করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ, তবু গ্রামের মানুষের বাধায় শ্মশানে ঠাঁই দুই পরিযায়ী শ্রমিকের

অভিযোগ, গ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িতে থাকতে বাধা দেন। এমনকী গ্রামের ভিতর স্কুলঘরে বা ক্লাবে থাকতেও বাধা দেন। শেষমেশ দুই যুবক গ্রামের এক প্রান্তে শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বাসিন্দাদের বাধায় গ্রামে ঢুকতে পারল না দুই পরিযায়ী শ্রমিক। গ্রামের শ্মশানে এখন ঠাঁই নিয়েছেন তাঁরা। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে।

    আউশগ্রামের বাহাদুরপুর গ্রামের দুই বাসিন্দা সপ্তাহখানেক আগে মহারাষ্ট্র থেকে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে বর্ধমানে ফেরেন। তারপর থেকে তাঁরা কৃষি খামারের সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ছিলেন। লালারসের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর শনিবার তাঁরা গ্রামে ফিরতেই বিপত্তি ঘটে। অভিযোগ, গ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িতে থাকতে বাধা দেন। এমনকী গ্রামের ভিতর স্কুলঘরে বা ক্লাবে থাকতেও বাধা দেন। শেষমেশ দুই যুবক গ্রামের এক প্রান্তে শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা বলেন ‘‘সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে প্রচুর মানুষের ভিড়। বহু মানুষ এক জায়গায় আছে। তাই আমরা ওখানে ফেরত না গিয়ে সোজা গ্রামের শ্মশানে চলে এসে এই ঘরে রাত কাটাতে শুরু করেছি।

    এঁদের মধ্যে এক যুবক বলেন, ‘‘বর্ধমানের কৃষিখামারে কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় আমাদের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আমাদের সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রামবাসীদের দেখানো সত্ত্বেও গ্রামের মানুষজন নাছোড়বান্দা। কোনও ভাবেই আমাদের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাই বাধ্য হয়েই আমরা শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছি।’’

    ১৪ দিন তাঁরা সেখানেই থাকবেন বলে জানান ওই দু’জন। সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রয়েছে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে। কিন্তু সেখানে অনেক পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সংক্রমিত হতে পারেন এই আতঙ্কেই সেখানে যেতে তাঁরা রাজি নন বলে জানান।

    এই বিষয়ে জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার পরেই বিডিওকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে। দুই পরিযায়ী শ্রমিককেই শ্মশানের ওই ঘর থেকে সরকারি কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।’’

    পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতেই জেলায় জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে করোনার। এর ব্যতিক্রম নয় বর্ধমানও। তাই পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘিরে আতঙ্ক বাড়ছে জেলাবাসীর। এই ঘটনা তারই প্রতিফলন বলেই মনে করে জেলা প্রশাসন। এই ক্ষেত্রে দুই শ্রমিকের লালারসের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও তাঁদের গ্রামে থাকতে বাধা দেন বাসিন্দারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More