উদ্ধার তির ধনুক ও তারকাঁটা লাগানো বাঁশ, তারপরেই তৃণমূল-বিজেপি টানাপড়েনে উত্তপ্ত কোচবিহারের বক্সিরহাট

অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম। অনেকেই আশঙ্কা করছেন আপাতত পুলিশ এসে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গেলেও রাতের দিকে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে এলাকায়। বক্সিরহাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সতর্ক আছেন তাঁরা। কোনও গোলমাল যাতে না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    তপোলব্ধ পালিত, কোচবিহার: সন্ত্রাস ছড়াতে এলাকায় তির ধনুক ও তারকাঁটা লাগানো বাঁশ মজুতের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীদের তৎপর হয়ে সেই সব অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে বিরোধীদের দাবি। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হল অসম-বাংলা সীমান্তের বক্সিরহাটের শালবাড়ি এলাকায়।

    গালোয়ানে চিনা ফৌজ লাঠিতে পেরেক লাগিয়ে নিয়ে এসেছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সে খবর দেখেছে গোটা ভারত। একরকম সেই কায়দায় বাঁশের মধ্যে তারকাটা লাগিয়ে মারপিটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আর সেই অভিযোগে শনিবার তোলপাড় হল তুফানগঞ্জ বক্সিরহাটের শালবাড়ি এলাকা।  তৃণমূলের মিছিলের আগে এলাকা থেকে বেশ কিছু তির ধনুক ও তারকাঁটা লাগানো বাঁশ উদ্ধার হতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় অসম- বাংলা সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম বক্সিরহাটের শালবাড়িতে। দলে দলে মানুষরা এসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে। বিরোধীদের দাবি, মিছিল থেকেই গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় হামলার ছক কষেছিল শাসক দল । গ্রামবাসীদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে আসে বক্সিরহাট থানার পুলিশ । তারাই তারকাঁটা লাগানো বাঁশ ও তির ধনুক বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় ।

    বিজেপির নেতা উৎপল দাস বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। এর আগে বক্সিরহাটের  রামপুর, ফলিমারি, মহিষকুচি এলাকাতেও ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়েছে তারা। শনিবার একই ভাবে মিছিল থেকে সন্ত্রাস চালাতে চাইছিল। আর সে কারণেই অস্ত্র মজুত করছিল এলাকায়। এলাকার মানুষ অস্ত্রগুলি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।’’

    বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমূলের নেতা তথা এলাকার গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান জ্যোতিষ বর্মা। জ্যোতিষবাবুর পাল্টা অভিযোগ, অস্ত্র মজুত করছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘আজ ২১ শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা ছিল ওই এলাকায়। সেই সভায় যাতে তৃণমূলের লোকেরা যেতে না পারে তার জন্যই বিজেপির পক্ষ থেকে রায়ডাক নদীর নীচে তীর, ধনুক, বল্লম মজুত করা হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে হামলা হতে পারত।’’

    অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম। অনেকেই আশঙ্কা করছেন আপাতত পুলিশ এসে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গেলেও রাতের দিকে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে এলাকায়। বক্সিরহাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সতর্ক আছেন তাঁরা। কোনও গোলমাল যাতে না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More