবার। কোথায় কার কাছে হাত পাতবো, জানি না।’’ হিঙ্গলগঞ্জের জগদীশ প্রামাণিকের মতো হতাশা গ্রাস করেছে রবিউলকেও।

    এ দিকে জগদীশ বলছেন, ‘‘আমি জানি ন‌া এই দুর্দিনে সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে কি না। যা জমি, পুরোটায় কলা চাষ করেছিলাম। পুরোটাই তো জলে গেল। এখন খাবই বা কী, আর শুধবোই বা কী? জানি না আর কোনওদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবো কি না?’’

    হাড়োয়া ব্লকের বিডিও দীপঙ্কর দাস বলেন, ‘‘উমফানের তাণ্ডবে এই বিস্তীর্ণ এলাকার কলাচাষের ক্ষতি হয়েছে। পেঁপে-আম-লিচু-সহ অন্য ফল গাছেরও ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি। উদ্যানপালন বিভাগকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। চাষিরা বিরাট ক্ষতির মুখে। তবুও তাঁদের বলব, একটু ধৈর্য ধরতে। সবাই যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তারজন্য সরকার নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে। এর সুফল মিলবেই।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More