দলেরই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে ধান কেনাবেচা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর

যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যদুপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সেই প্রধান সাজ্জাদ আলি ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামবাসীদের জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খোলানোর উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু ধান কেনাবেচা নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। প্রশাসন তদন্ত করলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: মালদহে ধান কেনাবেচা নিয়ে বড় অঙ্কের দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। তাঁর নিজেরই দলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, এক চালকল মালিক ও কয়েকটি ব্যাঙ্ক এই ঘটনায় জড়িত বলে কৃষ্ণেন্দুবাবুর অভিযোগ।

    সোমবার দুপুরে কালিতলা এলাকায় দলের অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু। সেখানেই ধান কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি বলেন,‘‘এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন যদুপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, কয়েকটি ব্যাঙ্কের আধিকারিক এবং এক চালকল মালিক। এই বিষয়ে যদুপুরের চারজন গ্রামবাসী ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী এই চারজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। অথচ এঁরা কেউই ধান বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত নয়। তাদের অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার টাকা জমা পড়েছে , এবং সেই টাকা তোলা হয়েছে।’’

    এই চার অভিযোগকারীকে পাশে বসিয়েই এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার প্রসেনজিৎ দাস। কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর অভিযোগ, যদুপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাজ্জাদ আলির উদ্যোগে একটি সরকারি এবং দু’টি বেসরকারি ব্যাঙ্কে যদুপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষের  জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। কিন্তু কাউকেই পাশ বই, চেক বই এবং এটিএম কার্ড দেওয়া হয়নি। এমনকি ওইসব উপভোক্তাদের  কয়েকজনের মোবাইল নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কারচুপি করা হয়েছে।

    এমনই এক উপভোক্তা জান্নাতুল বিবি জানান, তিনি জানতে পারেন তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দু’দফায় প্রথমে ৫ হাজার টাকা এবং পরে ৮১ হাজার টাকা জমা পড়েছে। কিন্তু ব্যাঙ্কে সেই টাকার খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকাগুলি তুলে নেওয়া হয়েছে।

    যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যদুপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সেই প্রধান সাজ্জাদ আলি ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামবাসীদের জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খোলানোর উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু ধান কেনাবেচা নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। প্রশাসন তদন্ত করলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। ধান কেনাবেচা নিয়ে কোনওরকম দুর্নীতি হয়েছে কি না তা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়।’’

    জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More